বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ০৬ নভেম্বর, ২০১৭, ১২:৪০:৫৬

একসঙ্গে দুই ভাই পুলিশ ক্যাডার

একসঙ্গে দুই ভাই পুলিশ ক্যাডার

ঢাকা: বিরল কৃতিত্ব দেখালেন জামালপুরের সরিষাবাড়ীর দুই ভাই। একসঙ্গে তারা পুলিশ কর্মকর্তা হয়েছেন। এবার ৩৬তম বিএসএস পুলিশ ক্যাডারে উত্তীর্ণ হওয়া দুই ভাই হলেন সরিষাবাড়ী উপজেলার স্থল গ্রামের আফসান-আল-আলম আরিফ ও আল-ইমরানুল আলম রাব্বী। তিন বছরের ছোট বড় এ দুই ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
তারা জামালপুরের বাটিকামারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। বড় ভাই আফসান ২০০৪ সালে ও ছোট ভাই ইমরান ২০০৭ সালে এ স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করেন। তবে তাদের কলেজ ছিল ভিন্ন।
আফসান ২০০৬ সালে এইসএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন। এদিকে ইমরানও ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে ২০০৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাবিতে অ্যাকাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগে ভর্তি হন। দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও কাকতালীয়ভাবে তাদের একসঙ্গে একরুমে সিট হয়ে যায় কবি জসিম উদ্দিন হলে।
সহযোগিতার ভিত্তিতে চলতে থাকে তাদের লেখাপড়া। মনের গভীরে বুনতে থাকেন অভিন্ন স্বপ্ন। তিন ছেলের গৃহিণী মা ফরিদা ইয়াসমিন ও মুক্তিযোদ্ধা পিতা  মোঃ আব্দুর রশীদ  সন্তানদের নিয়ে এমন কিছু স্বপ্ন দেখতেন যে, লেখাপড়া করে তারা গ্রাম ও দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবেন। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীন দেশের সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে কাজ করে যাবেন। এ জন্য বাবা সেনাবাহিনীর সাবেক এ কর্মকর্তা তার সন্তানদের সব সময় সমর্থন ও উৎসাহ জুগিয়েছেন। সেই লক্ষ্যকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য স্থির করে আফসান স্নাতকোত্তর পাস করে কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে চাকরি শুরু করেন। তবে এ পেশায় পিতা-মাতার সুনির্দিষ্ট স্বপ্ন পূরণে তেমন সামঞ্জস্য না হওয়ায় চাকরি ছেড়ে দিয়ে ৩৪তম বিসিএসে সাব রেজিস্ট্রার পদে যোগ দেন। এরপর ৩৬তম বিসিএসে দুই ভাই-ই পুলিশ ক্যাডারকে প্রথম চয়েজ দিয়ে আবেদন করেন। তবে ইমরানের জন্য ছিল প্রথম আর আফসানের ছিল তৃতীয় বিসিএস। তারপর শুরু হয়ে যায় দুই ভাইয়ের স্বপ্ন জয়ের লড়াই। গ্রুপিং ও টিম ওয়ার্কিং, কখনো বা লাইব্রেরিতে অবিরাম পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে বিসিএস পরীক্ষা যুদ্ধের প্রস্তুতি। প্রস্তুতির সর্বশেষে ৩৬তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডার প্রাপ্ত হন দুই ভাই। স্বপ্নজয়ী আফসান-আল-আলম আরিফ বলেন, আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। তাই পুলিশ বাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধার চেতনায় গড়ে তুলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে চাই।
এদিকে আল-ইমরানুল আলম রাব্বী তার সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের ব্যাচের ৬ জন ঘনিষ্ঠ সহপাঠীকে নিয়ে একটি টিম গঠন করি। হতাশাকে পেছনে ফেলে ধৈর্যসহ সর্বাত্মকভাবে পরিশ্রম শুরু করি। এতে করে আমরা এ টিমের সবাই ক্যাডার প্রাপ্ত হয়েছি। পিতা-মাতার স্বপ্নজয়ী ইমরান বলেন, ক্যাডার প্রাপ্ত হয়েছি এটা বড় কথা নয়। কথা হলো আমরা দুই ভাই একই ক্যাডার পেয়েছি। এতে সবার দোয়া, দুই ভাইয়ের মধ্যে কমিটমেন্ট ও বন্ধুদের সহযোগিতামূলক মনোভাবের দরুন এসব সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশে যোগ দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই ভাই।

 

আজকের প্রশ্ন

শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। জাতির জন্য এমন পরামর্শ ভয়ানক নয় কি?