মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০৬:১০:১৮

‘নিখোঁজ’ সেই ১২ ছাত্র গুজব-উস্কানির মামলায় গ্রেপ্তার

‘নিখোঁজ’ সেই ১২ ছাত্র গুজব-উস্কানির মামলায় গ্রেপ্তার

ঢাকা : রাজধানীর তেজগাঁও ও মহাখালী থেকে গত ৫ সেপ্টেম্বর যে ১২ শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় গুজব ও উস্কানি ছড়িয়ে আন্দোলনকে সহিংস করার চেষ্টা করেছিল।

তাদের রোববার রাজধানীর তেজকুনীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। যদিও রোববার দুপুরেই ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্র্যাব) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে গ্রেপ্তারকৃতদের পরিবার দাবি করেছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর মহাখালী ও তেজগাঁও এলাকা থেকে ডিবি পরিচয়ে তাদের আটক করে নেয়া হয়। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ ছিল।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- তারেক আজিজ, মো. তারেক, জাহাঙ্গীর আলম, মো. মোজাহিদুল ইসলাম, মো. আল আমীন, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. বোরহান উদ্দিন, ইফতেখার আলম, মো. মেহেদী হাসান রাজিব, মো. মাহফুজ, মো. সাইফুল্লাহ ও মো. রায়হানুল আবেদিন। এদের মধ্যে তারেক আজিজ নিরাপদ সড়কের আন্দোলন চলাকালে গুজব সৃষ্টিকারীদের অন্যতম মূল হোতা।

মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, তারেক আজিজের বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টে এবং বাকিদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় এ দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ বিষয়ে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেন উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের মনোগ্রাম সংবলিত ১২ সেট ড্রেস, ১৩টি ফিতাসহ আইডি কার্ড, হ্যান্ডমাইক, ম্যাগনিফাইং গ্লাস, হাতুড়ি, স্ক্রু-ড্রাইভার, ৩টি ল্যাপটপ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্ম পদ্ধতিসহ বিভিন্ন ফর্ম, শিবির প্রকাশিত কিশোর কণ্ঠসহ বিভিন্ন ইসলামি বই, বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয় লেখা ডায়েরি ও ফেসবুকে পোস্ট করা বিভিন্ন ভিডিওসহ স্থির ছবি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে শাহিন কলেজ, নিউ ভিশন, আইডিয়াল ও নটরডেম কলেজের ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়েছে

মাসুদুর রহমান জানান, তাদের কাছ থেকে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ড্রেস ও আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে, তারা সেসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র নয়। অন্য প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় উস্কানি ও গুজব ছড়িয়ে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই তারা এসব ব্যবহার করেছিল।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের ফেসবুক থেকে আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হয়েছিল। 'ঝিগাতলায় কি হয়েছে স্টুডেন্টের মুখ থেকে শুনুন; ৪ জন মারা গেছে, ৪ জন ধর্ষণ; শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির লাইসেন্স নাই; পুলিশ ঘুষ খায়; মন্ত্রী-এমপি সবাই চোর' এমন বিভিন্ন গুজব ও উস্কানিমূলক পোস্ট ছড়ায় তারা।

গ্রেপ্তার ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, তারা গত ২৯ আগস্ট শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন উসকানিমূলক লেখা/পোস্ট/ফটো/ভিডিও’র মাধ্যমে গুজব ছড়ায়।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে জব্দ করা ছবি ও ইউনিফর্ম

মাসুদুর রহমান বলেন, গত ৬ আগস্ট বেলা পৌনে ১২টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যলয়ের বহিরাগত ছাত্ররা ৪০০ থেকে ৫০০জন একত্রিত হয়ে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সরকারবিরোধী বিভিন্ন উত্তেজনাকর স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা রাস্তা বন্ধ করে ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। উশৃঙ্খল ছাত্ররা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে।

তিনি বলেন, ছাত্রদের ইট পাটকেলের আঘাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পিআই আবু হাজ্জাজ, এস আই ইমাম হোসেন, এএসআই আজাদ, এএসআই ইব্রাহিমসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ছাত্র আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করা ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম মূল হোতা তারেক আজিজ ফেসবুক টাইম লাইনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত করতো।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আইডি

ডিসি মাসুদ আরো বলেন, ছাত্র আন্দোলনকে যারা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে চেয়েছিল, তাদের অন্যতম মূল হোতা হলেন তারেক আজিজ। তিনি তার ফেসবুক টাইমলাইনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত করতেন।

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) ক্যান্টনমেন্ট জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার হান্নানুল ইসলাম।

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?