শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ২৫ জুন, ২০১৮, ১২:৩৯:১৮

লেবু বিক্রেতা থেকে প্রেসিডেন্ট

লেবু বিক্রেতা থেকে প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কের নির্বাচনে আবারও বিজয়ী হয়েছেন দেশটির জনপ্রিয় নেতা রজব তাইয়েব এরদোয়ান। তিনি হতে যাচ্ছেন তুরস্কের নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন রাষ্ট্রপতি। সেই সঙ্গে জয় পেয়েছে তার দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি। সংসদে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারাও। তবে আজকের এই অবস্থানে উঠে আসা সহজ ছিল না এরদোয়ানের জন্য।

এক সময় এরদোয়ান রাস্তায় লেবু বিক্রি করতেন। তিনি এখন আধুনিক তুরস্কের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা। সমর্থকরা তাকে দেশের রক্ষাকর্তা হিসেবে দেখে থাকেন। ধর্মপরায়ণ তবে ক্যারিশমেটিক প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান প্রথমে ছিলেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রেসিডেন্ট হন।

তিনি আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত মুস্তফা কামাল আতাতুর্কের পর সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শাসক। ‘সুলতান’ হিসেবে খ্যাত এরদোয়ানকে ক্ষমতায় আসার পর গেজি পার্কে কয়েক মাসের বিক্ষোভ সহ্য করতে হয়েছে। তবে এক দশকে তুরস্কের নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধির জন্য বিশ্বব্যাপী নন্দিত তিনি।

তিনি বলেছিলেন, ‘আমি একনায়ক নই, এটা আমার রক্তে নেই।’ তুরস্কের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এবং ধর্মপরায়ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তার সৃদঢ় সমর্থন রয়েছে, যারা তার শাসনে উন্নতি লাভ করেছেন। দা ওয়াশিংটন ইন্সটিটিউটের তুরস্ক বিষয়ক গবেষক সোনার ক্যাগাপ্তে বলেন, এরদোয়ানের অর্থনৈতিক রেকর্ড এবং কর্তৃত্ববাদী মজলুম হিসেবে তার ইমেজই তাকে প্রেসিডেন্ট পদে জয় এনে দেবে।

তুরস্কে কয়েক দশকের ঘনঘন সামরিক অভ্যুত্থান এবং দুর্বল জোট সরকারের পর স্থিতিশীল সরকার উপহার দেয়ার জন্য এরদোয়ানের প্রশংসা করা হয়।

তিনি শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর লাগাম টেনে ধরেছেন। নতুন ব্রিজ, বিমানবন্দর অন্যান্য বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি এক সময়ের তলাবিহীন তুরস্ককে শক্তিশালী বাজারে পরিণত করেছেন। তার শাসনামলে সাধারণ তুর্কিদের আয় তিনগুণ বেড়েছে। মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরেছেন তিনি।

ইস্তাম্বুলের পার্শ্ববর্তী কাসিমপাশায় জন্ম নেয়া এরদোয়ানের বাবা ছিলেন একজন কোস্টগার্ড কর্মকর্তা। কিশোর বয়সে রাস্তায় রুটি এবং লেবু বিক্রি করতেন এরদোগান। তরুণ বয়সে ইসলামিক ইয়ুথ সংগঠনে যোগদান করেন তিনি। এ সংগঠনটি তুরস্কের কট্টর সেক্যুলার নীতির বিরোধিতা করে।

এক সময়ে আধা-পেশাদার হিসেবে ফুটবল খেলোয়াড় এবং ব্যবসায় শিক্ষায় স্নাতক ডিগ্রিধারী এরদোয়ান ১৯৯৪ সালে ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি দেড় কোটি লোকের এ শহরটির ট্রাফিক জাম এবং বায়ু দূষণ রোধে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যখন তার ইসলামঘেষা দলকে নিষিদ্ধ করা হয় তখন বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এ সময় একটি ইসলামি কবিতা পাঠ করেন।

সেই কবিতাটি ছিল এরকম, ‘মসজিদ আমাদের ব্যারাক, গম্বুজ আমাদের হেলমেট, মিনার আমাদের বেয়নেট এবং ঈমানদাররা আমাদের সৈনিক।’ এই কবিতার মধ্যে ধর্মীয় উসকানির গন্ধ পায় সেক্যুলার শাসকরা। তবে এরদোয়ান বারবারই এ কবিতা আবৃত্তি করেন। তাকে কারাগারে নেয়া হয়।

২০০১ সালে এরদোয়ান এবং তার সহযোগী আবদুল্লাহ গুল ইসলামঘেষা জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) গঠন করেন। পরের বছরের নির্বাচনে দলটি ভূমিধস বিজয় অর্জন করে। এরপর আরো দুটি সংসদ নির্বাচনেও জয় পায় একেপি। এবার আরও একটি নির্বাচনে জয় পেলো এরদোয়ানের দল।

দেশবাসী বিশাল বিশাল নির্বাচনী প্রচারাভিযানে তিনি বিরামহীন অংশ নেন। অসুস্থতাও তাকে থামাতে পারে না। নির্বাচনী প্রচারণার মাঝেই হয়তো স্থানীয় কোনো ফুটবল খেলায় মেতে ওঠেন তিনি।

তুরস্ককে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য করতে দেশে ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুসলিম রাষ্ট্র তুরস্ককে সদস্যপদ দিতে গড়িমসি করায় ক্ষুব্ধ এরদোয়ান বলেন, ইইউর সদস্যপদের জন্য তুরস্ক অনাদিকাল অপেক্ষা করবে না।

সাম্প্রতিক সময়ে এরদোয়ান তুরস্কে সেক্যুলারদের প্রবর্তিত হিজাবের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেছেন। মদ বিক্রিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছেন তিনি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছেলেমেয়েদের সহ-অবস্থান নিষিদ্ধ করেছেন। এরদোয়ান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে ইসলামিক সংস্কৃতি এবং গণতন্ত্র একত্রে চলতে পারে না।’

রাজনৈতিক জীবনে ১৯৯৪ সালে প্রথম ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হন এরদোয়ান। ২০০৩ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী। ২০০২ সালে এরদোয়ানের দল ক্ষমতায় এলেও আইনি বিধিনিষেধের কারণে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি তিনি। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ সহচর আবদুল্লাহ গুল। পরে বাধা কাটিয়ে ২০০৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তিনি। ২০১৪ সালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা নেন এরদোয়ান। তবে তা ছিল সংসদীয় পদ্ধতির। এবারের নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে নির্বাহী ক্ষমতা পেলেন তিনি।

২০১৬ সালের ১৫ জুলাই এরদোয়ানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে তুরস্কের সেনাবাহিনীর একটি অংশ। তবে জনগণের প্রতিরোধের মুখে তা সফল হয়নি। ওই ঘটনার পর তুরস্কে এরদোয়ানের জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়।

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?