সোমবার, ২৩ জুলাই ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৮, ০৫:৫৬:২৫

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন: স্বামী গ্রেফতার

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন: স্বামী গ্রেফতার

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : উপজেলার পূর্ব আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামে ২লাখ টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রী রেশমা বেগম (৩০) কে সোমবার রাতে নির্যাতনের পর আটকে রাখে। স্বজনরা খবর পেয়ে পুলিশের সহায়তায় রেশমাকে  গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আমতলী হাসপাতালে ভর্তি করে। স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে স্বামী মতিয়ার রহমানকে গ্রেফতার করে জেল  হাজতে পাঠায় পুলিশ।

মামলা ও রেশমার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোলবুনিয়া গ্রামের দরিদ্র মনিরুল হাওলাদার মনুর মেয়ে রেশমার সাথে ২০০২ সাথে আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পূর্ব আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের বকুল তালুকদারের পুত্র মতিয়ার রহমানের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর রেশমার বাবা মনু হাওলাদার মেয়ের সুখের কথা বিবেচনা করে সংসারের যাবতীয় মালামাল এবং কানের দুলসহ নগদ দেড় লাখ টাকা তুলে দেন জামাইর হাতে। বিয়ের বছর খানেক যেতে না যেতেই বিভিন্ন সয়ময় রেশমাকে তার বাবার বাড়ি থেকে আরো টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিত। স্বামীর কথা মত টাকা এনে না দিলেই রেশমাকে নির্যাতন করত স্বামী মতিয়ার রহমান।

তাই সংসারের সুখের কথা ভেবে রেশমা তার বাবা মনু হাওলাদারের নিকট থেকে স্বামীর কথামত প্রায়ই টাকা এনে দিত। এর মধ্যে রেশমার কোল জুরে আসে দুই সন্তান লাল চান (১৩) ও শফিক (৪)। সন্তান জন্মের পর থেকেই  রেশমার উপর যৌতুকের জন্য নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। প্রায়ই তাকে যৌতুকের জন্য ঘরে আটকে রেখে মারধর করত। গত শুক্রবার রাতে রেশমাকে তার বাবার বাড়ি থেকে মটর সাইকেল কেনার জন্য ২ লাখ টাকা এনে দিতে বলে স্বামী মতিয়ার। রেশমার দরিদ্র বাবার পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালে রেশমাকে ঘরে আকটিয়ে তাকে রেন্ট্রি গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে স্বামী মতিয়ার।

একই দাবীতে সোমবার রাতে দ্বিতীয় বারের মত রেশমাকে আবার ব্যাপক মারধর করে ঘরে আটকে রাখে। খবর পেয়ে রেশমার ভাই মো: হাসান এবং বোন মায়া বেগম আমতলী থানার এসআই সিদ্দিকুর রহমানের সহযোগিতায় সোমবার সন্ধ্যায় রেশমাকে মতিয়ার রহমানের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে মুমুর্ষ অবস্থায় আমতলী হাসপাতালে ভর্তি করে। আমতলী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো: হারুন অর রশিদ জানান, মেয়েটিকে মারাত্মক ভাবে নির্যাতন করেছে। নির্যাতনের ফলে মেয়েটি এখন সোজা হয়ে দাড়াতে পারছে না।

কান্না জড়িত কন্ঠে রেশমা জানান, ‘মোরে টাহার লইগ্যা গত শুক্কুর ও সোমবার দুই দিন ঘরে আটকাইয়া বাশ ও রেনডির ডাল দিয়া পিডাইছে। দ্যাহেন মোর শইল্লের কি অবস্থা। মোর মাইরা হালাইতে চাইছিলো। মুই এইয়ার বিচার চাই।’ রেশমার বোন মায়া বেগম জানান, ‘মোর বুইনডারে টাহার লইগ্যা মাইর‌্যা থোয় নাই। মুই এইয়ার বিচার চাই।’

উদ্ধার কারী এসআই সিদ্দিকুর রহমান জানান, নির্যাতনের পর ঘরে বন্ধী অবস্থা থেকে রেশমাকে উদ্ধারের পর স্বামী মতিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বাড়ি থেকে গ্রামিন ফোনের ১৬ টি সিম এবং ফকিরালী বিভিন্ন বই ও অনেকগুলো তাবিজ উদ্ধার করা হয়।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সহিদ উল্যাহ জানান, মতিয়ারের স্ত্রী রেশমা বেগম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার পর তাকে গ্রেফতার করে উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের বিচারক মো: হুমায়ুন কবির তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটকে ‘প্রহসন’ বলেছেন বিএনপি ও বামপন্থিরা। আপনি কি একমত?