রবিবার, ২১ জানুয়ারী ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০১৮, ০১:৩২:৫১

পাটপণ্য নতুন আশা জাগাচ্ছে

পাটপণ্য নতুন আশা জাগাচ্ছে

ঢাকা : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বহুমুখী পাটপণ্যের খাতটি দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ বাস্তবায়নের ফলে স্থানীয় বাজারে পাটপণ্যের বিক্রি ও চাহিদা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জানা গেছে, বহুমুখী পাটপণ্য বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১১৮টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
 
এদিকে পাটের সুদিন ফেরাতে গঠন করা হয়েছে চার হাজার ৮০০ কোটি টাকার তহবিল। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে পাট পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচাপাট ক্রয়ে ২ শতাংশ হার সুদে এ তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা পাবেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের এ উদ্যোগ খুবই ইতিবাচক। একইসঙ্গে পাটের যে দৈন্যদশা এতদিন ছিল, শিগগিরই তা কাটিয়ে সোনালি আঁশের সুনামে ফিরবে।
 
জানা গেছে, অন্যান্য সেক্টরের শিল্পগুলোতে ইডিএফের ঋণ ১৯৮৮ সাল থেকে লাইবর (এলআইবিওআর) ১ শতাংশ, বর্তমানে ২ দশমিক ৫ শতাংশে সুদে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ব্যবহার করতে পারছে। কিন্তু পাট শিল্প এ সুবিধার বাইরে ছিল। শতভাগ মূল্য সংযোজিত শ্রমঘন এ শিল্পের উন্নয়ন, বিকাশ ও সম্প্রসারণের জন্য বিশেষ বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইডিএফের আদলে ২ শতাংশ সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়। এপ্রিলে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে পাটবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সভায় এ বিষয়টি আলোচনায় আসে। তখন থেকে চিঠি চালাচালি শুরু হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে। সর্বশেষ ১৩ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চিঠি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়কে।
 
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশ পাট ও পাটপণ্য রপ্তানিতে বিশ্বে প্রথম ও পাট উৎপাদনে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। জাতীয় রপ্তানি আয়ের শতকরা ৪ দশমিক ৯ ভাগ পাটখাত থেকে অর্জিত হচ্ছে। এই খাত রপ্তানি আয়ের বৃহত্তম খাতও বটে।
 
এক পরিসংখ্যাএন দেখানো হয়েছে, ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাসব্যাপী তিন কোটি ৩৪ লাখ পাটের ব্যাগ বিক্রি হয়েছে এবং ব্যাগের বার্ষিক চাহিদা ১০ কোটি ব্যাগ থেকে বেড়ে ৭০ কোটি ব্যাগে উন্নীত হয়েছে।
 
বর্তমানে পাটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এবং ভবিষ্যতে এ হার আরো বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকায় পাট ও পাটপণ্য দেশের অর্থনীতিতে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জিডিপিসি) এর তত্ত্বাবধানে পাটপণ্য বহুমুখীকরণের ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণের ফলে এ পর্যন্ত ২৫০ জন সফল উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে।
 
রাস্তা, বাঁধ, নদীতীর সংরক্ষণ কাজে ব্যবহৃত সিনথেটিক জিও টেক্সটাইল এর পরিবর্তে জুট জিও টেক্সটাইল ব্যবহার পরিবেশ সুরক্ষায় ও স্বল্প খরচে মাটির ক্ষয়রোধে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। ইতিমধ্যেই জুট জিও টেক্সটাইল সফলভাবে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ করা হচ্ছে।
 
জানা গেছে, বিজেএমসি’র বছরে প্রায় ১২শ’ কোটি টাকা মূল্যমানের জুট জিও টেক্সটাইল উৎপাদনে সক্ষম। বেসরকারি পাটকলগুলোও জুট জিও টেক্সটাইল উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে। স্থানীয়ভাবে এলজিইডি, সড়ক ও সেতু বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রেলপথ মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উন্নয়ন কাজে বছরে ৭১৬ দশমিক ৫২ কোটি টাকার জেটজিটি ব্যবহারের চাহিদা রয়েছে।
 
উল্লেখ্য, দেশে ধান, চালসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী পরিবহন, প্লাস্টিক ও পলিথিনের পরিবর্তে পাটের তৈরি ব্যাগ ব্যবহারের জন্য ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ প্রণীত হয়েছে। এই আইনের ধারা-১৪ এ পণ্যে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার না করে কৃত্রিম মোড়ক দিয়ে কোনো পণ্য বা পণ্যসামগ্রী মোড়কজাতকরণ, বিক্রয়, বিতরণ বা সরবরাহ করলে বা করবার অনুমতি প্রদান করলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
 
তাছাড়া ধারা-১৫ এ উল্লিখিত অপরাধ পুনঃসংগঠনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দণ্ডের দ্বিগুণ দণ্ডনীয় হবেন। আইন অনুযায়ী ছয়টি পণ্য অর্থাৎ ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এই আইনটি মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আজকের প্রশ্ন

শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। জাতির জন্য এমন পরামর্শ ভয়ানক নয় কি?