সোমবার, ২৩ জুলাই ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ১৭ মার্চ, ২০১৮, ১২:০৭:০৫

পুলিশ ধরে নেওয়ার পর ৬ নেতা নিখোঁজ

পুলিশ ধরে নেওয়ার পর ৬ নেতা নিখোঁজ

ঢাকা: ২৬ মে ২০১৭। নরসিংদীর রায়পুরা থানার পুলিশ বাঁশগাড়ি ইউনিয়নে গিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের চার নেতাকে ধরে নিয়ে যেতে চায়। এলাকাবাসী জমায়েত হয়ে গতি রোধ করলে গুলি চালায় পুলিশ। নিহত হয় এক গ্রামবাসী। এলাকাবাসী আরো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে নরসিংদীর পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাজনগরের সীমানে খাল এলাকা থেকে সেদিন চার নেতাকে পুলিশ শত শত মানুষের সামনে দিয়ে শেষ পর্যন্ত তুলেই নিয়ে গিয়েছিল। সেই থেকে ১০ মাস ধরে নিখোঁজ হাবিবুর রহমান, রূপ মিয়া, আজিজুল হক ও জাকির হোসেন। সেদিন তাঁদের স্বজনরা থানায় গিয়েছিল, কিন্তু দেখা করতে দেওয়া হয়নি। চার নেতাকে আদালতেও পাঠানো হয়নি। এমনকি তাঁদের অনুসন্ধানে নেমে দুই স্বজনসহ চারজন গুলিতে পঙ্গু হয়েছেন। এখানেও অভিযোগ পুলিশেরই বিরুদ্ধে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভিযোগ, বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে আসা ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের ইন্ধনে রায়পুরা থানার তৎকালীন ওসি আজাহারুল ইসলাম ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের গুম-খুন করে গেছেন এবং বর্তমান ওসি দেলোয়ার হোসেন পঙ্গু করাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় এমপি রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু সব জেনেও নির্বিকার রয়েছেন। উল্টো এমপি সম্প্রতি এক জনসভায় বলেছেন, সহিংসতায় জড়ালে অন্যদেরও পুুলিশের পেটে যেতে হবে।

নিখোঁজ রূপ মিয়া বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি এবং বাঁশগাড়ির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য, মো. হাবিবুর রহমান হাবি দলের ইউনিয়ন কমিটির কার্যকরী সদস্য (দুই বারের ইউপি সদস্য), আজিজুল হক ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাকির হোসেন বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। পরবর্তী সময়ে আরো দুই নেতা—নিলক্ষা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য, গোপীনাথপুর গ্রামের মো. সোহেল ও নিলক্ষা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. বজলুর রহমান নিখোঁজ হন। পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁদেরও আর পাওয়া যায়নি।

বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘শুধু আমিই নই, শত শত মানুষের সামনে দিয়ে পুলিশ চার নেতাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। চারজনই গুম। এইড্যা কোন দেশের বিচার হইল। হাইব্রিড আওয়ামী লীগের রাজত্ব চলছে বাঁশগাড়িতে। আমাদের পাঁচটা লোকরে মারছে, তিনজনের ঠ্যাং কাটছে, চারজনরে গুম করছে।’ নব্য আওয়ামী লীগার সিরাজুল হক পাঁচটা মার্ডার মামলাসহ ২৫ মামলার আসামি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হের গলায় হাত দিয়ে পুলিশ ঘোরে। আমরা ২০০ পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্য জায়গায় আছি।’ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সুমন বলেন, ‘চার নেতাকে ধরার খবর পেয়ে আমিও ছুটে যাই। জনগণ ওই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ করলে পুলিশ গুলি চালায়। চারজনকে পুলিশ টাকা খেয়ে গুম করেছে বলেই আমাদের সন্দেহ। স্থানীয় এমপি রাজিউদ্দিন রাজুর এক বক্তব্যেই সেটা পরিষ্কার হয়েছে।’

রায়পুরায় স্বজনদের খুঁজতে যাওয়ায় পর গুলিতে পঙ্গু (বাঁ থেকে) ফারুক মিয়া, হরুন, মাইনউদ্দিন ও নুরু মিয়া। ছবি : কালের কণ্ঠ

পুলিশের ভয়ে আত্মীয় বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন উল্লেখ করে বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. জসিম বলেন, প্রকাশ্যেই চারজনকে পুলিশ ধরে নিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে ঢুকে সিরাজুল হক আওয়ামী লীগ নিধনে নেমেছেন। ইউনিয়ন যুবলীগের এক সদস্য বলেন, ‘থানা আওয়ামী লীগের আব্দুস ছাদেকের মদদে সিরাজুল এখন বেপরোয়া। এমপি রাজুও নীরব। এখানে দোজখের আগুনে জ্বলছে আওয়ামী লীগ।’ রায়পুরা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের সামনে থেকে পুলিশ নেতাদের নিয়ে গুম করে দেয়। পাশের ইউনিয়নেও দুজনকে গুম করে দেওয়ার অভিযোগ আছে। আমি ২৪ বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলাম। বাঁশগাড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বরাবরই শক্তিশালী ছিল। এখন দলটির নেতাকর্মীরা এলাকাছাড়া।’ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল সরকার বলেন, ‘সিরাজুলের লোকরা বলে বেড়ায় তালিকা ধইরা ধইরা নাকি আমাগো সবাইরে পঙ্গু করব, গুম কইরা দিব’।

নিখোঁজ হাবিবুর রহমানের ভাই রবিউল আউয়াল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চোখের সামনে দিয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেল আর এখন বলে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়নি। বলে আমরাই নাকি পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছি। জাকির হোসেনের ফুফাতো ভাই তারা গাজী বলেন, ‘পুলিশ ধইরা নেওয়ার পর এমপি রাজু সাহেবের কাছে গেলাম। উনি কইলেন ধইরা নিছে, ছাইড়া দিব। কিন্তু ১০ মাস পার হইলো এখনো পাইলাম না।’ জাকিরের স্ত্রী তাজমহল বেগম বলেন, ‘বাচ্চার বাবা যদি অন্যায় করেন তাই জেল-ফাঁসি হউক। কিন্তু পুলিশ কোনো খোঁজ দেয় না কেন।’ নিখোঁজ আজিজুল হকের স্ত্রী বানু বেগম বলেন, ‘উনার খোঁজ করতে করতে এখন আমরা ক্লান্ত। বেঁচে আছেন নাকি পুলিশ গুম করে দিয়েছে, জানি না।’

রূপ মিয়ার স্ত্রী নাসিমা আক্তার জানান, স্বামীকে ফিরে পেতে জমি বিক্রি করে ছয় লাখ টাকা গ্রামের একজনকে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জমিজমা সব বিক্রি কইরা দিমু, আমার স্বামীকে ফিরাইয়া দেন।’ রূপ মিয়ার ছেলে রুবেল বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ করছি কি বাবা হারানোর জন্য? যারা বিএনপি করছে হেরা ঠিকই এলাকায় আছে।’

খুঁজতে গিয়ে পঙ্গু ৪ : সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছিলেন নিখোঁজ রূপ মিয়ার ভাতিজা মাইনউদ্দিন মিয়া। তিনি নরসিংদীতে সংবাদ সম্মেলনও করেন। ব্যর্থ হয়ে হতাশ মনে সৌদি আরব ফিরে যাচ্ছিলেন মাইনউদ্দিন, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায়ও পৌঁছেছিলেন তিনি। পরে তাঁকে পাওয়া যায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে। মাইনউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চাচার খোঁজে এসে এখন নিজেই পঙ্গুজীবন পার করছি আমি। পুলিশ আমাকে বিমানবন্দর এলাকা থেকে ধরে রায়পুরা এনে গুলিতে পঙ্গু করে দেয়।’ তাঁর দাবি, নরসিংদীর মদনপুরে ওসি দেলোয়ারের উপস্থিতিতেই পুলিশ তাঁর ডান পায়ে গুলি করে এবং অস্ত্র মামলা দিয়ে হাসপাতালে পাঠায়। পরে ১৬ দিন জেল খেটে বেরিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় স্থানে লুকিয়ে আছেন মাইনউদ্দিন। তিনি বলেন, নিজের এলাকায় যেতে পারি না পুলিশ আর বিএনপির সিরাজুল হকের ভয়ে।’ পরে আরো তিনজনকে গ্রাম থেকে ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। তাঁরা হলেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এমদাদুল হক হরুন, বাঁশগাড়ির চর মেঘনার নুরু মিয়া ও বালুয়াকন্দি গ্রামের ফারুক মিয়া। হরুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিরাজুলের টাকার কাছে থানা আওয়ামী লীগের বড় নেতা বিক্রি হয়ে গেছেন। টাকা দিয়ে আমার ভাই আজিজুলকে গুম করিয়েছে এবং আমাকে পঙ্গু বানিয়েছে।’ একই অভিযোগ করে নুরু মিয়া ও ফারুক মিয়া বলেন, পঙ্গু না করে মেরে ফেললেই ভালো হতো।

নিখোঁজ চার ব্যক্তির পরিবারের ভাষ্য, গুমের অভিযোগ ওঠায় রায়পুরার ওসি আজাহারুল ইসলামকে বদলি করা হয়। নতুন আসা ওসি দেলোয়ার হোসেনও এমপির ঘনিষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস ছাদেক ও বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের সঙ্গে আঁতাত করে ওই ইউনিয়নের গুম হওয়ার চার নেতার পরিবার ও স্বজনদের হয়রানি এবং ভয়ভীতি দেখানো শুরু করে। রূপ মিয়ার পরিবারসহ অনেকের অভিযোগ, সিরাজুল হক ৪০ লাখ টাকা দিয়ে পুলিশকে দিয়ে এসব করিয়েছে।

বিরোধের নেপথ্যে : গত ইউপি নির্বাচনের আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছাদেকের সহযোগিতায় স্থানীয় এমপি রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর মাধ্যমে আওয়ামী লীগে যোগ দেন বিএনপি নেতা সিরাজুল হক। তিনি থানা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালনকালে বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান শাহেদ সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ ছিল। সিরাজুল হক আওয়ামী লীগে এসে নৌকা মার্কায় ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেন এবং তাঁকে এমপি রাজু ও আব্দুস ছাদেক সমর্থন দেন। কিন্তু কেন্দ্র থেকে শাহেদ সরকার নৌকা প্রতীক পেলে এমপি রাজু ও আব্দুস ছাদেক ক্ষুব্ধ হন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে হাত করে শাহেদ সরকারকে হারান। এই ঘটনায় সিরাজুল-শাহেদ বিরোধ আরো বাড়ে। এরই জের ধরে গত বছর চার আওয়ামী লীগ নেতাকে গুম করা হয় বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের। পরে আরো পাঁচ নেতা গুলিতে পঙ্গু হন। এখন আতঙ্কে এই পক্ষের কয়েক শত নেতাকর্মী পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে জানা যায়।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সরকার হাফিজুর রহমান শাহেদ পুলিশ চার ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েক গ্রামের প্রায় দুই হাজার মানুষ উপস্থিত ছিল বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘সারা জীবন বিএনপি করল সিরাজুল হক। আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে আমাদের লোকদের পশুর মতো মারছে।’ রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। এখন তারা বলছে তাদের ছিনিয়ে নিয়েছে এলাকার মানুষ। ছিনতাই করে আসামি নিয়ে থাকলে তো পাওয়া যেত।’

নরসিংদীর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেখুন বাঁশগাড়ির কয়েকজন গুমের অভিযোগের কথা শুনেছি, কিন্তু আমাদের কাছে কেউ লিখিতভাবে জানায়নি। পুলিশের দ্বারা এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে তারা লিখিত অভিযোগ করুক, সেটা করলে অবশ্যই খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত যে-ই থাকুক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

অভিযুক্তদের বক্তব্য : চার গুমের অভিযোগ জানতে গতকাল যোগাযোগ করা হলে নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেখুন সেটা অনেক আগের ঘটনা, সেই বিষয়ে এখন আমি কোনো কথা বলব না।’ রায়পুরার তৎকালীন ওসি আজাহারুল ইসলাম গুমের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, ‘সেটা তো ভাই অনেক আগের ঘটনা। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ গেলে তাঁদেরও আক্রমণ করে। ওই সময় তাদের হামলায় আমাদের তিন পুলিশ সদস্যও আহত হন।’ ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হক বলেন, ‘আমি গুম করামু ক্যামনে, আমি এলাকায় ছিলাম? আমাগো তো দেশছাড়া কইরা দিছিল ওরা। এখন আবার এলাকায় আইছি। এমপি সাহেব মিলাইয়া দিছে দুই পক্ষরে।’ ৪০ লাখ টাকায় পুলিশকে দিয়ে চার নেতাকে গুম করানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশকে বোম মারছে, টেঁটা মারছে। এইডা পুলিশের ব্যাপার। হেইডা কি আমগো ব্যাপার। পুলিশ তাদের কী করছে হেইডা পুলিশই ভালো জানে।’

রায়পুরার বর্তমান ওসির সময়ই নিখোঁজ ব্যক্তিদের কয়েকজন স্বজনের পায়ে পুলিশের গুলির অভিযোগ রয়েছে। তবে ওসি দেলোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশ কাউকে পায়ে ঠেকিয়ে গুলি করেনি। যারা বলছে এরা এলাকায় ককটেল ফুটায়, টেঁটাযুদ্ধ করে।’ তাই বলে পুলিশ গুম এবং পঙ্গু করবে—এই প্রশ্নের উত্তরে ওসি আরো বলেন, ‘পুলিশের গুলি করার ঘটনা নেই। অভিযোগ মিথ্যা।’ সিরাজুল হকের কাছ থেকে টাকা খেয়ে গুম ও পঙ্গু করার অভিযোগ নিয়ে ওসি বলেন, ‘এখন তারা যদি অভিযোগ করে তাহলে তো আমাদের করার কিছুই নেই। আইন তার নিজের গতিতেই চলছে।’ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছাদেকের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি। অবশেষে গত রাত সাড়ে ৯টায় একবার ফোন রিসিভ করলেও পরিচয় পেয়ে তিনি লাইন কেটে দেন।

নরসিংদী জেলা বারের সভাপতি আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া বলেন, ‘বাঁশগাড়ির চার নেতাকে গুম করার বিষয়ে স্বজনরা আমাদের কাছে এলে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার আমেনা বেগমের কাছে গিয়েছিলাম। এসপি বলেন, থানা পুলিশ বা ডিবি কেউ গ্রেপ্তার করেনি।’

নিখোঁজ আরো ২ : নিলক্ষা ইউনিয়নের কিতাব আলীর ছেলে মো. সোহেল গত বছরের ১৩ মে রায়পুরার আমিরগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে বাড়ি ফেরার পথে হাসনাবাদ বাজারের টেম্পো স্ট্যান্ড এলাকায় প্রকাশ্যে আটক হন রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আজাহারুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন পুলিশদলের হাতে। এরপর সোহেলের স্ত্রী পপি আক্তার বাদী হয়ে আদালতে মামলা করলেও সন্ধান আর মেলেনি। সোহেলের চাচা আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আটকের দিন রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আমার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয় ফোনে। পরদিন এই নম্বরে ফোন দিলে একজন গালি দিয়ে ফোন কেটে দেয়।’ তিনি আরো বলেন, প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই বলেছে, এসআই আজাহারুল ইসলামসহ একটি দল সোহেলকে আটক করেছিল। সোহেলের ছোট ভাই রাসেল মিয়া বলেন, ‘প্রতিপক্ষ টাকা খাইয়ে পুলিশকে দিয়ে আমার ভাইকে গুম করেছে।’ নিলক্ষা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. বজলুর রহমান গত বছরের ১২ ডিসেম্বর সকালে গোপীনাথপুরের মেঘনা ঘাটে আটক হন। তাঁর ছেলে অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান শামীম বলেন, ‘গ্রামবাসী বলছে পুলিশের এসআই শাখাওয়াত হোসেন ও আজাহারুল ইসলাম আমার বাবাকে তুলে নিয়ে যান।’ পরিবারের অভিযোগ, টাকা খেয়ে পুলিশ বজলুরকে গুম করেছে।

অভিযুক্ত এসআই শাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি একজন প্রবাসীর গাড়িতে ডাকাতি করার অভিযোগে এখন কারাগারে আছেন।
উৎসঃ   কালের কন্ঠ

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

 

আজকের প্রশ্ন

খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটকে ‘প্রহসন’ বলেছেন বিএনপি ও বামপন্থিরা। আপনি কি একমত?