রবিবার, ২১ জানুয়ারী ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০১৮, ১২:১০:০৮

কত ঘণ্টা বসে কাজ করেন?

কত ঘণ্টা বসে কাজ করেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক : দিনে কত ঘণ্টা বসে কাজ করেন? জানেন তাতে কি কি ক্ষতি হচ্ছে আপনার? তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে আমাদের শারিরীক কষ্ট অনেক কমে এসেছে। কম কষ্টে বসে বসেই করে ফেলি অনেক কাজ। এমনকি সপ্তাহের বাজারটাও করি অনলাইনে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে কেউ যদি দিনে মোট ১০ ঘন্টা বসে থাকেন, তাহলে শরীরের যা ক্ষতি হয় তা ১ ঘণ্টা শরীরচর্চা করেও মেটানো যায় না। কিন্তু আজকাল দিনে যে বেশিরভাগ মানুষকেই বসে কাজ করতে হয়। গঠনগত দিক থেকে আমাদের শরীর এক জায়গায় স্থির থাকার জন্য নয়। কাজের জন্য হলেও আমাদের নড়াচড়া করতে হয়। কিন্তু তা না করে আমরা অনেকক্ষণ একভাবে কম্পিউটারের মধ্যে মুখ ঢুকিয়ে বসে থাকি। ফলে একে একে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে একাধিক রোগ।

একটু সচেতন হলেই এড়িয়ে চলতে পারেন ছোটখাটো অনেক সমস্যা। যেমন, ২-৩ ঘণ্টা কাজ করার পর কম করে ১০ মিনিট হেঁটে আসবেন। এমনটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর করতে থাকলেই দেখবেন আর কোনও সমস্যা হবে না। আর যদি এমনটা করতে না পারেন তাহলেই দেখা দেবে জটিল সব রোগ। যেমন…

পায়ের ক্ষমতা কমতে শুরু করে: দীর্ঘ সময় বসে বসে কাজ করেল শরীরের নিচের অংশে রক্তের প্রবাহ ঠিক মতো হতে পারে না। ফলে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের অভাবে পা ফুলে যাওয়া, গোড়ালিতে যন্ত্রণা এবং ডিপ ভেন থ্রম্বোসিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

ঘাড়ে এবং কাঁধে যন্ত্রণা: কম্পিউটারে কাজ করার সময় আমরা একটু সামনের দিকে ঝুঁকে যাই। ফলে শরীরের উপরিঅংশ, বিশেষত ঘাড় এবং কাঁধ, শরীরের নিচের অংশের থেকে এগিয়ে যায়। এভাবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে সেরিব্রাল ভাটিব্রার উপর মারাত্মক চাপ পরে। ফলে ঘাড়ে এবং কাঁধে যন্ত্রণা হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

প্যানক্রিয়াস: মাত্র একদিন বেশি সময় বসে থাকলেই ইনসুলিন ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। তাহলে ভাবুন দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে শরীরের কতটা ক্ষতি হয়। একথা তো সকলেই জানেন যে ইনসুলিন যখন ঠিক মতো কাজ করতে পারে না, তখন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সম্প্রতি ডায়াবেটিলোজিয়াতে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুসারে যারা দৈনিক ৮ ঘণ্টার বেশি সময় বসে কাজ করেন, তাদের ৯০ শতাংশেরই টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বদ হজম: খাওয়ার পর পরই যদি বসে পরেন, তাহলে খাবার ঠিক মতো হজম হতে পারে না। ফলে বদ হজম এবং গ্যাস-অম্বল সহ একাধিক পেটের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

হার্ট: বসে থাকার সময় আমাদের শরীরে রক্তচলাচল খুব কমে যায়। ফলে দেহে জমে থাকা ফ্যাটের গলন কম পরিমাণে হতে থাকে। এতে ফ্যাটি অ্যাসিডের কারণে হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে বেড়ে যায়।

আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুসারে, যারা দিনে ১০ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় বসে কাজ করেন, তাদের হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সম্ভাবনা থাকে।

কোলোন ক্যান্সার: দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে কোলোন, ব্রেস্ট এবং এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। আসলে বেশি সময় বসে থাকলে শরীরে ইনসুলিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পায় কোষেদের জন্মহারও। ফলে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়: বহুক্ষণ বসে কাজ করলে ব্রেন ফাংশনও ঝিমিয়ে আসে। সেই সঙ্গে মস্তিষ্কে কম পরিমাণ অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছানোর কারণে ব্রেন পাওয়ারও কমতে শুরু করে। ফলে এক সময়ে গিয়ে বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি উভয়ই কমে যায়।

পিঠে ব্যথা: বসে থাকার সময় শিরদাঁড়ার উপর মারাত্মক চাপ পরে। ফলে দীর্ঘ সময় বসে থাকলে পিঠে ব্যথা হওয়ার মতো রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে পিঠে ব্যথার কারণে যারা কষ্ট পাচ্ছেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশেরই দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার অভ্যাস রয়েছে।

কী কী নিয়ম মানলে বসে কাজ করলেও কোনও রোগ হবে না? এক্ষেত্রে কতগুলি নিয়ম মেনে চললে দারুন উপকার পেতে পারেন। যেমন-

১. কাজের ফাঁকে মাঝে মধ্যেই একটু হেঁটে নিন। একভাবে ২-৩ ঘণ্টার বেশি কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।

২. লিফ্টের পরিবর্তে সিড়ি ব্যবহার করুন। তবে অনেক বেশি উপরের তলায় গেলে হাটার ঝুঁকি নেবেন না।

৩. প্রতিদিন কিছুটা সময় হাঁটার অভ্যাস করুন।

৪. কাঠের চেয়ার ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এতে শরীরের ক্ষতি কম হয়।

৫. শরীরকে সার্বিকভাবে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন নিয়ম করে শরীরচর্চা করুন।

 

আজকের প্রশ্ন

শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। জাতির জন্য এমন পরামর্শ ভয়ানক নয় কি?