বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১১:৪৭:৫৬

প্রেমে সাড়া না দেয়ায় একি কাণ্ড!

প্রেমে সাড়া না দেয়ায় একি কাণ্ড!

ময়মনসিংহ: নগরীর গৌরীপুর উপজেলায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে মারধর ও আপত্তিকর ছবি তোলার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার দেলোয়ার নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর পরিবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্যদের কাছে বিচার চায়। এতে দেলোয়ার ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় ওই পরীক্ষার্থীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে অপহরণের চেষ্টা চলায়। এরপর মেয়ের বাবা থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ এখনো দেলোয়ারকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

দেলোয়ার ও তার লোকজনের ভয়ে ওই মেয়েটির পরিবারের উচ্চ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, প্রাথমিকে অধ্যয়রনত আরো তিন বোন ও এক ভাইয়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দেলোয়ারের বিরুদ্ধে এর আগেও গ্রামের এক মেয়েকে উত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে তারা মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অত্যাচারের শিকার ওই পরিবারটির বাড়ি উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের হতিয়র গ্রামে। ছয় বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে নির্যাতনের শিকার মেয়েটি চতুর্থ। আগামী বছর মেয়েটি স্থানীয় গিধাঊষা হাসন আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী।

ভুক্তভোগীর ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা জানান, বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করতো প্রতিবেশী তারা মিয়ার ছেলে দেলোয়ার। কিন্তু তার প্রস্তাবে রাজি নায় হওয়ায় গত ২৬ নভেম্বর কোচিং থেকে বাড়িতে ফেরার পথে তাকে অপহরণ করে দেলোয়ার। এরপর মেয়েটিকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর ও মেয়েটির আপত্তিকর ছবি তোলে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে মেয়েটিকে ছেড়ে দেয় ওই পাষণ্ড।

মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণের বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্যদের জানালে বখাটে দেলোয়ার ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গত ২৯ নভেম্বর মেয়েটির বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে ফের অপহরণের চেষ্টা চালায়। পরে স্থানীয়রা গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মেয়ের পরিবারে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নির্যাতনের শিকার মেয়েটি জানায়, প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দেলোয়ার আমাকে অপহরণ করে মারধর করে এবং জোরপূর্বক আপত্তিকর ছবিও তোলে। এখন আমি যদি তাকে বিয়ে না করি তাহলে ছবিগুলো ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। এই ঘটনায় আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ঠিকমতো পড়াশোনাও করতে পারছি না।

নির্যাতনের শিকার মেয়েটির বাবা বলেন, ‘থানায় অভিযোগ দেয়ার পর বখাটে দেলোয়ারের লোকজন আমার মেয়েকে আবারও উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। আবার ভিন্ন ভিন্ন লোকের মাধ্যমে দেলোয়ারের পরিবার আমার মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। বখাটেদের কারণে আমার ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। ওরা বাইরে বের হলেই বখাটেরা শিস দিয়ে উত্যক্ত করে, আজে-বাজে কথা বলে। আমি কারো কাছে গিয়ে বিচার পাচ্ছি না। এখন আমার মরণ ছাড়া কোনো উপায় নেই।’

সহনাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা লিটন মিয়া বলেন, ‘দেলোয়ারের বিরুদ্ধে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে মেয়েদের যৌন হয়রানি ও উত্যক্ত কারার অভিযোগ আছে। দেলোয়ার আমার মেয়েকেও উত্যক্ত করতো। আমি প্রতিবাদ করায় সে আমাকে ব্যাপক মারধর করেছে। এ ঘটনার পর আমি মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দিয়েছি।’

দেলোয়ারের মা আলেয়া বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে ওই মেয়েকে অপহরণ করেনি। যদি অপহরণ করতো তাহলে ওই মেয়ে বাড়ি ফিরে আসল কীভাবে? আমরা গরিব হতে পারি কিন্তু একটা ইজ্জত আছে। বেকার ছেলের জন্য ওই মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেব কোন দুঃখে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত দেলোয়ার বলেন, ‘স্থানীয় গণ্যমান্যরা সালিশে আমাকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে ঘটনাটা মীমাংসা করে ফেলেছে। আর মেয়ের ছবিগুলো আমি মোবাইল থেকে ডিলিট করে ফেলেছি।’
 
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার আহম্মদ জানান, এই ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

 



আজকের প্রশ্ন