শনিবার, ২৩ জুন ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ, ২০১৮, ১১:০৭:২০

শুনানীর তিনমাস আগে মামলায় ডিক্রী জারি,পেশকার হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

শুনানীর তিনমাস আগে মামলায় ডিক্রী জারি,পেশকার হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আদালতের কার্যতালিকায় হালসালের১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা শুনানীর উল্লেখ করে গতবছর ২৯ নভেম্বর একই মামলায় ডিক্রী দেখানো হলে সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের পেশকার আব্দুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।১২ মার্চ বি আই ডব্লিউ টি এর পরিবহণ লস্কর মোঃ সোহেল বরিশালের জেলা ও দায়রাজজ বরাবর এ অভিযোগ দাখিল করেন।অভিযোগে তিনি বলেন,তার স্ত্রী, শালী ও শাশুড়ি ২৪৩/১৩ নং দেওয়ানী মামলার বিবাদী।তিনি তাদের পক্ষে মামলায় তদবীর করেন।তদবীরের খাতিরে সোহেল ৫ মাস আগে পেশকার আব্দুল হকের কাছে মামলার তারিখ জানতে যান।২০০ টাকা নিয়ে মামলার নথি পাওয়া যাচ্ছেনা বলে জানায়।নথি পেলে তারিখ জানানো হবে বলে তাকে পরে যেতে বলে।এভাবে সোহেল দীর্ঘদিন ধরে হকের কাছে গিয়ে ২শ থেকে ৩শ করে টাকা দিয়েও তারিখ জানতে পারেনি।সেরেস্তাদার নজির আহম্মেদ ও পেশকার আব্দুল হকের কাছে গিয়ে চরকার মত ঘুরেও তিনি নথি পাননি।নথির বিষয়ে পেশকার সেরেস্তাদারের একজনের ব্যাপারে অন্যজনের নাম জানা ছাড়া কোন ফল পাননি।গত ১৪ ফেব্রুয়ারি হক তাকে জানায় তাদের মামলার তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা শুনানীর জন্য রয়েছে।সোহেল বর্ননা নিয়ে আসার পরেও একতরফা শুনানীর বিষয়ে জানতে চাইলে হক তাকে একতরফা উত্তোলনের পরামর্শ দেন।১৫ ফেব্রুয়ারি সোহেলের এডভোকেট একতরফা উত্তোলনের আবেদন বর্ণনা দিয়ে আদালতে শুনানি করেন।ওইদিন বিকেলে কার্যতালিকায় তার মামলার খবর পাননি। ২৫ ফেব্রুয়ারি কার্যতালিকায় তিনি দেখতে পান মামলা পুনরায় একতরফা শুনানীর জন্য ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধার্য্য করা হয়েছে।২৬ ফেব্রুয়ারি সোহেল আদালতে গিয়ে তার মামলা বিবরণ কার্যতালিকায় দেখতে পাননি।২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩ টায় তিনি কার্যতালিকায় কাটা ছেড়া দেখতে পান এবং গত বছর ২৯ নভেম্বর একতরফা সূত্রে মামলায় ডিক্রী জারি লেখা দেখতে পান।পুরোনো তারিখ খুজতে গিয়ে দেখেন ২১ নভেম্বর তারিখে ২৯ নভেম্বর রায়ের কথা উল্লেখ নেই ১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা শুনানীর কথা লেখা।সোহেল কার্যতালিকার ছবি মোবাইলে ধারণ করে নেয়।তিনি নকলের আবেদন করেও নকল পাননি।নথি পাওয়া যায়না বলে তাকে জানানো হয় যাতে তিনি আপীল করতে না পারে।সোহেল খোজ নিয়ে জানতে পারেন,পেশকার আব্দুল হক বাদীর নিকট থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে নথি দেরাজে গুঁজে রেখে নথি না পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে মামলায় একতরফা ডিক্রী করিয়ে দেয়।আব্দুল হক এভাবে আরো অনেক মামলায় বে আইনী কারুকার্য চালিয়ে পক্ষকে ডিক্রি করাইয়া দিয়েছেন বলে সোহেল জানতে পারেন।তিনি তদন্ত সাপেক্ষে আব্দুল হকের শাস্থি দাবী করে এ অভিযোগ দেন।অভিযোগের অনুলিপি প্রধান বিচারপতি, আইনমন্ত্রী, বরিশালের সিনিয়র সহকারী জজ হাদিউজ্জামান,১ম ও ২য় অতিরিক্ত জেলাজজ,১ম যুগ্ম জেলা জজ এবং বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বরাবর পাঠানো হয় বলে অভিযোগ পত্রে দেখা যায়।অভিযোগের বিষয় পেশকার আব্দুল হক বলেন,আমি নথির বিষয় কিছু জানিনা।কে বা কারা অভিযোগ করেছে তাও জানিনা। অপরদিকে বিচারকরা মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দেননা বলে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।এ ব্যাপারে জেলাজজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন,অভিযোগ পত্র হাতে পাইনি।তবে এধরনের কিছু হয়েছে বলে শুনা গেছে।জেলাজজ স্যারের কাছে আবেদন পৌছলে তিনি অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবেন।

আজকের প্রশ্ন

খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটকে ‘প্রহসন’ বলেছেন বিএনপি ও বামপন্থিরা। আপনি কি একমত?