সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১৮ জুলাই, ২০১৮, ০৯:০৫:৪২

বালি, এক ভ্রমণে অনেককিছু

বালি,  এক ভ্রমণে অনেককিছু

ঢাকা : নীলাভ সমুদ্র সৈকত, প্রবাল প্রাচীর, বনভূমি, আগ্নেয় পর্বতমালা, জলপ্রপাত, ধর্মীয় সাইট, সংস্কৃতি, জনপ্রিয় অববাহিকা শহর ইত্যাদির সমন্বয়ে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপ পৃথিবীর শীর্ষ রোমান্টিক প্লেসগুলোর একটি।

বালি ইন্দোনেশিয়ার একটি দ্বীপ এবং প্রদেশ। প্রদেশটি বালি দ্বীপ এবং কয়েকটি ছোট ছোট প্রতিবেশী দ্বীপ নিয়ে গঠিত। বিশেষ করে নুসা পেনিডা, নুসা লাংবঙ্গান এবং নুসা কেননিকান এর অন্তর্ভূক্ত। এটি পশ্চিমে জাভা এবং পূর্বদিকে লম্বোমের সাথে কম সুনা দ্বীপগুলির পশ্চিমাংশে অবস্থিত। দ্বীপটির দক্ষিণাংশে অবস্থিত এর রাজধানী দিলপাসার। আয়তন ৫,৭৮০ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ৪.২২৫ মিলিয়ন (২০১৪)।সর্বোচ্চ স্থান মাউন্ট আগং-এর চূড়া (৩১৪৮ মিটার)।

ইন্দোনেশিয়া মুসলিমপ্রধান দেশ হলেও ইন্দোনেশিয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকাংশই এই দ্বীপের বাসিন্দা। ২০১০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বালির ৮৩.৫% জনসংখ্যা হিন্দু, এর পরে ১৩.৪% মুসলমান, ২.৫% খ্রিস্টীয় এবং ০.৫% বৌদ্ধ।

সমুদ্রের জীববৈচিত্রের মধ্যে প্রবাল গুরুত্বপূর্ণ।বালি কোরাল ট্রায়াঙ্গেলের অংশ। সমুদ্রের বৃহত্তম জীববৈচিত্রের অংশটি বালিসংলগ্ন সাগরে রয়েছে।এখানে ৫০০’র অধিক প্রবালপ্রাচীর রয়েছে।তুলনামূলকভাবে এটি পুরো ক্যারিবিয়ানের প্রায় ৭ গুণ। বালি একটি অতি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য স্থল।

১৯৮০ সাল থেকে এখানে পর্যটকদের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটে। ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন সম্পর্কিত আয়ের ৮০% আসে এই বালি থেকে। ঐতিহ্যবাহী এবং আধুনিক নৃত্য, ভাস্কর্য, চিত্রকলা, চামড়া ও ধাতুর মনোমুগ্ধকর কাজ এবং সঙ্গীতসহ অত্যন্ত উন্নত শিল্পের জন্য এটি বিখ্যাত। ইন্দোনেশিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব প্রতি বছর বালিতে অনুষ্ঠিত হয়। বালি ২০১১’র আসিয়ান সম্মেলন, ২০১৩’র এপেক সম্মেলন এবং মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৩’র আয়োজক ছিল। বালি একটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে, ট্রাভেল এডভাইজার তার যাত্রী চয়েস অ্যাওয়ার্ডে বালিকে বিশ্বের শীর্ষ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নামকরণ করে।

বালি ভ্রমণে প্রধান আট থেকে দশটি স্পট ঘুরে দেখতে পারলে আপনি স্বার্থক হয়েছেন বলে ভাবতে পারেন। কারণ সেখানে দেখার জন্য রয়েছে অনেক কিছু। আসলে এক বা দুই বারের ভ্রমণে সেগুলো দেখে শেষ করা সম্ভব না। পর্যটন শহর বালি দ্বীপের মানুষ পর্যটকদের স্বাগত জানাতে আন্তরিক। পর্যটন শিল্পকে প্রাধান্য দিয়েই শহরটি গড়ে উঠেছে। দ্বীপটিকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাই অত্যন্ত আন্তরিক। পর্যটকদের অগ্রাধিকার এখানে সব কিছুতে। বসবাসের হোটেল এলাকায় কোনো বাণিজ্যিক দোকান পর্যন্ত নেই।

বালি দ্বীপ ভ্রমণের জন্য পৃথিবী বিখ্যাত। পৃথিবীর বহু দেশ থেকে ভ্রমণপিপাসুরা আসেন বালি দ্বীপের প্রাকৃতিক রূপে নিজেদের সিক্ত করতে। সৈকতের অন্যরকম আনন্দ কিন্তামানি মাউন্ট বাতুর । জায়গাটি বালির পূর্বে অবস্থিত। ১৭০০ মিটার উঁচু এই পর্বতে একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি রয়েছে। জীবন্ত আগ্নেয়গিরি দেখার অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে ব্যাতিক্রম। অনেকে এই উচ্চতা থেকে সূর্যোদয়ও দেখেন। এখান থেকে চারদিকের দৃশ্য এতটাই সুন্দর যে আপনি বিমোহিত হবেন এ কথা বলা যায়।

এ ছাড়াও আপনি চাইলে পুলিনা ঘুরে আসতে পারেন। সেখানে কফি প্লান্টেশন কেন্দ্র রয়েছে। কীভাবে কফি তৈরি হয় দেখে আসতে পারেন নিজ চোখে।



আজকের প্রশ্ন