শনিবার, ২৩ জুন ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ১২ মার্চ, ২০১৮, ০৮:১৬:২০

বিধ্বস্ত বিমানে ৬৭ জনের ৩২ বাংলাদেশি, হটলাইন চালু ও যাত্রী তালিকা

বিধ্বস্ত বিমানে ৬৭ জনের ৩২ বাংলাদেশি, হটলাইন চালু ও যাত্রী তালিকা

ঢাকা : নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলার বিমানের ৪ জন ক্রুসহ ৭১ জন আরোহীর মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশের, ৩৩ জন নেপালের, একজন মালদ্বীপের এবং একজন চীনের নাগরিক। এদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ, ২৮ নারী, দুইজন শিশু ও ৪ জন ক্রু।

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে এ দুর্ঘটনার কবলে পড়া বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলার বিমানে ৬৭ জন যাত্রী ছিল। বিমানটির ৭৬ যাত্রীদের একটি তালিকা হাতে এসেছে।

এর আগে সোমবার দুপুর ২টার ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (টিআইএ) ফুটবল মাঠে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এখন পর্যন্ত ৫০ জনের নিহতের খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যম। বিধ্বস্ত বিমানটি থেকে ১৭ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

নেপালের হিমালয়ান টাইমস ও কাঠমান্ডু পোস্টসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে ল্যান্ড করার পূর্বেই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়।

টিআইএ’র মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুরের বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, টিআইএ’র ও নেপালে সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।

এদিকে নেপালে বাংলাদেশের এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলার প্লেন বিধ্বস্তের ঘটনায় দেশটিতে হটলাইন চালু করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নম্বরগুলো হলো- Md. Al alamul Emam, কনসুলার +9779810100401 এবং Asit Baran Sarker, ফার্স্ট সেক্রেটারি +9779861467422

দূতাবাসের সব কর্মকর্তা হাসপাতাল ও বিমানবন্দরে রয়েছেন। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে তাদের অন্তত ২ ঘণ্টা সময় লাগবে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

ঢাকা থেকে যাওয়া প্লেনটি সোমবার (১২ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পার্বত্য শহর কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকালে এ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায় প্লেনটি।

এদিকে নেপালি যুবক বসন্ত বহরা এভাবেই বর্ণনা করেন, ‘বিমানটি ভয়ঙ্করভাবে কাঁপছিল। প্রকাণ্ড একটা শব্দও হয়েছে। বিমানের জানালা ভেঙে বের হই।’

নেপালের গণমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, বসন্ত বহরা ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন। বিমানের জানালা ভেঙে বের হন বহরা। আহত বসন্ত বহরা বর্তমানে কাঠমান্ডুর নর্ভিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বসন্ত বহরা নেপালের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরি করেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি জানান, তারই মতো ১৬ জন ওই বিমানে ছিলেন, যারা বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরি করেন।

বসন্ত বহরা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য যাই্।’ তিনি জানান, ঢাকা থেকে স্বাভাবিকভাবেই রওনা দেয় বিমানটি। কিন্তু কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার আগেই বিমানটি ‘অস্বাভাবিক আচরণ’ করতে থাকে।

বসন্ত আরো বলেন, ‘হঠাৎ করেই বিমানটি ভয়ঙ্করভাবে কাঁপতে থাকে। প্রকাণ্ড শব্দও হয়।’ তিনি বলেন, ‘জানালার পাশেই আমার সিট ছিল। এ সময় জানালার কাঁচ ভেঙে বের হই আমি।’

তিনি বলেন, ‘জানালা থেকে বের হওয়ার পর আর কিছু মনে নেই। কেউ একজন আমাকে সিনামঙ্গল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে আমার বন্ধুরা নরভিক হাসপাতালে নিয়ে আসে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি মাথায় এবং পায়ে আঘাত পেয়েছি। কিন্তু আমি ভাগ্যবান, কারণ আমি বেঁচে এসেছি।’

 



আজকের প্রশ্ন