বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, ০১:৫৪:১৬

স্বামী নেশায় বুঁদ, পাশের ঘরে অন্য পুরুষের সঙ্গে মত্ত স্ত্রী!

স্বামী নেশায় বুঁদ, পাশের ঘরে অন্য পুরুষের সঙ্গে মত্ত স্ত্রী!

ঢাকা : পৃথিবীটা আজব একটা রঙ্গমঞ্চ। আর এখানে এমন কিছু কিছু লোকজন বাস করে যারা নিজেদেরকে পশু হিসেবে জাহির করতে ভালোবাসেন। তা না হলে এটাও কি সম্ভব যে স্বামীর মদতে ফেসবুকে বন্ধুত্বের ফাঁদ পেতে টাকা উপার্জনে পতিতাবৃত্তি করা!

হ্যাঁ এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপরে।

ঘটনাটি হলো- স্বামীর মদতে ফেসবুকে বন্ধুত্বের ফাঁদ পেতে টাকা পয়সা উপার্জনে নেমেছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপরের মৌসুমী ভট্টাচার্য। ভারতের পুলিশ তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে।

ভারতীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকের সূত্র ধরেই বিশ্বনাথের মতো একাধিক বন্ধু তৈরি হয়েছিল মৌসুমীর। হাইপ্রোফাইল জীবনযাপনের নেশায় তাদের প্রত্যেককে আলাদা আলাদা দিনে নিজের বাড়িতে ডেকে রাত কাটাত বা যাপন করত সে। স্ত্রীর সঙ্গে অন্যজন রাত কাটালেও তাতে কোনো আপত্তি ছিল না মৌসুমীর স্বামী শান্তনু ভট্টাচার্যর। সে বাড়িরই অন্য রুমে নেশায় বুঁদ হয়ে থাকত। প্রতি সন্ধ্যায় স্ত্রীর কাছে শুধু তার চাহিদা ছিল দামি ব্র্যান্ডের মদের বোতল। এই ঘটানটি সত্যি অনন্য এক দৃষ্টি স্থাপন করল। যা সবাইকে অবাক করেছে। এই দুনিয়ায় এমনও কিছু লোক আছে যে নিজের স্ত্রীকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি করায়।

প্রসঙ্গত, ফেসবুক বন্ধু বিশ্বনাথ নাগের সঙ্গে তিন রাত কাটিয়ে অবশেষে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে তাকে খুন করেছে মৌসুমী। এমন সন্দেহে দু’জনেই এখন পুলিশ হেফাজতে।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ফেসবুকের প্রোফাইলে সার্চ করে সরকারি কর্মী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করত ওই গৃহবধূ। নিজে থেকেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে শিকার জালে তুলত সে। ধানবাদের ঝরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী বিশ্বনাথ নাগকেও ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েই কথার জালে ফাঁসিয়েছিল সুন্দরী মৌসুমী। হাইপ্রোফাইল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল সিটি সেন্টারের আলাউদ্দিন বীথির ওই বাসিন্দা। সেই খরচ তুলতেই সে নতুন-নতুন বন্ধুদের আকৃষ্ট করত। আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য সে প্রায়ই ফেসবুকে নিত্য-নতুন পোজে ছবি আপলোড করত। এতে করে নতুন-নতুন বন্ধুদের আকৃষ্ট করত সে।

গত বুধবার রাতে পুলিশ মৌসুমীর বাড়িতে গিয়ে বিশ্বনাথের দেয়া স্কুটি, মোবাইল সহ বেশ কিছু জিনিস বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মী নারায়ন মিনা বলেন, ওদের জেরা করে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। ওরা সবকিছু সঠিক বলছে কিনা তা যাচাই করে দেখা হবে। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার পরেও মৌসুমী ওরফে মৌ ভেঙে পড়েনি। উল্টো সে বিশ্বনাথের মৃত্যুকে আত্মহত্যার ঘটনা বলে দাবি করছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর পর সে নিজে থেকেই হাই হ্যালো জাতীয় মেসেজ পাঠিয়ে চ্যাট শুরু করত। নতুন বন্ধু সত্যিই কোনো সরকারি সংস্থা বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কিনা তা কথার ছলে নিশ্চিত হওয়ার পরেই মোবাইল নম্বর আদান প্রদান হতো। সুযোগ বুঝে ডেটিংয়েও যেত মৌসুমী।

তবে, সম্প্রতি বিশ্বনাথের সঙ্গেই তার সম্পর্ক গভীর হয়েছিল। সে বিশ্বনাথকে কখনো তার স্বামীর বিজনেস পার্টনার, কখনো আবার কোনো আত্মীয়ের ছেলে বলে পরিচয় দিত।

শান্তনু ও মৌসুমীর বাড়ির পরিচারিকা জুলি যাদব বলেছেন, দোতলা ঘরের উপর তলায় দুটি বেডরুম আছে। একটিতে শান্তনু থাকত। সেখানে প্রতিদিনই মদের বোতল ও গ্লাস নিয়ে পড়ে থাকত। অন্য ঘরে অচেনা যুবকের সঙ্গে মৌসুমীকে বেশ কয়েকবার দেখেছিলাম। জিজ্ঞাসা করলে আত্মীয় বলে পরিচয় দিত।

এ ব্যাপারে ওই এলাকার এক গৃহবধূ জানিয়েছেন, শুধু একজন নয়, প্রায় প্রতিরাতেইিএ রকম নতুন নতুন ছেলেদের বাড়িতে আসতে দেখতাম আমরা। ওরা কারো সঙ্গে মিশত না। মৌসুমী দামি ব্র্যান্ডেড পোশাক পরা থেকে শুরু করে নিয়মিত পার্লারে যাতায়াত করত। মৌসুমীর চলাফেরাই ছিল অন্যরকম।

নিজের মেয়ের এই পরিণতি হবে তা যেন কখনোই জানতেন বাবা-মা। গত বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের শ্যামপুরে তার বাবার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার বাবা মা অনেকটাই স্বাভাবিক। মৌসুমীর বাবা-মা বলেন, মেয়ে আমাদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করত। তাই বলে ও যে এরকম পথ বেচে নেবে তা কখনো আন্দাজ করতে পারিনি।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘সরকার খালেদা জিয়ার রায় নির্ধারণ করে রেখেছে।’ তার এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?