রবিবার, ২১ জানুয়ারী ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৫ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৮:০১:২৫

অর্থবছরের প্রথমার্ধে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ৭.১৫%

অর্থবছরের প্রথমার্ধে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ৭.১৫%

ঢাকা: ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) দেশের রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। এ সময়ে রফতানি খাত থেকে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ৭৯১ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে এ আয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৭২ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এ হিসাবে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রফতানি আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। গতকাল রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইপিবির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত অর্থবছরের প্রথমার্ধে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ, ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ, ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ ও ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত ছয় অর্থবছরের প্রথমার্ধের হিসাব বিবেচনায় নিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রফতানি আয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ইপিবির প্রতিবেদনে একক মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সদ্যসমাপ্ত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে দেশের রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ সময়ে রফতানি খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৩৫ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার ডলার। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে রফতানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৩০৯ কোটি ২৬ লাখ ডলার। ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ডিসেম্বর মাসে রফতানি আয় বেড়েছিল যথাক্রমে ১৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ ও ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক। সে সময় রফতানি আয় কমেছিল ৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

প্রাথমিক ও উৎপাদনমুখী শিল্প— এ দুই ভাগে রফতানি আয়ের মোট পরিমাণ প্রকাশ করে ইপিবি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে উৎপাদনমুখী শিল্পপণ্যের রফতানি আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আর প্রাথমিক পণ্য রফতানিতে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ।

প্রাথমিক শিল্পপণ্যের মধ্যে রয়েছে হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং কৃষি। জুলাই-ডিসেম্বরে হিমায়িত খাদ্য ও মাছ রফতানিতে আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। এ খাতে মোট আয় হয়েছে ৩১ কোটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার, গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২৯ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কৃষিপণ্য রফতানি থেকে আয় বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

উৎপাদনমুখী শিল্পপণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— প্লাস্টিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, ফার্নিচার ও প্রকৌশল পণ্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ছয় মাসে প্লাস্টিক খাতের আয় কমেছে ২৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের আয় কমেছে ১ দশমিক ২১ শতাংশ। পাট ও পাটজাত পণ্যের আয় বেড়েছে ২১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তৈরি পোশাক খাতে ওভেন ও নিট পণ্যের আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এর মধ্যে ওভেন পণ্যের আয় বেড়েছে ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। আর নিট পণ্যের আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। অন্যদিকে প্রকৌশল পণ্যে রফতানি আয় কমেছে ৩২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

রফতানিকারকরা বলছেন, রফতানি খাতগুলো এখনো বহুমুখী হয়ে উঠতে পারেনি। মোট রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশের উৎস এখনো তৈরি পোশাক। পণ্যটির রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলেই সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক ফল দেখা যাচ্ছে।

পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও রফতানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, রফতানি খাতকে টেকসই করতে পণ্য বৈচিত্র্যকরণের বিকল্প নেই। এজন্য সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অবকাঠামো থেকে শুরু করে কর্মীদের দক্ষতা— সব ক্ষেত্রেই সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এছাড়া রফতানি খাতকে আরো সুসংহত করতে নীতিগত ও নগদ প্রণোদনা বাড়াতে হবে। সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পোশাক খাত নির্ভরশীলতা কাটিয়ে বহুমুখী শিল্পায়ন নিশ্চিত করাই আমাদের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ।

 

আজকের প্রশ্ন

শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। জাতির জন্য এমন পরামর্শ ভয়ানক নয় কি?