সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১০:৪৩:২০

নির্বাচনের সময় বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রস্তুত হচ্ছে পুলিশ

নির্বাচনের সময় বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রস্তুত হচ্ছে পুলিশ

ঢাকা : নির্বাচনের সময় বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রস্তুতি শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।

গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে সমন্বিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দফতরে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেয়া হয়। সভায় উপস্থিত থাকা একাধিক উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যাতে কোনোভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়। একই সঙ্গে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন মামলা এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক ব্লক রেইড ও বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে বিপদে ফেলতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটাতে কুচক্রী মহল মাঠে নামতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে এজন্য এখন থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সময়ে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যদি কেউ নাশকতা বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করে তাহলে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। এছাড়া নির্বাচনের আগে সবসময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান চালানো হয়, এবারো তা করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের সময় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়াও তৃতীয় পক্ষ পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে মাঠে নামতে পারে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ব্যবহারের পাশাপাশি জঙ্গি তৎপরতার আশঙ্কাও রয়েছে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে। কিন্তু কবে থেকে এই অভিযান পরিচালনা করা হবে, সেই দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি। একই সঙ্গে নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগে বিভিন্ন নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী অপতৎপরতা চালাতে পারে। এজন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে থাকা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকেও নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা আরেক কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খাঁন বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ঢাকা মহানগরের আইন-শৃংখলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা বিধানসহ ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ডিএমপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যকে নগদ অর্থ দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন ডিএমপি’র কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। আগস্ট মাসসহ পরপর তিন মাসে ডিএমপির শ্রেষ্ঠ বিভাগ নির্বাচিত হয়েছে লালবাগ। এছাড়া শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার (লালবাগ জোন) সালাহ উদ্দিন, শ্রেষ্ঠ পুলিশ (অফিসার ইনচার্জ) রূপনগর থানার শাহ্ আলম, শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হয়েছেন দারুসসালাম থানার ফারুকুল আলম, শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস্) হয়েছেন কদমতলী থানার মাহবুব আলম, শ্রেষ্ঠ এসআই হয়েছেন যৌথভাবে চকবাজার থানার ইব্রাহীম হোসেন নয়ন ও পল্লবী থানার আসিফ ইকবাল। শ্রেষ্ঠ এএসআইও যৌথভাবে হয়েছেন মতিঝিল থানার হেলাল উদ্দিন ও ডেমরা থানার বাদশা বেপারী।

ডিএমপি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য বিভাগের শ্রেষ্ঠ বিভাগ হয়েছে ডিবি-উত্তর বিভাগ। শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার হয়েছেন এয়ারপোর্ট জোনাল টিমের মহরম আলী। চোরাই গাড়ী উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ ডিবি দক্ষিণের সিনিয়র এসি রফিকুল আলম, মাদকদ্রব্য উদ্ধারে এয়ারপোর্ট জোনাল টিমের এসি মহরম আলী, অস্ত্র উদ্ধারে খিলগাঁও জোনাল টিমের সিনিয়র এসি ইমতিয়াজ মাহবুব, বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধএর সিনিয়র ডিবি পূর্ব বিভাগের সিনিয়র এসি আতিকুল ইসলাম, অজ্ঞানপার্টি ও মলম পার্টি গ্রেফতারে ডিবি দক্ষিণের সিনিয়র এসি এ জেড এম তৈমুর রহমান ও শুটিং ইনসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন টিমের সিনিয়র এসি নুরুল আমিন।

এছাড়া বিশেষ পুরষ্কার দেয়া হয়েছে, ডিবি উত্তরের এডিসি কাজী শফিকুল আলম, ডিবি পশ্চিমের এডিসি গোলাম মোস্তফা রাসেল, সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের এডিসি নাজমুল ইসলাম, ডিবি উত্তরের এডিসি গোলাম সাকলায়েন, ডিবি পশ্চিমের এসি শাহাদত হোসেন সুমাসহ আরো বেশ কয়েকজন পুরস্কৃত করা হয়েছে।

এবারের মাসিক অপরাধ সভায় ছিনতাই হওয়া ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধারসহ দৌড়ে ছিনতাইকারীকে ধরে পুলিশের কাছে সোর্পদ করায় অন্তরা নামে এক নারীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার অন্তরাকে সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে নগদ অর্থ পুরষ্কার দেন।

গত ১৭ আগস্ট যাত্রাবাড়ীর জনপথ মোড়ে এক ছিনতাইকারী অন্তরার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে দৌড়ে এক বাসে উঠে যায়। অন্তরা দৌড়ে সেই বাসে উঠে ছিনতাইকারীকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?