বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৮, ০৫:৫৫:২৭

সুপার শপের বিক্রয়কর্মী থেকে কোটিপতি!

সুপার শপের বিক্রয়কর্মী থেকে কোটিপতি!

ঢাকা : রাশিয়া থেকে কার্ড জালিয়াতি শিখে আসেন শরিফুল ইসলাম (৩৩)। দেশে ফিরে নামকরা সুপার শপ স্বপ্নের বনানী শাখায় কাজ বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এসময় বিদেশে রপ্ত কৌশল প্রয়োগ করে তিনি বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম।

বুধবার পাঁচটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত শরিফুল ইসলামকে নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তার কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্যাংকের ১ হাজার ৪০০টি ক্লোন কার্ড, একটি ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ কার্ড রিডার ও রাইটার, তিনটি পজ মেশিন, সচল ডিজিটাল হাতঘড়ি (গ্রাহকদের তথ্য চুরিতে ব্যবহৃত), দুটি মিনি কার্ড রিডার ডিভাইস, ১৪টি পাসপোর্ট, আটটি মোবাইল ফোনসেট, ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের একটি নেক্সাস ক্রেডিট কার্ড, একটি পরচুলা ও একটি কালো রঙের সানগ্লাস, তিনটি এনআইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাঁচটি ব্যাংকের (ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইবিএল, ইউসিবিএল, ব্যাংক এশিয়া) কার্ড জালিয়াতির ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। এক পর্যায়ে এর সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পান। যারা ব্যাংকের গ্রাহকেরা যখন বিভিন্ন সুপার শপ ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে যান, তখন এই চক্রটি সুকৌশলে গ্রাহকের তথ্য চুরি ও ক্লোন কার্ড তৈরি করে এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, কার্ড জালিয়াত চক্রটির মূল হোতা শরিফুল ইসলাম। তদন্তে আমরা জানতে পারি, সে ডিপার্টমেন্টাল শপ স্বপ্নের বনানী শাখায় কাজ করতো। তার হাতঘড়িতে থাকা বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইসের মাধ্যমে সে গ্রাহকদের এটিএম কার্ডের তথ্য চুরি করতো।

এরপর বাসায় গিয়ে তার ল্যাপটপ এবং ডিভাইসের মাধ্যমে কাস্টমারের তথ্যগুলো ভার্জিন কার্ড বা খালি কার্ডে স্থাপন করে ক্লোন এটিএম কার্ড বানাতো। পরে যেকোনও এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে নিতো। বুথে টাকা তোলার সময় সিসি ক্যামেরায় যাতে তাকে চেনা না যায় সে জন্য প্রতারক পরচুলা এবং চশমা ব্যবহার করা হতো।

তিনি আরও জানান, স্বপ্নে চাকরি করলেও শরিফুলের মূল পেশা ছিল ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি। মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিলাসবহুল জীবন যাপন করতেন। তাঁর ব্যক্তিগত চলাচলের জন্য টয়োটা এলিয়ন মডেলের গাড়ি ব্যবহার করতেন তিনি। তাঁর ব্যাংক হিসাবে কয়েক কোটি টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

সিআইডি জানায়, প্রতারক শরিফুল ইসলাম মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামের ইয়াজ উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। সে মেহেরপুর হাট বোয়ালীয়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০০১ সালে এসএসসি এবং গাংনী ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০০৩ সালে এইচএসসি পাস করে। এরপর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য রাশিয়া যান। সেখানে খনি প্রকৌশল বিষয়ের ওপর তিন বছরমেয়াদি ডিগ্রি নেওয়ার পর ২০১০ সালে বাংলাদেশে ফেরত আসেন।

রাশিয়ায় প্রকৌশল পড়ার সময় তাঁর রুমমেট ছিলেন ইভানোভিচ নামের এক ব্যক্তি। তিনি রাশিয়ার নাগরিক। ইভানোভিচের কাছ থেকে ক্রেডিট কার্ড প্রতারণার কৌশল শেখেন শরিফুল।দেশে আসার পরপরই কার্ড জালিয়াতিতে নেমে পড়েন। ২০১৩ সালে এ-সংক্রান্ত দুটি মামলায় ১৮ মাসের জেলও খেটেছেন শরিফুল। এপর কিছুদিন শিক্ষার্থী কনসালটিং ফার্ম খোলেন। সেখানে সুবিধা করতে না পেরে ফের কার্ড জালিয়াতি শুরু করেন।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?