মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, ০৯:৫৪:৫৪

আর্থিক অস্বচ্ছলতায় ফাটল ধরছে দাম্পত্য জীবনে

আর্থিক অস্বচ্ছলতায় ফাটল ধরছে দাম্পত্য জীবনে

লাইফস্টাইল ডেস্ক : কেউ ভালোবেসে, কেউবা পরিবারের সিদ্ধান্তে ঘর বাঁধেন। তারপর স্বপ্ন দেখেন একটি সুখী সংসারের। প্রথমদিকে দাম্পত্য জীবনে নিজেদের বোঝাপড়াটা জমে খুব। সাবলীলভাবে সব স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে থাকে। তখন মনে হয় নিজের সংসার নিয়ে যে স্বপ্ন সাজিয়েছিলেন তা সত্যি হয়েছে।

তবে সাজানো-গোছানো, সুন্দর এমন সংসারও কিন্তু তছনছ হয়ে যেতে পারে। সংসার ভাঙার কারণ হিসেবে বেশিরভাগ মানুষই মানসিক ও শারীরিক সম্পর্ককে দায়ি করে থাকেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, টাকার কারণেও আপনার সংসার ভাঙতে পারে।

এখন বেশিরভাগ পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দু’জনই উপার্জন করেন এবং আর্থিক দিক থেকে দু’জনই স্বচ্ছল থাকে। তবুও বিয়ের আগে আর্থিক অস্বচ্ছলতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে কেউ জানায় না। ফলে এক সময় এই টাকার কারণে দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরে।

সম্পর্কে আর্থিক বিষয়টি তখনই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়, যখন একজন জানে না, তার জীবনসঙ্গী টাকা দিয়ে কী করছে। এটা নতুন কিছু না এবং একেকজনের কাছে বিষয়টি একেক রকম। আজকাল মানুষ ক্রেডিট কার্ডের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ছে। দিন দিন পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং এর ধরন বদলে যাচ্ছে।
বিবাহ ব্যবস্থার দিকে তাকালে দেখা যায় যে, অনেকেই বিয়ের আগে নিজের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে সঙ্গীকে পুরোপুরি ধারণা দেয় না। কারণ আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ব্যক্তিকে কেউ বিয়ে করতে চায় না। নিজের আর্থিক দৈন্যদশার কারণেই সঙ্গীর কাছে, বিশেষ করে হবু স্ত্রীর কাছে নিজের আর্থিক বিষয়টি অনেক গোপন করেন। অবশ্য সবাই এক রকম হয় না। কেউ কেউ আছেন যারা তাদের আয় সম্পর্কে বিয়ের আগে থেকেই জানিয়ে রাখেন।

এ বিষয়ে মানসিক ও সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ বিজয় নাগাস্বামী বলেন, অর্থনৈতিক সমস্যা বর্তমানে অনেক বড় ভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। কারণ মানুষ আগে চিন্তা করে নিজে ভালো থাকার। অনেক সময় দেখা যায় বিয়ের কয়েক বছর না যেতেই স্ত্রীরা ব্যাংকে যৌথ অ্যাকাউন্ট খোলার কথা বলতে শুরু করে। আর তখন থেকেই শুরু হয় টানাপোড়ন। যেহেতু স্বামী আগে তথ্য গোপন করেন, পরে যখন দেখা যায় সে মিথ্যা বলেছে, তখন স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা আসলে শহরেই বেশি দেখা যাচ্ছে। কারণ শহরের মানুষ অনেক টাকা আয় করে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, একজন পুরুষ তার আয় অনুযায়ী মাসে ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মদের পেছনে ব্যয় করে। তাদের স্ত্রীরা এসব বিষয়ে জানতে পারে তখনই যখন তার স্বামীর বন্ধু বা ঘনিষ্ট কেউ তাকে জানায়। কিন্তু বিষয়টি জানার পরও ধামাচাপা দিতে চায় স্ত্রী। কারণ বেশির ভাগ স্ত্রী গৃহিণী এবং সম্পূর্ণভাবে স্বামীর ওপর নির্ভরশীল।

তবে কিছু কিছু ঘটনায় দেখা গেছে, অনেক সময় অর্থনৈতিক সমস্যার চেয়ে শারীরিক সমস্যা বড় হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় একজন পুরুষ পরকীয়ার কারণে তার প্রেমিকার পেছনে সব টাকা ব্যয় করে। অথচ স্ত্রীকে তেমন হাত খরচ দেয় না। এরপর একসময় স্ত্রী জানতে পারে স্বামী অন্য মেয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় অনেকে বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করেন।

এই সমস্যার জন্য শুধু স্বামীদেরকে দায়ী করা যাবে না। কারণ অনেক সময় স্ত্রীর কারণেও এমন বিচ্ছেদ ঘটতে পারে।

পরিবার বিশেষজ্ঞরা জানান, দম্পতির মধ্যে চার ধরনের সমস্যা দেখা যায়। ১. সম্পর্ক- এখানে একজন ভেবে নেয় যে তার সঙ্গীর আবেগ অনেক কম ২. শারীরিক সম্পর্ক ৩. পরকীয়া এবং ৪. আর্থিক অবস্থা। যদি কোনো দম্পতির মধ্যে এই চার সমস্যার যে কোনো একটি সমস্যা থাকে তাহলে এক সময় সেটেই বিচ্ছেদে গিয়ে শেষ হয়।

এই সমস্যা রোধে সমাধান হিসেবে বিশেষজ্ঞরা জানান, এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে সবার আগে অর্থনৈতিক সমস্যা দূর করার চিন্তা করুন। পরকীয়া বা নেশায় জড়িয়ে পড়া কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। একমাত্র অর্থনৈতিক উন্নতিই দাম্পত্য জীবনের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবে।

অবশ্য অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হলেই যে দাম্পত্য সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এমন নয়। কারণ এমন অনেকেই আছেন যারা অর্থ থাকা সত্ত্বেও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। তাই এই দাম্পত্য জীবনের এই সমস্যা দূর করতে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা ভীষণ জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আজকের প্রশ্ন

খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটকে ‘প্রহসন’ বলেছেন বিএনপি ও বামপন্থিরা। আপনি কি একমত?