মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ০৮ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০৭:৫৬

ঢাবিতে পাওনা টাকা চাওয়ায় ক্যান্টিন ম্যানেজারকে ছাত্রলীগ নেতার জুতাপেটা

ঢাবিতে পাওনা টাকা চাওয়ায় ক্যান্টিন ম্যানেজারকে ছাত্রলীগ নেতার জুতাপেটা

ঢাক: রুমে খাবার পাঠাতে দেরি হওয়ায় এবং পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলের ক্যান্টিন ম্যানেজার জুয়েল মিয়াকে মারধর ও জুতাপেটা করেছে শফিক ফকির নামের এক ছাত্রলীগ নেতা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক।

মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) বিকেলে হলের ক্যান্টিনে এই ঘটনা ঘটে। শফিক ফকির বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও পদ্মা ১০০০২ নম্বর রুমে থাকেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে ক্যান্টিন ম্যানেজার জুয়েল মিয়াকে ফোন দিয়ে রুমে খাবার পাঠাতে বলে শফিক ফকির। ক্যান্টিনে ভিড় থাকায় খাবার পাঠাতে দশ মিনিট দেরি হয়। এর মধ্যে দুই জন জুনিয়রকে ক্যান্টিনে পাঠিয়ে ফোন ধরিয়ে দিতে বলে শফিক। ফোন ধরিয়ে দিলে জুয়েলকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন তিনি। এসময় বাকী টাকা চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে যান শফিক। এখনি ক্যান্টিনে এসে ম্যানেজারকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শফিক এসে ক্যান্টিন ম্যানেজারকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। পরে ম্যানেজারকে তার বসার স্থান থেকে বেরিয়ে আসতে বলেন। ম্যানেজার গালাগালি না করতে অনুরোধ করলে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন।
 
এ বিষয়ে ক্যান্টিন ম্যানেজার জুয়েল মিয়া বলেন,  রমজানের আগে থেকেই ক্যান্টিনে বাকী খায় শফিক। রোজার মধ্যেই ১২শ টাকা টাকা বাকী হয়। রোজা পেরিয়ে গেলেও টাকা দেয়না। এছাড়াও প্রায়ই তার রুমে খাবার পাঠাইতে হয়। বর্তমানে তার কাছে পাওনা টাকার পরিমাণ ১৫শ’ টাকার বেশি হবে।

তিনি বলেন, আজকে রুমে খাবার পাঠাইতে একটু দেরি হওয়ায় শফিক লোক পাঠায় ক্যান্টিনে। ক্যান্টিনে এসে তারা আমাকে ফোনে শফিকের সঙ্গে কথা বলতে বলে। আমি ফোন কথা নিয়ে কথা শুরু করলে সে খাবার দেরিতে পাঠানোর জন্যে কৈফিয়ত চায়। এসময় আমি খাবার পাঠিয়ে দিয়েছি বলে তার কাছে পাওনা কিছু টাকা চেয়েছি। সে টাকা চাওয়ার কথা শুনে ফোনেই গালাগালি করে পরে ক্যান্টিনে আসে। এসে ক্যান্টিনের  বাইরে এনে জুতা দিয়ে মুখে, মাথায় মারধর করে।

এ বিষয়ে জানতে শফিক ফকিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, এ বিষয়ে আমি এখনো অবহিত না। তাকে ক্যান্টিন ম্যানেজারের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তার পাওনা টাকা পরিশোধ করতে হবে। আমার সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে (সাদ্দাম হোসেন) কথা বলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এজেএম শফিউল আলম ভুইয়া বলেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি। কেন তার বিরুদ্ধে তিন দিনের মধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এই মর্মে তাকে (শফিক) জবাব দিতে বলা হয়েছে।

 



আজকের প্রশ্ন