মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০৬:১১:৪৭

জেল নয়, যেন ফাইভ স্টার হোটেল!

জেল নয়, যেন ফাইভ স্টার হোটেল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ‘জেল’-এর কথা শুনলেই যে কেউ আঁতকে উঠবেন। কারণ জেল মানে এক নরক যন্ত্রণার কথা মনে হয়। অন্তত দেশের জেলগুলির করুণ পরিস্থিতি নিয়ে বারবার অভিযোগ ওঠায় এ কথা বলাই যায়। জেল শুধু একটি শরীরকেই বন্দি করে রাখে না, বন্দির মনকেও চার দেয়ালে আবদ্ধ রাখে। দীর্ঘদিন কোনো আসামি বন্দি হয়ে থাকলে, তার মানসিক অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়।

কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের দেশে জেলের করুণ অবকাঠামোয় আসামির মানসিক পরিবর্তন কতটা সম্ভব, তা হলফ করে বলতে পারেন না মনোবিদরাও। আম জনতা ওই জেলে কোনোভাবে জীবনযাপন করলেও, ভিআইপি অভিযুক্তরা নিজেদের কোনোভাবেই দেশের ‘খাঁচায়’ বন্দি করার ঝুঁকি নেন না। বরং আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তাদের 'জেলে দমবন্ধ হয়ে যাবে' বলতে শোনা যায়।

ভিআইপি'দের এহেন মন্তব্যে স্বভাবতই কৌতূহল জাগে, তাহলে বিদেশের জেল আসলে কেমন হয়? কী এমন পরিষেবা মেলে সেখানে?

লিকার ব্যারন তো বলেই ফেলেছেন, তার বরাতে বিদেশি জেলের একটি কক্ষ জুটলেও তিনি স্বস্তি পাবেন! আসুন, তাহলে এক নজরে দেখে নেয়া যাক এমন কিছু 'ভিআইপি জেল'।

অ্যারনজুয়েজ কারাগার:

উপরে যে ছবিটি দেখছেন এটি কারও ব্যক্তিগত ঘর নয়। স্পেনের অ্যারনজুয়েজ কারাগার। এই জেলে পরিবার নিয়ে এক সঙ্গে সময় কাটানোর ব্যবস্থা আছে। চারপাশ রীতিমতো খোলামেলা, দেয়ালে নানা কার্টুনের ছবিও দেখা যাচ্ছে। জেলের ভিতরেই রয়েছে খেলার মাঠ, স্কুল সবই।

ব্যাসটয় জেল:

নরওয়ের সবচেয়ে কম নিরপত্তাসম্পন্ন জেল এটি। হর্টেন মিউনিসিপ্যালিটির ওসলো ফিয়োর্ডে গোটা একটা দ্বীপ জুড়েই এই জেল। এখানে দোকান, লাইব্রেরি, অফিস, স্কুল, গির্জা সবকিছুই রয়েছে। আসামিদের মধ্য যারা গুরুতর অপরাধী তাদের ক্ষেত্রে কিছু শর্তসাপেক্ষ নিয়ম থাকে। আর বাকিদের রয়েছে ‘অবাধ’ স্বাধীনতা।

হালডেন জেল:

নরওয়ের এই জেলটি সবচেয়ে কড়া নিরাপত্তাসম্পন্ন জেল। এমনকি নরওয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেল এটি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আসামিদের এই জেলে রাখা হয়। বাইরে কড়া নিরাপত্তা থাকলেও অভ্যন্তরে বেশ খোলামেলা পরিবেশ। ২০১০ সালে তৈরি হয় এই জেলটি মূলত পুর্নবাসনের জন্য ব্যবহার করা হয়।

ওনোমোচি জেল:

জাপানের এই জেলে সাধারণত বৃদ্ধ আসামিদের রাখা হয়। দৈনন্দিন জীবনের সব ধরনের সুবিধা রয়েছে এই জেলে।
নরগারহেভেন জেল:

নেদারল্যান্ডসের এই জেলে প্রত্যেক আসামির জন্যই নরম বিছানা, ফ্রিজ, টেলিভিশন, আসবাবপত্র এবং অ্যাটাচড বাথরুম বরাদ্দ রয়েছে।

এইচএমপি অ্যাডিওয়েল জেল:

স্কটল্যান্ডের এই জেলে আসামিদের নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। জেলটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অসাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশ। এখানে আসামিরা পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।
ব্ল্যাক ডলফিন জেল:

সার্বক্ষণিক কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা রয়েছে রাশিয়ার এই জেলটিতে। সঙ্গে চলছে সিসিটিভি'র নজরদারি। হাই প্রোফাইল অপরাধীদের এখানেই রাখা হয়।
চ্যাম্প-দোলোন জেল:

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ১৯৭৭ সালে তৈরি হয় এই জেল। সাধারণত অভিযুক্তদের রাখা হয় এখানে। বর্তমানে ১১৫টি দেশের অভিযুক্ত রয়েছে এই জেলে।
ল্যান্ডসবার্গ জেল:

জার্মানির এই জেলেই জীবনের একটা সময় কাটিয়েছেন হিটলার। এখানে বসেই লিখেছেন ‘মাইন ক্যাম্ফ’। আসামিদের জন্য সব ধরনের সুবিধা রয়েছে। এছাড়া এখানে আসামিদের ৩৬টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
জাতিসংঘের জেল:

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের এই জেল তৈরি হয় ১৯৩৩ সালে। আন্তর্জাতিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত অভিযুক্তকে এই জেলে রাখা হয়। এটিকে বলা হয় দ্য ইউনাইটেড নেশনস ডিটেনশন ইউনিট (ইউএনডিইউ)।

উপরের জেলগুলো সম্পর্কে জেনে আপনার কি মনে হয়? এগুলো কি শুধুই ভিআইপি জেল? না, তার চেয়েও বেশি কিছু। জীবনমান ও সুযোগ-সুবিধার বিচারে ফাইভ স্টার হোটেলের কম নয়। তাই এগুলোকে 'ফাইভ স্টার জেল' বলাই যুক্তিযুক্ত।

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?