মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৫ জানুয়ারী, ২০১৮, ১১:২২:১৪

ইসলামপন্থী দল; কার প্রতিপক্ষ কে?

ইসলামপন্থী দল; কার প্রতিপক্ষ কে?

ঢাকা: বাংলাদেশে ইসলামপন্থীরা বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত। রাজনীতি, পীরমুরিদি, মাযহাব-মানা ও না মানা ইত্যাদি দৃষ্টিকোণের কারণে এসব দলের সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের চেহারার ভিন্নতার মতো মতের ভিন্নতা রয়েছে।

একই দলের সবাই কোনো বিষয়ে একমত হতে পারে না। এমনকি একই পরিবারেও মতানৈক্য হয়। পিতা-পুত্র, মা-মেয়ে, স্বামী-স্ত্রী ও গুরু-শিষ্যের মাঝেও মতপার্থক্য দেখা দেয়। দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মানুষ সাহাবিদের মাঝেও মতানৈক্য হয়েছে। যুদ্ধ পর্যন্ত গড়িয়েছে।

বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি। এদেশ আমার পিতৃভিটা। এদেশের মাটিই আমার কবরস্থান হবে। এদেশে নিয়েই আমাকে ভাবতে হবে। এদেশেই ইসলামের খেদমত করতে হবে। বর্তমান বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হওয়ায় ক্ষতি হয়েছে ও হচ্ছে কার? ইসলাম ও মুসলমানদের।

এ অনৈক্যে লাভবান হচ্ছে কারা? ইসলামবিরোধী শক্তি।

বর্তমানের কিছু দল এমন : ১. কওমি ও দেওবন্দপন্থী লোকজন। রাজনীতি ছাড়া বাকি অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের বিরাট শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। তাবলিগ ও চরমোনাই দেওবন্দি। মজলিস, জমিয়তসহ আরও অনেক রাজনৈতিক দলও দেওবন্দি।

২. জামায়াতে ইসলামী।

৩. আহলে হাদিস। জামায়াতের কিছু লোক আহলে হাদিসকে পছন্দ করে। অথচ জামায়াত মাযহাবী ও হানাফী।

৪. শর্ষিনা, ফুরফুরা, বায়তুশ শরফ, জৈনপুরী, আজানগাছী, মানিকগঞ্জেরর পীর- এদের মতো আরও কিছু পীরভিত্তিক দল ও গোষ্ঠী। যাদের কিছু বিষয় প্রশ্নবিদ্ধ।

৫. দেওয়ানবাগী, আটরশী, মাইজভাণ্ডারী, নামধারী সুন্নীসহ অন্যান্য ভণ্ড পীরদের দল। এদের সংখ্যাও কম নয়। তাদের সঙ্গে যুক্ত হবে আরও অনেক ছোটোখাটো ও আঞ্চলিক পীর সম্প্রদায়, যারা মাজার নিয়ে ব্যস্ত। এই দলের সাথে উপরের পাঁচ দলের কোনো মিল নেই। মিলের কাছাকাছিও না। দূরত্ব অনেক বেশি। মৌলিক অনেক বিষয়েই মতানৈক্য।

উপরের প্রথম চারটি দলের মাঝে তেমন বেশি মতানৈক্য নেই। চিন্তা ও চেতনায় প্রায় কাছাকাছি। মানহাজী ও মাশরাবী এখতেলাফ। তাদের মতানৈক্যগুলো ব্যাখ্যা করে মতৈক্যে পৌঁছা সম্ভব। মৌলিকভাবে তেমন মতভিন্নতা নেই, শাখাগত কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য ছাড়া। একটু উদারতা প্রকাশ করলে এদেশের ইসলাম ও মুসলমানদের বিরাট উপকার হবে।

এই চার দল ও গোষ্ঠীর বিবাদ, ঝগড়া, মতানৈক্য ও মতপার্থক্য হ্রাস করে একটি বৃহৎ মোর্চা গঠিত হলে ইসলামবিরোধী শক্তি মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারবে না।

আমাদের রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, পরিবারনীতি ও সমাজব্যবস্থায় ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো অনুপস্থিত। সম্মিলিতভাবে কাজ না করলে এ সমাজ আমাদের মূল্যায়ন করবে না।

স্কুল কলেজ, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সকল ক্ষেত্রে নারীপুরুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্র থাকুক এটা আমরা সবাই চাই। সুবিচার, সুশাসন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়া, সুদ ঘুষ দুর্নীতি বন্ধ হওয়া, হামলা মামলা ধর্ষণেরর মূলোৎপাটন, যাতায়াত, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে সবার সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা- ইত্যাদি বিষয়গুলোর সাথে ইসলামের সম্পর্ক নেই? আছে, অবশ্যই আছে।

আমি শুধু সহিহ আকিদা ও সহিহ হাদিস নিয়ে ব্যস্ত রইলাম কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যায় অনাচার নিয়ে ভাবলাম না- তাহলে কি আমাকে হাশরের ময়দানে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে না? নিশ্চয় হবে।

তাই আমার মনে হয়, প্রথম চার শ্রেণি একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়। ৫ম দল প্রতিপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে কাজ করা দরকার। তদ্রূপ আমাদের দেশের বিরাট একটি শ্রেণি সেক্যুলার, ইসলামবিদ্বেষী। এদের বিপক্ষে কাজ করবে কে?

আপনি হানাফী দেওবন্দি হয়ে সারাজীবন আহলে হাদিসের বিরুদ্ধে জিহাদ করলেন! অথচ কাফের মুশরিক নাস্তিক ও বিদআতীদের বিরুদ্ধে কিছুই করলেন না। রাষ্ট্রীয় জুলুম, অনাচার ও অসঙ্গতির বিষয়ে আপনি “মান সাকাতা নাজা” এর ওপর আমল করছেন।

আহলে হাদিস হয়ে মাযহাবীদের বিরুদ্ধে বলেন কোন সাহসে! মাযহাব মানেই তো ইমামদের দালিলিক আলোচনা। ইমাম আবু হানিফার বিরুদ্ধে আপনি জিহাদ ঘোষণা করলেন, অথচ আটরশি দেওয়ানবাগী ও নাস্তিকদের বিরুদ্ধে আপনি হেকমত অবলম্বন করছেন! মাশাল্লাহ!

সকলের মাঝেই এই বিষয়গুলো আছে। তাই আমি ভাবছি, কার প্রতিপক্ষ কে? আগে এটা নির্ধারণ হওয়া আবশ্যক।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন



আজকের প্রশ্ন