বুধবার, ২৩ মে ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ১১ মে, ২০১৮, ১১:২৬:০৯

তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ঈদের অগ্রিম টিকিট

তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ঈদের অগ্রিম টিকিট

ঢাকা: ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য বাস ও ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়নি এখনও। তবে তার আগেই আকাশপথে উড়োজাহাজের প্রায় ৯০ শতাংশ টিকিট শেষ। এছাড়া কিছু টিকিট অবশিষ্ট থাকলেও নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে তিনগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে এসব টিকিট। ঈদ উপলক্ষে সংকট মোকাবিলায় কিছু কিছু রুটে ফ্লাইট বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইন কোম্পানিগুলো।

অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে দেশের চারটি এয়ারলাইন কোম্পানি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, নভোএয়ার, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা  সাতটি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
রুটগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী ও বরিশাল। নভোএয়ারের ফ্লাইট পরিচালনা করা  হচ্ছে ছয়টি রুটে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, রাজশাহী, যশোর ও সৈয়দপুর। অন্যদিকে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ফ্লাইট পরিচালনা করছে চারটি রুটে যশোর, সৈয়দপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ঈদ উপলক্ষে আকাশপথে উড়োজাহাজে বিভিন্ন পথে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। সৈয়দপুর রুটে যাত্রীদের ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাত হাজার ৫০০ থেকে আট হাজার ৫০০ টাকা। যশোর রুটে টিকিট বিক্রি হচ্ছে সাত হাজার ৫০০ টাকায়, বরিশালে ছয় হাজার ৫০০ থেকে সাত হাজার ৫০০ টাকায়। এছাড়া রাজশাহী রুটে টিকিট বিক্রি হচ্ছে সাত হাজার ৫০০ টাকায়। অন্যদিকে চট্টগ্রামে ফ্লাইট বেশি থাকায় বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ছয় হাজার টাকায়, কক্সবাজার রুটে বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৫০০ থেকে শুরু করে সাত হাজার টাকায় এবং সিলেট রুটে তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকায়।
ঈদ ছাড়া অফ সিজনে সাধারণত এই রুটগুলোতে ভাড়া কম থাকে। যেমন: সৈয়দপুর রুটে অফ সিজনে অর্থাৎ সাধারণত টিকিট বিক্রি হয় প্রায় দুই হাজার ৫০০ টাকা। যশোর রুটে প্রায় দুই হাজার ৫০০ টাকায়। বরিশাল রুটে প্রায় তিন হাজার, রাজশাহী রুটে প্রায় তিন হাজার, চট্টগ্রাম রুটে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। কক্সবাজার রুটে প্রায় তিন হাজার ৫০০ টাকায়। এছাড়া সিলেট রুটে প্রায় দুই হাজার ৫০০ টাকায়। অর্থাৎ ঈদ উপলক্ষে প্রতিটি টিকিটে দুই থেকে তিনগুণ দাম বেশি নিচ্ছে এয়ারলাইন কোম্পানিগুলো।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, আকাশপথে যাত্রীদের যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত ও নিরাপদ হওয়ায় উড়োজাহাজে আগ্রহ বাড়ছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে গ্রাহকরা সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকেই ঈদের টিকিট সংগ্রহ করে থাকে। ইতোমধ্যেই সৈয়দপুর ও রাজশাহী রুটের টিকিট শেষ হয়েছে। কিছু কিছু রুটে সীমিত সংখ্যক টিকিট অবশিষ্ট থাকলেও তা অনেক চড়া দামে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিমানের সহকারী ম্যানেজার (জনসংযোগ) তাসমিন আক্তার বলেন, ‘ইতোমধ্যেই রাজশাহী ও সৈয়দপুরের টিকিট শেষ হয়েছে। অন্যান্য রুটের প্রায় ৯০ শতাংশ টিকিট শেষ। তবে ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ বিমান রাজশাহী ও সৈয়দপুরে রুটে কিছু ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। কোন রুটে কয়টি ফ্লাইট বাড়ানো হবে, আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।’
এয়ারলাইনসগুলোর তথ্যমতে, প্রায় প্রতিটি এয়ারলাইনসের ৯০ শতাংশ ঈদের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। ঈদের আগে ঢাকা থেকে ছয়টি রুটে এবং ঈদের পর ছয়টি রুট থেকে ঢাকামুখী টিকিটের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি বাই রুট ও নৌ রুটে ভোগান্তি বেশি থাকায় আকাশপথে যাত্রীদের চাহিদা বাড়ছে। অনেক যাত্রী ফেব্রুয়ারি থেকেই ঈদের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করে থাকে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ  বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে যশোর, রাজশাহী, সৈয়দপুর ও বরিশালে চাপ বেশি থাকে। এই এলাকাগুলোর টিকিট তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। চট্টগ্রামে সব এয়ারলাইনের অনেক ফ্লাইট থাকে, যে কারণে চট্টগ্রামে চাপ তুলনামূলকভাবে একটু কম থাকে, তবে ঈদের পরে চট্টগ্রামে চাপ অনেক বেশি থাকে। তবে অন্যান্য এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আমরা টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করছি।’

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ঈদ উপলক্ষে এয়ারলাইন কোম্পানিগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে নভোএয়ারের প্রায় ৮০ শতাংশ, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের প্রায় ৯০ শতাংশ ও ইউএস-বাংলার বিক্রি হয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশের মতো।

জানতে চাইলে নভোএয়ারের সিনিয়র মার্কেটিং ম্যানেজার একেএম মাহফুজুল আলম বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে টিকিট বিক্রি প্রায় প্রতিদিন বাড়ছে। মূলত লং টাইম হাতে রেখে টিকিট কিনলে সাশ্রয়ী মূল্যে টিকিট সংগ্রহ করা যায়। তাছাড়া যে কোনো সময় টিকিটের মূল্য ছেড়ে যায়। যে কারণে অনেক গ্রাহক আগে থেকেই টিকিট সংগ্রহ করে রেখেছেন। এছাড়া রোজার মাসে খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া মানুষ বাইরে বের হতে চায় না। যে কারণে অনেক গ্রাহক এখন অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করছেন।’ ঈদে সাধারণত সব ধরনের টিকিটের মূল্য বেড়ে যায় বলেও জানান তিনি।

আজকের প্রশ্ন

খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটকে ‘প্রহসন’ বলেছেন বিএনপি ও বামপন্থিরা। আপনি কি একমত?