শনিবার, ২০ জানুয়ারী ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১০ জানুয়ারী, ২০১৮, ১১:৪৮:৩৭

স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত: খুলনার এক পুলিশ ফাঁড়ির সব সদস্য প্রত্যাহার

স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত: খুলনার এক পুলিশ ফাঁড়ির সব সদস্য প্রত্যাহার

খুলনা: খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় বখাটেপনার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে। স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তার ভাইকে ফাঁড়িতে নিয়ে মারধর করেছে পুলিশ। এ অভিযোগের পর ওই ফাঁড়ির ১২ সদস্যের সবাইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমানের লোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশের পরই এই ঘটনা ঘটলো।

দেশে যখন পুলিশ সপ্তাহ চলছে তখন পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আসতে থাকায় দেশ জুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী বলেছে, বটিয়াঘাটার আমীরপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন বাইনতলা ফাঁড়ির কয়েকজন কনস্টেবল। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেন কনস্টেবল মো. নাঈম। ওই ছাত্রী বাইনতলা মোড়ে তার ভাইয়ের দোকানে গিয়ে ঘটনাটি জানালে তার ভাই এসে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করেন। তখন পুলিশ তাকে ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের পর হাজতে আটকে রাখে।

খবর পেয়ে গ্রামবাসী ফাঁড়িতে গেলে পুলিশের সঙ্গে কয়েকজনের ধস্তাধস্তি হয়। গ্রামবাসী ফাঁড়ি ঘিরে রাখে। খবর পেয়ে আমীরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গোলদার ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং বিষয়টি বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানান।

ওসি মোজাম্মেল হক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনা জানার পর খুলনার পুলিশ সুপার কনস্টেবল মো. নাঈম, মামুন, রিয়াজ, আবির ও জাহীদকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। পরে বিকেলে ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী উপপরিদর্শক তারিকুজ্জামানসহ বাকি সাত সদস্যকেও প্রত্যাহার করা হয়।

ওই ছাত্রীর বাবা জানান, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে প্রায়ই ওই কনস্টেবল উত্ত্যক্ত করতেন। মঙ্গলবারও উত্ত্যক্ত করায় তাঁর ছেলে প্রতিবাদ করলে পাঁচ কনস্টেবল তাকে বেদম মারধর করে আহত করেন। ছেলেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করে বটিয়াঘাটা থানার ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, “ওই মেয়ের ভাই পুলিশের সঙ্গে তর্ক করায় তাকে ফাঁড়িতে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে।”



আজকের প্রশ্ন