শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ০৮ জানুয়ারী, ২০১৮, ১০:০২:৩৪

ঘুম কমতে থাকলে মরতে থাকবে মস্তিষ্ক

ঘুম কমতে থাকলে মরতে থাকবে মস্তিষ্ক

স্বাস্থ্য ডেস্ক : দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুম না হলে আমাদের স্মৃতিশক্তি কমে যেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে নতুন স্মৃতি তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াও বন্ধ হয়ে যায়। শুধু তাই মস্তিষ্কই নয়, শরীরে আরও নানা ধরনের ক্ষতি হতে শুরু করে।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ঠিক মতো ঘুম না হলে মস্তিষ্কের  ভিতর বিটা-অ্যানিলয়েড নামে একটি টক্সিক প্রোটিনের উৎপাদন বাড়তে শুরু করে। ফলে অ্যালঝাইমারসের মতো মস্তিষ্কের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।  আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি তখন মস্তিষ্কের ভিতর একটি বিশেষ প্রক্রিয়া শুরু হয়, যে কারণে এই টক্সিক উপাদানটি শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে থাকে। তাই ঠিক মতো ঘুম না হলে মস্তিষ্ক নিজের কাজ ঠিকঠাক করতে পারে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই টক্সিকের মাত্রা বাড়তে শুরু করে।

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের উপর নানা ধরনের প্রভাব পরে। গবেষণায় দেখা গেছে দিনের পর দিন ঠিক মতো ঘুম না হতে থাকলে শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে। যার প্রভাব অকালে শরীরের বয়স বেড়ে যেতে থাকে। সেই সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং নানাবিধ হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।

তবে, এর থেকে বের হয়ে আসরও সমাধান রয়েছে। কিছু খাবার নিয়মিত খেলে ঘুম সমস্যা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব। যেমন:

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার: যে যে খাবারে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার রয়েছে, যেমন- ব্রকলি, ব্রাউন রাইস, পালং শাক, ফুলকপি, আলু, পেঁপে প্রভৃতি খাওয়া শুরু করলে মস্তিষ্কের ভিতর স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমতে শুরু করে। এই ধরনের হরমোনের মাত্রা যত কমে, তত ঘুমের ব্যাঘাত হওয়ার আশঙ্কা কমে। তাই তো অনিদ্রার সমস্যায় ভুগলে তাহলে প্রতিদিনের ডেয়েটে এই খাবারগুলি রাখলে ঘুম সমস্যা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব।

মাছ: সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় এমনটা দাবি করা হয়েছে যে নিয়মিত মাছ খাওয়া শুরু করলে একদিকে যেমন বুদ্ধির বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে ইনসমনিয়ার মতো রোগের প্রকোপও কমে। আসলে মাছের মধ্যে থাকা ভিটামিন বি৬ দেহের মধ্যে প্রবেশ করার পর মেলাটোনিন নামক একটি হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোনিটির মাত্রা শরীরে যত বাড়তে থাকে, তত সুন্দরভাবে ঘুম হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

চেরির জুস: অনিদ্রাকে দূরে রাখতে এই পানীয়টির কোনও বিকল্প হয় না। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে চেরির অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঘুম আসতে দেরি লাগে না।  আয়ুর্বেদ চিকিৎসকেদের মতে ক্রনিক ইনসমনিয়ায় যারা ভুগছেন, তারা যদি দিনে ২ গ্লাস চেরির রস খেতে পারেন, তাহলে সমস্যা কমতে দ্রুতই কমে যাবে।

 দই: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে ঘুমের পরিমাণ কমতে শুরু করে। তাই দেহে যাতে এই খনিজটির কোনও ঘাটতি দেখা না দেখা দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখাটা একান্ত প্রয়োজন। প্রতিদিন এক বাটি দই অথবা এক গ্লাস করে দুধ খেতে শুরু করুন। দেখবেন কোনও দিন শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হবে না। ফলে ইনসমনিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।

কলা: এই ফলটির শরীরে প্রচুর পরিমাণে মজুত রয়েছে পটাশিয়াম এবং ভিটামিন বি৬। এই দুটি উপাদান মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা কমে। তাই বেশ কয়েকদিন ধরে যদি দেখেন ঠিক মতো ঘুম হচ্ছে না, তাহলে শুতে যাওয়ার কিছু সময় আগে একটা কলা খান। তাহলেই দেখবেন ঘুম আসতে সময় লাগবে না।

কিউই: বেশ কিছু গবেষমায় দেখা গেছে এই ফলটির মধ্যে থাকা ভিটামিন সি, ই, সেরোটনিন এবং ফলেট দেহের ভিতর প্রবেশ করার পর ঘুম আসতে সময় লাগে না। তাই বেশ কিছু দিন ধরে যদি ঠিক মতো ঘুম না হয়ে থাকে তাহলে শুতে য়াওয়ার কিছু সময় আগে একটা কিউই খেতে ভুলবেন না। প্রসঙ্গত, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সাইট্রিস ফল, যেমন- পাতি লেবু, কমলা লেবু এবং মৌসম্বি লেবু খেলেও এক্ষেত্রে সমান উপকার পাওয়া যায়।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?