মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ০৪ আগস্ট, ২০১৮, ০৩:৩৫:১৫

মাহাথির মোহাম্মদের জীবনে ইসলাম রাজনীতি ও ভালোবাসা

 মাহাথির মোহাম্মদের জীবনে ইসলাম রাজনীতি ও ভালোবাসা

কুয়ালালামপুর: ৯৩ বছর বয়সী মালায়শিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বিশ্বের সবচাইতে বয়ষ্ক রাজনীতিবিদ। চলতি বছরের মে মাসে তিনি দেশটির ক্ষমতায় আবারো ফিরে আসেন এবং তার এ প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে বলেন, খুব বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার পূর্বেই দুর্নীতিতে জর্জরিত তার দেশকে রক্ষা করতে আবারও ফিরে এসেছেন।

একসময় মাহাথির একটানা ২২ বছর (১৯৮১-২০০৩ সাল) মালায়শিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন্। এটি ছিল মালায়শিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড। সেসময় তিনি দেশটিকে কৃষি নির্ভর দেশ থেকে শিল্পোন্নত দেশে পরিণত করেন। অবশ্য তার ক্ষমতা থাকা কালীন সময়ে তিনি দেশটির অন্য বিরোধী দলগুলো এবং গণমাধ্যমগুলোর প্রতি লৌহ মানবের ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সম্প্রতি দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক বার্ত সংস্থা সিএনএন তার সাথে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আলোচনা করে। তার সেই সাক্ষাৎকারটি (ভাষান্তরে) নিম্নে আরটিএনএনের হুবহু তুলে ধরা হলো-

সিএনএন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি একসময় রাজনীতি থেকে অবসরে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু জীবনের এই সময়ে আবার কেন ফিরলেন?

মাহাথির: ঠিক আছে, যখন আমি স্বেচ্ছায় অবসরে গেলাম আমি চিন্তা করেছিলাম আমি আমার চারপাশ এবং আমার পরিবারকে নিয়ে একটি স্বাচ্ছন্দ্যময় সময় কাটাতে পারবো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার অবসরে যাওয়ার পরেই আমার পরবর্তীজন নতুন পরিকল্পনা করেন, যেটাকে আমার ভালো মনে হয়নি সেজন্যই আবার ফিরে আসা। বিশেষ করে বলতে গেলে আমার শুরু করা সমস্ত কিছুকেই তারা এড়িয়ে যেত লাগল। একারণে অনেকেই অখুশি হয়েছিল। তারা প্রায়ই আমার নিকট আসত এবং বলত ‘দয়া করে কিছু একটা করুন, কিছু একটা করুন।’

‘আমাদের অন্যদের মত করেই সমান চোখে দেখা উচিত’

সিএনএনঃ আচ্ছা, আপনার জীবনে রাজনীতি কিভাবে আসল, আমাদের বলুন।

মাহাথিরঃ আমরা ছিলাম বৃটিশ শাসনের অধীন। তার পর জাপানিরা আসলো, তারা আমাদেরকে থাইদের নিকট ছেড়ে দিলো। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছিল যে আমরা একটা ফুটবলের মত যে কেউ আমাদেরকে এদিক সেদিক লাথি মারতে থাকলো। আমার এরকমটি পছন্দ হয়নি। আমি অনুভব করতে থাকি যে, মানুষজন আমাদের সম্মান করত না। আমার মনে হয়েছিল- অন্যদের মত আমাদেরকে কেউ সমান ভাবে দেখা উচিত।

এই ব্যাপারটিই আমাকে সামনে আসতে উৎসাহ দেয় যে, মালয়েশিয়া অন্য দেশগুলোর মতই একটি ভালো দেশে পরিণত হতে পারে। আমি এখানেই জন্ম নিয়েছি, বড় হয়েছি এবং আমার আশপাশের এই সমস্ত লোকজন যাদের সাথে আমি আমার সময় কাটিয়েছি এবং আমরা একটি সুন্দর সংস্কৃতি গড়ে তুলেছি।

সিএনএনঃ প্রথম যে সময় আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তখন আপনার বিরোধীরা আপনাকে একরোখা, স্বৈরশাসক বলে আখ্যায়িত করেছিল। আমরা জানি আপনি অতীতে এসব অস্বীকার করেছিলেন, এর জন্য কি আপনার মত এরকম শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব্ দরকার যিনি একটি উন্নয়নশীল দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করবে?

মাহাথিরঃ আমি স্বৈরশাসক ছিলাম না। আমি জনগণ দ্বারা পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছিলাম, এবং সবচেয়ে বড় কথা কোনো স্বৈরশাসকই কখনো স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে না, অন্যদিকে আমি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি- দেশের জন্য কাজ করা এবং একে ভালো কিছু দেয়ার সুযোগ গ্রহণ করাটা খুবই স্বস্তিদায়ক। এটা এ জন্য নয় যে আপনি টাকা কামাচ্ছেন বরং এটা এ জন্য যে আপনাকে আপনার কাজে সন্তুষ্ট রাখছে।

আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছি এবং দেখেছি তারা খুবই ভালো করছে। তবে মালায়শিয়া কেন নয়? সেজন্য এটা একটি বিবেচ্য বিষয় যে, আমাদের বিবেচনা করতে হবে আমাদের সম্পদকে, আমাদের সামর্থকে, আমাদের অবস্থাকে এবং সামনে আসন্ন পরিবর্তনকে যাতে আমরা আমাদের দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অবদান রাখতে পারি।

সিএনএনঃ আপনার প্রথমবারের ক্ষমতায় থাকা নিয়ে আপনার কি কোনো অনুশোচনা আছে?

মাহাথিরঃ না, এতোটা অনুশোচনা নেই কিন্তু আমি অনুভব করি যে, এই দেশটি বিভিন্ন বর্ণের জাতির সমষ্টি। আপনি এটাকে পরিবর্তন করতে পারবেন না, ধনী-গরিবের মধ্যে, বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে কোনো তফাৎ থাকাকে আমি পছন্দ করি না কারণ এটা দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।

এটা নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে এরকম বৈষম্য বিলুপ্ত হয় এবং এক হয়ে দেশটির সকল গোত্রই এ দেশের সকল সম্পদ সমানভাবে ভোগ করতে পারবে। আমার কিছুটা সফলতা রয়েছে কিন্তু বৃহৎ অর্থে আমি ব্যর্থ। আমার ইচ্ছা যেন আমি আরো বেশি কিছু করতে পারি। কিন্তু আপনি জানেন যে, আপনি রাতারাতি জনগণের চলার ভঙ্গি, তাদের সংস্কৃতি এবং তাদের চিন্তাধারাকে পরিবর্তন করতে পারবেন না। (চলবে...) সিএনএনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে



আজকের প্রশ্ন