বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ০৮ আগস্ট, ২০১৮, ০১:৫৬:৩৫

রহস্যময় মায়া সভ্যতা!

রহস্যময় মায়া সভ্যতা!

ঢাকা : প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে রহস্যময় ও আশ্চর্যজনক এক সভ্যতার নাম ‘মায়া সভ্যতা’। প্রথমদিকে এর সময় কাল প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ২০০০-২৫০ অব্দ পর্যন্ত। এর মধ্যে প্রাচীন কালে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অনেক মায়া নগরীগুলোতে তাঁরা উন্নতির উচ্চশিখরে পৌঁছেছিল এবং স্প্যানিশদের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত পুরো পোস্টক্লাসিক পিরিয়ড জুড়ে চালিয়ে গিয়েছিল। এটি ছিল বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ঘন জনবসতিপূর্ণ এবং সাংস্কৃতিকভাবে গতিশীল একটি সমাজ।

শুনলে অবাক হতে হয় এমন সব ইতিহাস রয়েছে মায়ানদের। ৪০০০ বছর আগে, যখন পৃথিবীর অনেক প্রান্তে মানুষ সভ্যও হতে শেখেনি, স্থায়ী কোনো আবাস গড়তে জানেনি, সেই সময়ে মায়ানরা কী করে ২৫-৩০ তলার সমান উঁচু স্থাপনা তৈরি করেছিল? জ্যোতির্বিদ্যা আর ভাষা নিয়ে রেখেছিল অগাধ জ্ঞান? কেমন করে তারা সবার চাইতে উন্নত হয়ে গিয়েছিল?

মায়া সভ্যতার অবস্থান:
মেসো আমেরিকা, বা বর্তমান মধ্য আমেরিকার সবচেয়ে পরাক্রমশালী প্রাচীনতম জাতি ছিল মায়ারা। অন্যান্যদের মত মায়া জনবসতি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে ছড়িয়ে ছিল না, তাদের লোকালয় মোটামুটি ভৌগলিক একটি নির্দিষ্ট সীমারেখার মাঝেই ছিল বলা যায়। তারা প্রধানত হন্ডুরাস, গুয়াতেমালা, এল সালভেদরের উত্তরাংশ, কেন্দ্রীয় মেক্সিকোর তাবাস্কো আর চিয়াপাস সহ আরো প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসতি স্থাপন করেছিল। একসঙ্গে থাকার কারণেই হয়তো অন্য অনেক শক্তিশালী জাতি মায়ানদের লোকালয় আক্রমণ করে খুব একটা সুবিধা করতে পারতো না।

মায়ান ভাষার একটা রূপ পাওয়া গেছে যার বয়স ৪০০০ বছর। তার মানে আসলে মায়ারা এসব এলাকায় কিন্তু বসবাস করে আসছিলো আরো অনেক আগে থেকেই। এর আগে তারা কীভাবে জীবনযাপন করত তা আসলে খুব বেশি স্পষ্ট না, তবে ধারণা করা হয় মায়ানরা শুরুর দিকে যাযাবর ছিল। একেবারে আদিম মানুষের মতো খাবার আর আশ্রয়ের খোঁজে তারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াতো। একসময় হয়তবা তারা বাসস্থানের উপযোগী হিসেবে এ জায়গাটা বেছে নেয়, শুরু করে পশুপালন। ধীরে ধীরে তারা গড়ে তোলে স্থায়ী আবাস আর ত্যাগ করে যাযাবরের জীবন।

মায়াদের ধর্মবিশ্বাস:
মায়াদের ধর্ম নিয়ে বলতে গেলে আসলে শেষ হবে না, কারণ তাদের ধর্ম ছিল প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। সভ্যতার একেক পর্যায়ে তাদের ধর্মীয় আচার-বিধি ছিল একেকরকম। তবে ধর্ম পালন করতে গিয়ে শেষ দিকে তারা হয়ে উঠেছিল ভয়ংকর নিষ্ঠুর।

তাদের ধর্মবিশ্বাস বেশ খানিকটা গোপনীয় ও রহস্যময়। কেউ কেউ বলেন, মায়ানরা বিশ্বাস করতো ঈশ্বরই সকল প্রাণ ও শক্তির উৎস, কেবল ঈশ্বরই পারেন জাগতিক সকল বিষয়ের সঙ্গে পরজাগতিক যোগাযোগ ঘটাতে। তারা আরও বিশ্বাস করত, ঈশ্বর মিশে আছেন চন্দ্র, সূর্য আর বৃষ্টির সঙ্গে, মানুষের সকল প্রার্থনা শোনেন তিনি। তাদের ধারণা ছিল, ঈশ্বরের নৈকট্য পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল নিজ দেহের রক্ত। আর তাই তারা বিশেষ কিছু অনুষ্ঠানে ঈশ্বরের নামে রক্ত বিসর্জন দিত। সবচাইতে গুরুত্ববাহী অনুষ্ঠানে রক্ত দিতেন মায়ানদের রাজা স্বয়ং! তবে এই আচারটি পালিত হত অত্যন্ত গোপনে, কেননা এর মধ্য দিয়ে তারা পেত ঈশ্বরের দর্শন।তবে মতান্তরে, মায়ানরা বেশিরভাগই নাকি প্রকৃতির পূজারী ছিল। বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তিকে তারা উপাসনা করত। পৃথিবীর সকল মানুষের জন্ম ছোট ছোট শস্যদানা থেকে- এই ছিল মানবজাতির উৎপত্তি নিয়ে তাদের বিশ্বাস!

নরবলির শহর:
মায়া সভ্যতার অন্যতম নগরীর নাম চিচেন ইতজা। এই শহরকে বলা হত নরবলির শহর। এই শহরে ছিল দুটো প্রাকৃতিক কুয়া, দুই কুয়ার মাঝেই ছিল শহরটি। আর এই কুয়াকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল মায়ান সভ্যতা আর সংস্কৃতি। এই শহরে গড়ে উঠেছিল মায়াদের পিরামিড, ধর্মীয় মঠ, টেম্পল অফ দি ওয়ারিয়র্স, কারাকোল (গোল স্তম্ভ) ইত্যাদি। ধর্মীয় প্রধান আচার অনুষ্ঠান পালিত হতো এই শহরেই।

মায়ানদের দুই প্রধান অমর দেবতার একজন হলো ইতজামনা। তাদের মতে, ইতজামনা মহাপরাক্রমশালী আকাশচারী দেবতা। এই দেবতাকে খুশি করতে মায়ান যাজকরা পবিত্র পিরামিডের ওপর নরবলি দিত। তবে এই বলিদান আর উৎসর্গের জন্যে বিশেষ সময় বেছে নিত, আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি হতো মায়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী। বলিদানের সময় খানিকটা অ্যাজটেক রীতি অনুযায়ী মায়ানরা বিশেষ আচার হিসেবে মানুষের বুক চিরে হৃৎপিণ্ড বের করে দেবতার সামনে উৎসর্গ করত। এছাড়া তারা মৃত মানুষের হাত, পা ও অন্যান্য অঙ্গ রেখে দিত নিজেদের কাছে। সূত্র: হিস্টোরি মিউজিয়াম

এই বিভাগের আরও খবর



আজকের প্রশ্ন