সোমবার, ২০ আগস্ট ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, ১২:২৭:০১

বসন্তের রোগবালাই থেকে মুক্তির উপায়

 বসন্তের রোগবালাই থেকে মুক্তির উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক : দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেলো শীতকাল। প্রকৃতিতে বসন্ত দুয়ারে কড়া নাড়ছে। এসময় দিনে তাপমাত্রা উষ্ণ থাকলেও রাতে হাল্কা শীত পড়ে। আর এসময়ই হানা দেয় ঠাণ্ডা ও এলার্জিজনিত রোগবালাই। ঋতু পরিবর্তনের সময় এমনটা হওয়া স্বাভাবিক। এগুলো থেকে মুক্তি পেতে চাই একটু সচেতনতা। জেনে নিন এসময় কী কী রোগ বালাই হতে পারে। এগুলোর মুক্তির উপায়ই বা কী।

ঠাণ্ডাজনিত ও সংক্রামক রোগ
বসন্তের উষ্ণ আবহাওয়ায় বিভিন্ন ধরণের ভাইরাস সক্রিয় হয়ে উঠে। আর বাতাসের মাধ্যমে সর্বত্র ছড়িয়ে পরে। এর ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে শুরু করে জলবসন্ত আর হাম জাতীয় রোগের প্রকোপ এ সময়টাতে বেশি দেখা যায়।
বাতাসে ছড়ানোর কারণে এগুলো খুবই সংক্রামক বা ছোঁয়াচে। ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধসহ প্রায় সবাই সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়। এসময় প্রায়ই ২-৩ দিন নাক বন্ধ থাকে, নাক দিয়ে পানি ঝরে, হাঁচির সাথে সাথে গলাব্যথা করে, শুকনা কাশি থাকে, জ্বরও থাকতে পারে।

সিজনাল ফ্লু
এই সময়টাতে সিজনাল ফ্লু ভাইরাস রোগের প্রার্দুভাব দেখা যায়। এই রোগের লক্ষণগুলোও কমন কোল্ডের মতোই। আলাদা কোনো চিকিত্সারও প্রয়োজন হয় না।

জলবসন্ত
জলবসন্ত হলে প্রথমে একটু জ্বর, শরীরে প্রচন্ড ব্যথা আর সর্দি দেখা দেয়। তারপর গায়ে ফোস্কার মতো ছোট ছোট দানা উঠে। সঙ্গে থাকে অস্বস্তিকর চুলকানি, ঢোক গিলতে অসুবিধা, অরুচি ইত্যাদি।

এটাও কোনো মারাত্মক অসুখ নয়। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল, শরীর চুলকালে অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ ক্যালামিন লোশন ইত্যাদি ব্যবহার করলেই রোগের প্রকোপ কমে আসবে। আর সংক্রমণ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

অ্যালার্জি থেকে হাঁপানি
বসন্তে গাছে গাছে থাকে হাজারো ফুলের সমাহার। আর তার সাথে বাতাসে ভেসে বেড়ায় ফুলের পরাগ রেণু। এসব রেণু অ্যালার্জেন হিসেবে কাজ করে। অ্যালার্জি জনিত অ্যাজমা বা হাঁপানির অন্যতম কারণ এই পরাগ রেণু। এর কারণে হাঁপানি, অ্যালার্জিক রাইনাইটিসসহ অন্যান্য অ্যালার্জি জনিত রোগের প্রকোপও বেড়ে যায়।

টনসিল
সাইনোসাইটিস এবং টনসিলাইটিস জাতীয় রোগগুলোও এই সময়ে দেখা দিতে পারে। টনসিলের সমস্যায় শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হয়। হঠাৎ শীত চলে যাবার আগে গরমের শুরুতে ঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রিম খাওয়ার প্রবণতা এর কারণ। এমনকি বাচ্চারা স্কুলে বা অন্যান্য যায়গায় ধূলাবালিতে খেলাধূলা করলেও এসমস্ত রোগ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

পেটের রোগ
ফুসফুসের রোগ ছাড়াও এই সময়টাতে অনেকেই পেটের সমস্যায় ভোগেন। এসময় গরমের কারণে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। আর এসব খাদ্যদ্রব্য খেয়ে অনেকের ডায়রিয়াজনিত রোগব্যাধি এমনকি টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড, জন্ডিস, সাধারণ আমাশয়, রক্ত আমাশয়ও হতে পারে।

প্রতিকার
*ধূলাবালি পরিহার করতে হবে।

*অতিরিক্ত গরমে এড়িয়ে চলতে হবে।

*ঘাম হলে মুছে ফেলুন।

*বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঠান্ডা পানি বা খাবার খাওয়া, ধূলাবালিতে যাওয়া ইত্যাদি পরিহার করলে অনেক রোগ থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব।

*ভাইরাস জনিত অসুখে আক্রান্ত রোগীর কাছ থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকতে হবে।

*ধুলাবালি, পরাগ রেণু থেকে বাঁচতে মুখে মাস্ক ব্যবহার করুন।

* সব সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। যেখানে সেখানে দূষিত পানি বা অন্যান্য পানীয় পান খাওয়া যাবে না। তরল পানীয়ের সঙ্গে লবণ মিশিয়ে পান করা ভালো। ওরস্যালাইনও খাওয়া যায়।

 

 

আজকের প্রশ্ন

খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটকে ‘প্রহসন’ বলেছেন বিএনপি ও বামপন্থিরা। আপনি কি একমত?