বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০৩ জুন, ২০১৮, ০৭:১৫:৪৮

জাতীয় পার্টি ছাড়াই মহাজোটের শরিকরা চায় ১১৭ আসন

জাতীয় পার্টি ছাড়াই মহাজোটের শরিকরা চায় ১১৭ আসন

ঢাকা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এখনই আসন ভাগাভাগি নিশ্চিত করতে চায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো।

এ লক্ষ্যে ১১৭টি আসনে ভাগ বসাতে পৃথকভাবে তালিকা করেছে তারা। এটি শিগগিরই জোটের কাছে উপস্থাপন করা হবে। তবে আরেকটু সময় নিয়ে জোটের হিসাব চূড়ান্ত করতে চায় ক্ষমতাসীনরা। তাদের মতে, নির্বাচনের ঢের বাকি, সামনে অনেক কিছুই দেখার আছে।
নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া বা না নেয়ার বিষয়টি নিশ্চত হওয়ার পরই জোটের আসন বণ্টন করা হবে। সেক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টিও বিবেচিত হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম শনিবার বলেন, নির্বাচনের অনেক বাকি। বিএনপির অংশগ্রহণের ওপরও জোটের আসন বণ্টন নির্ভর করবে। প্রতিপক্ষকে হারাতে জনপ্রিয় প্রার্থী জোটের যে দল থেকে পাওয়া যাবে, আমরা সেখান থেকেই মনোনয়ন দেব। তবে এ নিয়ে এখনই আলোচনা হচ্ছে না। নির্বাচন পরিস্থিতি দেখে ও নির্বাচনের আগে আসন বণ্টনের কাজ হবে। তখন জোটের পরিধি বাড়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

১৪ দলীয় জোটে আসন নিয়ে আলোচনা না হলেও দলগতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন শরিক দলের নেতারা। অনেকেই একক ও জোটগত প্রস্তুতিও শুরু করেছেন। সম্ভাব্য আসন ও প্রার্থীর তালিকাও করেছেন তারা। জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী লীগের কাছে কমপক্ষে ১১৭টি আসন দাবি করবে তারা। এদের মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ১০, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (ইনু-শিরিন) ৩০, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (আম্বিয়া-প্রধান) ২০, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ৫, গণতন্ত্রী পার্টি ১০, ন্যাপ ৭, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) ৪, সাম্যবাদী দল ৪, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ২, গণ আজাদী লীগ ১০, তরিকত ফেডারেশন ১২, কমিউনিস্ট কেন্দ্র ২ ও মহাজোটের শরিক বিএনএফ ১। এর বাইরে মহাজোটের অন্যতম দল জাতীয় পার্টি এবার ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দিতে কাজ করছে।

দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচিত ৩০০ আসনের মধ্যে ৫০টি মহাজোটের। আওয়ামী লীগের এককভাবে আছে ২৩৩টি। স্বতন্ত্র এমপি ১৬ জন। কুড়িগ্রাম-৩ আসনটির জাতীয় পার্টির এমপি একেএম মাইদুল ইসলাম মারা যাওয়ায় শূন্য ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে জোটে না থাকলেও ৩১ দল নিয়ে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার ‘বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ)’ আওয়ামী লীগের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে মুখিয়ে আছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও ‘সবুজ সংকেত’ দেয়া হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। এ জোটের পক্ষেও কমপক্ষে ১০টি আসন মহাজোটের কাছে প্রত্যাশা করছে জোটটি।

প্রয়াত শওকত হোসেন নিলুর জোট ‘ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)’ও ঝুঁকছে ক্ষমতাসীন জোটের দিকে। তারাও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন করতে কমপক্ষে ৫টি আসন প্রত্যাশা করছে।

সম্প্রতি ১৫ দলের একটি ইসলামী জোট আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগত নির্বাচনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ জোটের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন গণতান্ত্রিক ইসলামিক মুভমেন্টের চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলাম খান। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা করেই আসন নিয়ে সুরাহা করতে চায় জোটটি।

জোটের পরিধি বাড়ার বিষয়ে ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের ভাষ্য, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল যে কোনো দল জোটে আসতে পারে।

এর বাইরেও বেশ কিছু দলের শীর্ষ নেতা, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের কয়েকটি দল ক্ষমতাসীন জোটে আসার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে। সবমিলে এখনই আসন বণ্টন নিয়ে আওয়ামী লীগ মাথা ঘামাচ্ছে না। নির্বাচনের আগে জোটের সব দলের অংশগ্রহণ চূড়ান্ত করে আসন বণ্টন নিয়ে কাজ করবে দলটি।

১৪-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (ইনু-শিরিন) জাসদের প্রত্যাশা কমপক্ষে ৩০টি আসন। দলটির সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, এখনই আসনভিত্তিক প্রার্থীর নাম আমরা বলতে চাই না। তবে এই ৩০টি আসন যশোর, কুষ্টিয়া, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম হবে এবং সেখানকার নেতাদের প্রস্তুতি নিতে বলেছি।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (আম্বিয়া-প্রধান) জাসদ আগামী নির্বাচনের জন্য ২০টি আসনে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বিষয়ে দলটির সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া  বলেন, পঞ্চগড়-১, রংপুর-১, নড়াইল-১ ও চট্টগ্রাম-৮ এ আমাদের প্রার্থী জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর বাইরেও আরও ১৬ জন যোগ্য প্রার্থীর তালিকা আমাদের হাতে আছে। রাজশাহী, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলায় তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে জোটগত হলে জোটের কাছে আমাদের এসব আসন তুলে ধরে মনোনয়ন চাইব।

বর্তমান সংসদে জাসদের এই দুই অংশ মিলে ৫ জন নির্বাচিত এমপি প্রতিনিধিত্ব করছেন। আসনগুলো হল- পঞ্চগড়-১, বগুড়া-৪, কুষ্টিয়া-২, ফেনী-১ ও চট্টগ্রাম-৮।

১৪-দলীয় জোটের আরেক শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটির চাহিদা ১০টি আসন। তবে তারা ৫০টির অধিক আসনে প্রস্তুতি নিচ্ছে। মেহেরপুর, খুলনা, নাটোর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও কুড়িগ্রাম এসব প্রার্থী গণসংযোগ করছে বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। বর্তমান সংসদে ওয়ার্কার্স পার্টির ৬ জন নির্বাচিত এমপি আছেন। আসনগুলো হল- ঠাকুরগাঁও-৩, রাজশাহী-২, নড়াইল-২, সাতক্ষীরা-১, বরিশাল-৩ ও ঢাকা-৮।

জোটের শরিক ন্যাপের কোনো এমপি জাতীয় সংসদে না থাকলেও আগামী নির্বাচনে দলটি ২০ আসনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে জোটবদ্ধভাবে এরা ৭টি আসন চাইবে আওয়ামী লীগের কাছে। এই মুহূর্তে দলটি কুমিল্লা-২, ৪, ও ৬; দিনাজপুর-৬, ময়মনসিংহ-৩, সুনামগঞ্জ-৫, নাটোর-৪, মাদারীপুর-৩, জামালপুর-২, ঢাকা-৬ ও ৭ ও চট্টগ্রামের কয়েকটি আসনে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ন্যাপের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন এ তথ্য দিয়ে বলেন, আমরা জোটবদ্ধ নির্বাচনের দিকেই ঝুঁকছি। সেক্ষেত্রে ৭টি আসন প্রত্যাশা থাকবে।

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ১১টি আসনে প্রস্তুতি নিলেও তাদের জোটের কাছে চাওয়া ৫টি আসন। চলতি সংসদে এই দলের কোনো প্রতিনিধি না থাকলেও আগামী সংসদে যে করেই হোক জোটের কাছে প্রতিনিধি চায় দলটির আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান।

জোটে থাকলেও সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই গণতন্ত্রী পার্টির। তবে এবারে দলটি ১০টি আসনে প্রস্তুতি নিয়ে ১০টিতেই সমর্থন চায় ১৪ দলের। আসনগুলো হল- গাজীপুর-৪, রংপুর সদর, মাদারীপুর-৪, কিশোরগঞ্জ সদর, কুষ্টিয়া সদর, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর, ঢাকা-৭ ও সিলেটের একটি আসন। এ বিষয়ে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, এই ১০টি আসনে আমাদের সর্বাÍক প্রস্তুতি আছে। জোটের কাছেও আমাদের চাওয়া এই ১০টি আসন।

কমপক্ষে ৫০টি আসনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টি (মঞ্জু)। দলটির বর্তমান সংসদে ২টি আসন রয়েছে। কুড়িগ্রাম-৪ ও পিরোজপুর-২। এর বাইরে বাকি ৪৮টি আসনের প্রস্তুতি ও নির্দিষ্ট করে কোনো আসনের নাম বলতে পারেননি দলটির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম। তবে জোটের নির্বাচনে ৪টি আসন প্রত্যাশা তাদের।

বর্তমান সংসদে কোনো প্রতিনিধি নেই সাবেক শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়–য়ার সাম্যবাদী দলের। তবে আগামী সংসদে দলটি চট্টগ্রাম-১, কিশোরগঞ্জ-২, চুয়াডাঙ্গা-২ ও নোয়াখালী-১ আসনে প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এ বিষয়ে দীলিপ বড়–য়া বলেন, আমারা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। জোটের পরিধি বাড়লে ও বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে ন্যূনতম একটি আসন (চট্টগ্রাম-১) আমাদের দিতে হবে।

গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, তার দল দুটি আসনে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন তা এখনও জানেন না তারা। এ বিষয়ে তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি নির্বাচন করব। তবে কোন আসনে করব জানি না। এটা জোটগতভাবে সিদ্ধান্ত হবে। জাকির বলেন, যেহেতু এককভাবে নির্বাচন করার সক্ষমতা তাদের নেই তাই জোটের ওপর নির্ভর করে যে আসন পাবে সেখানেই নির্বাচন করবে আমাদের প্রার্থীরা।

১৪ দলের শরিক গণআজাদী লীগের চলতি সংসদে প্রতিনিধি না থাকলেও তারা আগামী সংসদের জন্য ১০টি আসনে প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাগেরহাট, মুন্সীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের এসব আসনে প্রস্তুতি নিচ্ছে দলের প্রার্থীরা। আসন নির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও জোটের প্রয়োজনীতার খাতিরে এসব জেলার যে কোনো আসন থেকেই তাদের প্রার্থী নির্বাচন করতে পারে বলে জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক এসকে শিকদার।

জোটের শরিক তরিকত ফেডারেশনের দু’জন এমপি আছে সংসদে। পার্টির চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজ ভাণ্ডারী, চট্টগ্রাম-২ ও সাবেক মহাসচিব এমএ আউয়াল, লক্ষ্মীপুর-১। আগামী নির্বাচনে এই দুটি আসনসহ চট্টগ্রাম, রংপুর, পাবনা, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, লালমনিরহাট থেকে কমপক্ষে ১২টি আসনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন নজিবুল বশর মাইজ ভাণ্ডারী।

চলতি সংসদে কমিউনিস্ট কেন্দ্রের কোনো প্রতিনিধি নেই। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক অসিতবরণ রায় বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের জন্য আমরা ২টি আসনে প্রস্তুতি নিচ্ছি। একটি গোপালগঞ্জ-২ ও আরেকটি ঢাকা-১২।

এ বিষয়ে দলটির নেতা অসিতবরণ রায় বলেন, আমরা দলীয়ভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। জোটের আলোচনায় সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন কি পরিস্থিতিতে হয় তার ওপর নির্ভর করবে আসন বণ্টন। জোটের পরিধিও বাড়বে। সেক্ষেত্রে জোটের প্রার্থী হিসেব অনেক জটিল হবে।

মহাজোটের শরিক বিএনএফ’র চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এখন ঢাকা-১৭ আসনের এমপি। এই দলটির আসন চাহিদা ও জোটের তৎপরতা নেই। তবে একটি সূত্র বলছে, আবুল কালাম আজাদ তার নিজ আসনে জোটের কাছে ফের মনোনয়ন চাইবেন।

মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ৩শ’ আসনে নির্বাচনী জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আসন ধরে ধরে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। জাতীয় পার্টির নিজস্ব ৫৮ দলীয় নির্বাচনী জোট থেকে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করছেন। এ নিয়ে দলটির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার সম্প্রতি  বলেন, যোগ্য প্রার্থী জোটের যে দলে পাওয়া যাবে সেখান থেকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে প্রত্যেকের মার্কা হবে লাঙ্গল। কারণ উল্লেখ করে বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও লাঙ্গলের দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা আছে। ৩শ’ আসনের প্রস্তুতির বাইরে এখন অন্য কোনো জোট নিয়ে জাতীয় পার্টি কিছু ভাবছে না বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

এ বিষয়ে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ শনিবার বলেন, আপাতত জাতীয় পার্টির প্রস্তুতি ৩শ’ আসনে। এর বাইরে আমাদের কোনো হিসাব নেই। নির্বাচনের ঢের বাকি। সময় হলে বলা যাবে আমরা কিভাবে ও কোন জোটের সঙ্গে নির্বাচন করছি।

তবে আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে জাতীয় পার্টি আসন ভাগাভাগি নিয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। জাপা জোটের কাছে ৭০টি আসন প্রত্যাশা করেছে বলেও জানায় সূত্রটি। বর্তমান সংসদে জাতীয় পার্টির ৩৪ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রতিনিধিত্ব করছেন।

সূত্র আরও জানায়, বিএনপিকে কেন্দ্র করে দু’ধরনের কৌশল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি নির্বাচনে এলে ১৪ দলীয় জোট ও জাতীয় পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে মহজোটগতভাবে অংশ নেবে ক্ষমতাসীনরা।

আর বিএনপি অংশ না নিলে শুধু ১৪ দলীয় জোটগতভাবে নির্বাচন করবে তারা। তখন প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও তার মিত্ররা আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত সব দল (বিএনপি ছাড়া) যাতে নির্বাচনে অংশ নেয়, সেটি নিশ্চিত করতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হবে।
পাশাপাশি এটাও নিশ্চিত করা হবে, যাতে কোনো আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ নির্বাচিত না হন। এতে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। যা দেশের ভেতর ও বাইরে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।

 



আজকের প্রশ্ন