সোমবার, ১৬ জুলাই ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ০৯ জুলাই, ২০১৮, ০৯:১১:৩৬

বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা মার্কিন সয়াবিনচাষীদের

বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা মার্কিন সয়াবিনচাষীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা ও মার্কিন শ্রমবাজার সুরক্ষা এবং চীনের অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা প্রতিহত করতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটির সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করলেও এ পদক্ষেপের সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে মার্কিন কৃষক, বিশেষত সয়াবিন উৎপাদকদের ওপর। খবর সিএনএন, এএফপি।

গত শুক্রবার থেকে চীনের ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের আমদানি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক কার্যকর হলে চীনও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সমমূল্যের বেশকিছু মার্কিন পণ্যের ওপর সমহারে শুল্ক কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।

বেইজিং এখনো শুল্কের আওতায় থাকা পণ্যগুলোর তালিকা সম্পূর্ণ না করলেও এর মধ্যে সয়াবিনসহ বেশকিছু কৃষিপণ্য থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে। কৃষিপণ্যের ওপর এ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হলে সরবরাহ শৃঙ্খল বাধাগ্রস্ত হবে এবং উৎপাদকদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, এই অতিরিক্ত খরচের দায় তারা নিজেদের কাঁধেই নেবেন নাকি মূল্য বাড়িয়ে সেটি ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেবেন। আবার মূল্যবৃদ্ধিতে চাহিদা কমে গেলে সেটি কর্মসংস্থানও হ্রাস করবে।

মার্কিন কৃষি খাতের বেশকিছু অঞ্চল দেশটির মধ্য-পশ্চিম এবং দক্ষিণের প্রদেশগুলোয় অবস্থিত। এসব অঞ্চলে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রচারক ট্রাম্প বিগত নির্বাচনে ভালো ফল করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

তবে নির্বাচনে ট্রাম্পের নীতি সমর্থন করলেও শুল্কের প্রভাবে নিজেদের ক্ষতি এড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনকে ভিন্ন উপায়ে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য দ্বন্দ্ব নিরসনের আহ্বান জানাচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

আইওয়া রাজ্যের একজন কৃষক ও আমেরিকান সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জন হেইসডরফার এক বিবৃতিতে বলেন, সয়াবিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কৃষি রফতানি পণ্য এবং চীন এর সবচেয়ে বড় ক্রেতা। অংকটা খুব সরল। আপনি যদি সয়াবিন রফতানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, তবে সেটি মার্কিন কৃষকদের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে। তিনি আরো জানান, গ্রুপটি এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে এ শুল্কের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অবস্থা তুলে ধরার প্রচারণা শুরু করেছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের যে ১৮টি প্রদেশে দেশটির মোট সয়াবিনের ৯৬ শতাংশ উৎপাদিত হয়, সেগুলোর মধ্যে ইলিনয় ও মিনেসোটা বাদে বাকিগুলোয় হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে ট্রাম্প ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

সয়াবিনের উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং বিদেশে চাহিদা থাকায় মার্কিন কৃষকদের জন্য এ শস্যটি বেশ লাভজনক। তবে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কায় মে মাস থেকে এর দাম পড়তির দিকে। কেন্টাকির ৫২ বছর বয়সী কৃষক ডেভি স্টিফেন্স বলেন, এখন স্বল্প মেয়াদে আমাদেরকেই আঘাত সইতে হচ্ছে।

অন্যদিকে সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশনের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের সদস্য ও কৃষক ওয়েইন ফ্রেডেরিকস বলেন, যত দিন যাবে চীন এবং অন্য ক্রেতারা সয়াবিনের জন্য অন্য বিকল্প খুঁজতে থাকবেন।

মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবাণিজ্য বিশেষজ্ঞ মাইকেল বোল্যান্ড মনে করেন, যতদিন শুল্ক বহাল থাকবে, ততদিন কৃষকদের জন্য সেটি বোঝা হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, সয়াবিন উৎপাদকরা এরই মধ্যেই শস্য বপন করেছেন এবং তাদের খুব একটা মুনাফা হচ্ছে না। শুল্কের ফলে এ মুনাফা আরো কমে শূন্য কিংবা লোকসানে পরিণত হতে পারে।

হার্ভার্ডের কৃষক টেরি ডেভিডসন মনে করছেন, কৃষকদের প্রতিবাদে প্রশাসন শুল্কনীতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটকে ‘প্রহসন’ বলেছেন বিএনপি ও বামপন্থিরা। আপনি কি একমত?