মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৭:২১:২১

বাণিজ্য বাড়াতে গভীর সমুদ্রবন্দর লাগবেই

বাণিজ্য বাড়াতে গভীর সমুদ্রবন্দর লাগবেই

ঢাকা : বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। একুশ শতকের উদীয়মান অর্থনৈতিক পরাশক্তি নিয়ে করা গোল্ডম্যান সাক্সের ‘পরবর্তী ১১’ তালিকায়ও রয়েছে বাংলাদেশের নাম। চলতি বছর বৈদেশিক বাণিজ্য ৭ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত করতে আশাবাদী দক্ষিণ এশিয়ার এই শ্রমঘন দেশটি। সূত্র: কাস্টমস টুডে।
 
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ বাংলাদেশ। ২০২১ সালের মধ্যে পোশাক খাতে প্রতিবছর ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে দেশটি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে স্বভাবতই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও বাড়বে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান সমুদ্রবন্দরগুলো দেশের ব্যবসাবাণিজ্যের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।
 
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রথমেই প্রয়োজন গভীর সমুদ্রবন্দর। কিন্তু স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ৪৬ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশ এখনো নতুন বন্দর স্থাপন করতে পারেনি। বর্তমানে দেশের দুটি সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ও মোংলায় প্রতিবছর ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাণিজ্য হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিবছর জাহাজ আগমন বৃদ্ধির হার ১১ শতাংশেরও বেশি।
 
তবে উভয় সমুদ্রবন্দরেই বড় কন্টেইনারবাহী জাহাজগুলো নোঙর করতে পারে না। এসব জাহাজ গভীর সমুদ্রে নোঙর করার পর সমুদ্রবন্দরগুলোতে পণ্য আনা-নেয়ার জন্য ছোট ছোট জাহাজ বা লাইটারেজ জাহাজ ব্যবহার করা হয়। যার জন্য অতিরিক্ত সময়ের পাশাপাশি খরচও বেশ বাড়ে। পণ্য ওঠা-নামানোর কাজে ব্যবহৃত এসব জাহাজে দৈনিক ১৫ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। আবার বন্দর দুটিতে জাহাজজটের কথাও প্রায়ই শোনা যায়। এসব কারণে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ।
 
এই নেতিবাচক পরিস্থিতির সমাধান মিলতে পারে দেশের গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের মাধ্যমে। কিন্তু একাধিকবার এ ধরনের সমুদ্রবন্দর নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়ার পরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে অনেক সমস্যাও চিহ্নিত হয়েছে। এগুলো জায়গার অভাব, বিনিয়োগকারীদের ঘাটতি, এমনকি আন্তর্জাতিক সহায়তার অভাব নয়। বরং বাংলাদেশে নতুন গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে মূল সমস্যা রাজনৈতিক ক্ষমতাবানদের ঠেলাঠেলি। তারপরও বাংলাদেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে আগ্রহী চীন, জাপান আর ভারত।
 
এদিকে ছোট দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পর স্বভাবতই বঙ্গোপসাগর বিধৌত বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহুলাংশে বেড়েছে। সৃষ্টি হয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনা।
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী হওয়ায় বাংলাদেশের রয়েছে অন্যতম বাণিজ্যিক সুবিধা। কারণ ভারত মহাসাগরের সাথে বিশ্বের ২৫ শতাংশ ভূখণ্ডের যোগ রয়েছে। এছাড়া ৪০ শতাংশ তেল ও গ্যা্সের রিজার্ভ এই অঞ্চলেই। তাই ভারত মহাসাগর বিশ্বের ব্যস্ততম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিপিং লেন, যা মধ্যপ্রাচ্য থেকে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে তেল সরবরাহ করে।
 
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান ব্যবসা-বাণিজ্য এগিয়ে নিতে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ জরুরি। তারা মনে করছেন, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর আন্তর্জাতিক নৌপথের নিকটবর্তী এবং সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত না হলে দেশটি তার বিশাল সমুদ্র এলাকা ও ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা লাভে সফল হবে না। তাই সময় নষ্ট না করে এ বিষয়ে দ্রুত কাজ শুরু দরকার।
 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?