সোমবার, ১৬ জুলাই ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ২৭ জুন, ২০১৮, ০৬:৩৪:০৩

সয়াবিন ও ডিটারজেন্ট দিয়ে দুধ তৈরি, আকিজ দুগ্ধ কারখানা সিলগালা

সয়াবিন ও ডিটারজেন্ট দিয়ে দুধ তৈরি, আকিজ দুগ্ধ কারখানা সিলগালা

ভেজাল দুধ উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পরিদর্শন করেছেন।

গতকাল সোমবার দিনভর তদন্ত দল উল্লাপাড়ার মোহনপুর এলাকার বিভিন্ন দুগ্ধ সংগ্রহ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। কীভাবে ভেজাল দুধ তৈরি করা হয় তা দেখেছেন তদন্ত দলের সাতজন সদস্য।
পরিদর্শন শেষে অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় আকিজ দুগ্ধ সংগ্রহ কারখানা সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভেজাল দুধ উৎপাদনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে উল্লাপাড়া উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. শহিদুল ইসলাম আকিজ দুগ্ধ সংগ্রহ কারখানা বন্ধের নোটিশ টাঙিয়ে সিলগালা করে দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উল্লাপাড়ার বিভিন্ন স্থানে ভেজাল দুধ তৈরি করা হচ্ছে। এই দুধ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের চোখে পড়ে।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গত ১৫ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ইকবাল রউফকে আহ্বায়ক করে ১৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

কমিটির সাতজন সদস্য সরেজমিনে গতকাল সোমবার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় তদন্তে আসেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব এএসএম জুবেরী, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক খালেকুজ্জামান, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি উল্লাপাড়ার ইউএনও মো. আরিফুজ্জামান, ব্র্যাকের সিনিয়র ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন, মিল্ক ভিটার উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শফিকুর রহমান ও প্রাণ ডেইরির কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগের প্রধান এসএম মারুফ কবির।
তদন্ত দলের সদস্যরা উল্লাপাড়া উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে ভেজাল দুধ উৎপাদন প্রক্রিয়া সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন। কীভাবে নানা উপকরণ দিয়ে ভেজাল দুধ উৎপাদন করা হচ্ছে তা দেখানো হয়। এতে দেখা যায়, পরিমিত গরুর দুধ, সয়াবিন তেল, সোডিয়াম কার্বনেট (সোডা), চিনি, লবণ ও অল্প পরিমাণ ডিটারজেন্ট মিশিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি করা হয়।

উৎপাদিত ভেজাল দুধ পরীক্ষা করে চর্বিসহ বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যায়। দুধ তৈরি দেখার পর তদন্ত দলের সদস্যরা উপজেলার মোহনপুর এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি দুগ্ধ শীতলীকরণ (সংগ্রহ কেন্দ্র) পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে দুধ পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় আকিজ দুগ্ধ কারখানাটি সিলগালা করে দেয়া হয়।
উল্লাপাড়া উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আকিজ দুগ্ধ শীতলীকরণ কোম্পানি মোহনপুর শাখায় নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুগ্ধ সংগ্রহ করা হয়। ল্যাব ও টেকনিশিয়ান ছাড়াই যেনতেনভাবে দুগ্ধ সংগ্রহ ও উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে কারখানাটি বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয় তদন্ত কমিটি। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল এই দুগ্ধ সংগ্রহ কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
তিনি বলেন, আকিজ দুগ্ধ শীতলীকরণ কোম্পানি মোহনপুর শাখাকে ৩টি শর্তসাপেক্ষে কারখানা পুনরায় চালু করার সুযোগ দেয়া হবে। তবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দক্ষ টেকনিশিয়ান, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের ব্যবস্থা করতে হবে। না করতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তদন্ত দলের সদস্য মো. আরিফুজ্জামাসয়াবিন ও ডিটারজেন্ট দিয়ে দুধ তৈরি, আকিজ দুগ্ধ কারখানা সিলগালান বলেন, মিল্ক ভিটা, প্রাণ, ব্র্যাক, আকিজসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দুগ্ধ কারখানা পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে নানা অনিয়মের অভিযোগে আকিজ দুগ্ধ সংগ্রহ কেন্দ্রটি সিলগালা করে দেয়া হয়।

তদন্ত দলের প্রধান ইকবাল রউফ বলেন, কীভাবে ভেজাল দুধ উৎপাদন করা হয় তা দেখেছি। উৎপাদিত দুধগুলো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর, বা ক্ষতিকারক কি-না সেটি পরীক্ষা করে দেখার জন্য নমুনা সংগ্রহ ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছি। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

আজকের প্রশ্ন

খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটকে ‘প্রহসন’ বলেছেন বিএনপি ও বামপন্থিরা। আপনি কি একমত?