শনিবার, ২০ জানুয়ারী ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭, ০৮:১২:৪৭

নীলার এত ক্ষমতা! তোয়াক্কা নেই কিছুতেই

নীলার এত ক্ষমতা! তোয়াক্কা নেই কিছুতেই

 ঢাকা: পূর্বাচল উপশহরে রাজউকের প্রায় ৮০০ কোটি টাকার প্লট জবরদখল করে যথেচ্ছা ব্যবহারকারী ফেরদৌসী আলম নীলার ক্ষমতার উৎস কী? রূপগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েও বার বার তিনি আইন লঙ্ঘনের সাহস পান কোত্থেকে? ভ্রাম্যমাণ আদালতের উচ্ছেদ অভিযানসহ সরকারি কর্মকাণ্ডে বার বার তিনি বাধা হয়ে দাঁড়ান কীভাবে? রাজউকের উচ্ছেদকৃত জায়গা আবারও জবরদখল করে ‘নীলা মার্কেট’ গড়ে ওঠায় জনমনে এসব প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রূপগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা অনেকেই বলেছেন, মহিলা লীগ নেত্রী ফেরদৌসী আলম নীলা স্থানীয় সংসদ সদস্যের আস্থাভাজন, ঘনিষ্ঠজন। সরকারি ও দলীয় নানা অনুষ্ঠানে নীলাকে সঙ্গে নিয়েই এমপির উপস্থিতি এবং তার মতামত বিশেষ গুরুত্ব পাওয়া থেকেই রাতারাতি তিনি প্রভাবশালী নেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যান।

এমপির আস্থালাভের পর থেকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি নীলাকে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়া, পূর্বাচল উপশহরে একের পর এক প্লট বাগিয়ে নেওয়া, জোয়ারসাহারায় সুরম্য অট্টালিকার মালিক বনে যাওয়া— সবকিছুই নীলার কাছে অতি সহজ বিষয়ে পরিণত হয়। আস্থায় পাওয়া অলীক ক্ষমতাবলে রূপগঞ্জ আওয়ামী লীগকেও নীলা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছেন। প্রতিটি গ্রুপের সঙ্গে নিজ সমর্থকদের নিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষেও জড়িয়েছেন তিনি। দখলবাজি, দলবাজি, সংঘাত-সংঘর্ষে সমানভাবে তত্পর থাকা ফেরদৌসী আলম নীলা ইতিমধ্যেই রূপগঞ্জে ‘গডমাদার’ হিসেবে আখ্যা পেয়েছেন।

রূপগঞ্জে দলীয় নেতাদের সঙ্গে বিরোধ বাধিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি নীলা, তিনি রাজউকের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েও বার বার নিজের ক্ষমতার জানান দেন। পূর্বাচল উপশহরের ভোলানাথপুর এলাকায় ৩০০ ফুট সড়কের পাশেই রাজউকের প্রায় ৮০০ কোটি টাকার জমি জবরদখল করে তিনি গড়ে তোলেন হাট-বাজার। শতাধিক পাকা-আধাপাকা স্থাপনার বাজারটিতে ‘নীলা মার্কেট’ নামের সাইনবোর্ড। মার্কেটটি ঘিরে ভোলানাথপুরসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে মাদকের আস্তানা। স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, নীলা মার্কেটের আশপাশে জুয়ার আসরও বসানো হচ্ছে। এসব আস্তানায় অতি সহজেই মিলছে মরণ নেশার বিভিন্ন মাদক। পাশেই রয়েছে ইউসুফগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন যুবক-যুবতী ঘুরতে এসে অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। সে ক্ষেত্রে মার্কেটের পাশের কয়েকটি রেস্টুরেন্টে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় যুবক-যুবতীদের জন্য কক্ষ ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। বাজার, মাদক আর জুয়ার স্পট থেকে হাজার হাজার টাকা বখরা আদায়ও হচ্ছে প্রতিদিন। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ফেরদৌসী আলম নীলা বলেন, ‘৩০০ ফিটের পাশে গড়ে ওঠা বাজারটি আমার নামে নয়। স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নিজেরা ধীরে ধীরে সেখানে বাজারটি জমিয়েছেন। সেখানে চাঁদা আদায়, মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর বসার কোনো সুযোগ নেই। আমরা জমিটি রাজউকের কাছ থেকে বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা করছি।’ নীলা মার্কেটের সামনেই কবরস্থান, মসজিদ। কবরস্থানের ভিতরেই ‘মাদক ভাণ্ডার’ গড়ে তুলে খুচরাভাবে ক্রেতাদের কাছে হরদম বিক্রি হচ্ছে ফেনসিডিল-ইয়াবা। সড়কের আশপাশের এলাকাগুলো খুবই নির্জন। নীলার দেবর আনোয়ার হোসেন ও দুলাল ভোলানাথপুর, ইছাপুরাসহ আশপাশ এলাকার মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নীলার প্রভাবে তার সহযোগীরাও বেজায় দাপুটে হয়ে উঠেছেন। গত বছর নীলার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা ইছাপুরা বাজারের এনায়েত মার্কেট ও সুজন মার্কেট ভাঙচুর ও লুটপাট করে নেন। ইছাপুরার শনিরাম ও ইন্দ্রনাথ সরকারের বাড়ি জোরপূর্বক দখলে নেন তারা। ইছাপুরা বাজারের ১০১ শতাংশ সরকারি পুকুর ভরাট করে মার্কেটও নির্মাণের ঘটনা ঘটে। সেই মার্কেটের প্রতিটি দোকান ৮ থেকে ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করছেন। ইতিমধ্যে ২৫-২৬টি দোকান বিক্রি করে আড়াই কোটি টাকা তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন।

একসময় নীলার পরিবারের সদস্যরা ইছাপুরা হাটের ইজারাদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এখন তার পরিবারের সদস্যরা হাজার কোটি টাকার মালিক। নীলার ঢাকার জোয়ারসাহারায় ছয় তলাবিশিষ্ট একটি বাড়ি ও নামে-বেনামে পূর্বাচল উপশহরে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্লট। রয়েছে দামি গাড়ি। নীলার বাবা আজিমুদ্দিন ইদানীং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ায় নীলার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছে না। এ ছাড়া নীলার ভাই সৈয়দ বকুল এলাকার নিরীহ মানুষকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করালেও তার স্বামী শাহ আলম ফটিক ব্যস্ত দখলবাজি দেখাশোনার কাজে।বংলাদেশ প্রতিদিন

 



আজকের প্রশ্ন