শুক্রবার, ২০ জুলাই ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০১ জুলাই, ২০১৮, ১২:১১:১৪

মালদ্বীপ থেকে ভারতকে শক্তি প্রয়োগে বের করে দিচ্ছে চীন

মালদ্বীপ থেকে ভারতকে শক্তি প্রয়োগে বের করে দিচ্ছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এশিয়ার বড় দুই শক্তির মাঝখানে এখন দুটো হেলিকপ্টার দাঁড়িয়ে আছে। মালদ্বীপের কাছ থেকে হাল ধ্রুব ইউটিলিটি হেলিকপ্টারটি ফিরিয়ে নেয়ার সময়সীমা ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে। চীনের দিক থেকে মারাত্মক চাপের কারণেই এটা করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

হেলিকপ্টার বিষয় হিসেবে তেমন গুরুত্বপূর্ণ না হলেও এটা ফিরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে ভারতের প্রভাব আরও কমে যাবে।

মালদ্বীপের ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুটো ধ্রব হেলিকপ্টার, ছয়জন পাইলট এবং ডজনখানিক টেকনিশিয়ান রয়েছে যারা কপ্টারদুটো দেখভালের কাজ করে। নজরদারি এবং উদ্ধারকাজে সাহায্য করা ছাড়াও এই হেলিকপ্টার দুটো দুই দেশের সরকারের মধ্যে যোগাযোগের একটা সূত্র।

একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন রয়েছে সাউদার্ন আইল্যান্ডে যেখানে আদ্দু শহরের অবস্থান। এই শহরে বন্দর নির্মাণ করছে চীন। দ্বিতীয়টি কম বসতিপূর্ণ লামু দ্বীপে। কিন্তু এগুলো দেখভালের জন্য যে ১৮ জন ভারতীয় ক্রু রয়েছেন, তাদের ভিসা নবায়ন করবে না মালদ্বীপ। দুই ঘাঁটির মাঝামাঝি রয়েছে হুভাধু কান্ডু বা মার্কিন সামরিক বাহিনী যেটাকে বলে ওয়ান অ্যান্ড হাফ ডিগ্রি চ্যানেল- যেটা গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ পরিবহন চ্যানেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

চীনের বিনিয়োগ বাড়ার সাথে সাথে ভারতের এই হেলিকপ্টারগুলো ওখান থেকে বেরিয়ে আসছে।

ভারত মহাসাগরে ৫০০ মাইলেরও বেশি জায়গা নিয়ে বিস্তৃত মালদ্বীপ। চীনের কাছ থেকে শত শত মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পাচ্ছে তারা। এর মধ্যে দুই দ্বীপের মধ্যে সেতু নির্মাণ, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, বসতিহীন পর্যটন দ্বীপ ফেইধু ফিনোলহুকে ৫০ বছরের জন্য লিজ দেয়া, রিসোর্ট উন্নয়ন, সোলার জ্বালানি এবং হাজার হাজার ঘর নির্মাণ, হুলহুমালেতে বিমানবন্দর ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার মতো বিষয়গুলো নিয়ে চীনের সাথে মালদ্বীপের চুক্তি হয়েছে।

ভারত মহাসাগরে চীনের যে বাণিজ্যিক আকাঙ্ক্ষা, সেটার সাথে এটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। দক্ষিণ চীন সাগর থেকে পাকিস্তান পর্যন্ত গড়ে তোলা বন্দর, বিমানবন্দর ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো মিলিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে যেটাকে বলা হচ্ছে ‘স্ট্রিং অব পার্লস’। এগুলোর মাধ্যমে ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় চীনের শক্তি বৃদ্ধি ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে।

এটা শুধু অর্থনৈতিক কৌশল নয়, এর সামরিক গুরুত্বও রয়েছে।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ভারত মহাসাগরে একটি চীনা নৌ ফ্লোটিলা উদয় হয়। চার বছরের মধ্যে সেটা ছিল প্রথম। চীনের ফ্লোটিলাতে ছিল টাইপ ৫২ডি ডেস্ট্রয়ার চাংশা জাহাজ, টাইপ ৫৪ হেংগিয়াং ফ্রিগেট জাহাজ, রিপ্লেনিশমেন্ট জাহাজ লুওমাহু এবং পরিবহন ডক জাহাজ জিগ্গাংশান।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিন দ্রুত জরুরি অবস্থা জারি করেন। ক্ষমতা এককেন্দ্রীক করার কারণে সহিংসতা দেখা দিয়েছিল সেখানে। ইয়ামিন শীর্ষ বিচারপতি, বিরোধী নেতাকে গ্রেফতার করেন দেশের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেন।

ইয়ামিন ক্ষমতা আঁকড়ে ছিলেন। চীনা ফ্লোটিলা হয়তো তাদের সাহায্য করেছে। ভারতের প্রতি সেটা ছিল একটা বার্তা – মালদ্বীপ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যদি তারা সামরিক হস্তক্ষেপের চিন্তা করে, তাহলে বেইজিংকেও মোকাবেলা করতে হবে তাদের। চীন অবশ্য তাদের নৌবাহিনী কোন উদ্দেশ্যের কথা অস্বীকার করেছে। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, স্বাভাবিক মহড়ার অংশ হিসেবে তাদের জাহাজগুলো ওখানে মোতায়েন করা হয়েছিল।

মালদ্বীপ কর্তৃক ভারতীয় কপ্টার বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে যদি কোন ইঙ্গিত নিতে হয়, সেটা হবে চীনা প্রভাব বৃদ্ধির একটা ইঙ্গিত। আর এর সাথে তুলনা করলে বোঝা যাবে ভারতের অবস্থানের সেখানে অবনতি হয়েছে।
উৎসঃ   সাউথ এশিয়ান মনিটর

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

আজকের প্রশ্ন

খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটকে ‘প্রহসন’ বলেছেন বিএনপি ও বামপন্থিরা। আপনি কি একমত?