শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৮, ০৪:২১:৫২

সমুদ্রের গভীরে আশ্চর্য জগত

সমুদ্রের গভীরে আশ্চর্য জগত

ঢাকা : মানুষ মহাকাশের অনেক রহস্যের সমাধান করলেও গভীর সমুদ্রের অনেক অংশ এখনো মানুষের কাছে অজানা রয়ে গেছে। একদল গবেষক এমনই এক আশ্চর্য জগত আবিষ্কার করে সে বিষয়ে আরো জানার চেষ্টা করছেন।

ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সমুদ্রের তলদেশে প্রায় এক অজানা জগতের সন্ধান পেয়েছেন। সেই প্রাচীর প্রায় ১০০ মিটার উঁচু ও ৪০০ কিলোমিটার বিস্তৃত। শীতল পানির প্রবাল দিয়ে সেটি তৈরি। এই প্রবাল হাজার হাজার মিটার গভীরে কোনো আলো ছাড়াই বেঁচে থাকে।

গবেষক দলের সদস্য ক্লাউডিয়া ভিনব্যার্গ বলেন, সমুদ্রের গভীরে নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে তারা থাকে। স্রোতের মাধ্যমে ক্ষুদ্র খাদ্যকণা আগমনের উপর তারা নির্ভর করে। তা খেয়েই তারা বাঁচে।

তুষারকণার মতো ভেসে আসা প্ল্যাংকটন খেয়ে প্রবাল বেঁচে থাকে। কিন্তু সমুদ্রের গভীরে তাদের পরিমাণ কম হওয়ায় প্রবালের বংশবৃদ্ধির হারও কম। এক হাজার বছরে বেশি হলে ১৫ মিটার বৃদ্ধি ঘটে। তা সত্ত্বেও গবেষকরা গত কয়েক বছরে তাদের অভিযানে আবার অসাধারণ আকারের প্রবাল আবিষ্কার করেছেন।

ভিনব্যার্গ বলেন, বিশেষ করে অ্যাটলান্টিক মহাসাগরে আমরা অনেক প্রবাল প্রাচীর খুঁজে পেয়েছি। তাদের উচ্চতা এমনকি ৩০০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। আইফেল টাওয়ার বা বার্লিনের টেলিভিশন টাওয়ারের মতো উঁচু। এমন উচ্চতা পাবেন সেখানে।

মৌরিতানিয়া উপকূলের কাছে কীভাবে এই প্রাচীর সৃষ্টি হলো, তা জানতে ক্লাউডিয়া ভিনব্যার্গ ও তার সহকর্মীরা বিভিন্ন স্তরে পাথরের মতো জমে থাকা প্রবাল সংগ্রহ করেছেন৷ জানা গেছে, যে সেই প্রাচীর প্রায় ১০ লক্ষ বছর ধরে বেড়ে চলেছে। আজ তার অবস্থা কী?

ক্লাউডিয়া ভিনব্যার্গ সে বিষয়ে বলেন, উষ্ণ যুগের সূচনা, অর্থাৎ প্রায় ১০,০০০ বছর আগে থেকে এই এলাকায় আর কোনো প্রবাল নেই। অক্সিজেনের ঘনত্ব অত্যন্ত কম হওয়ায় কোরাল আর বাঁচতে পারে না বলে আমাদের ধারণা।

তবে ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে আমরা জানতে পেরেছি যে সম্প্রতি আবার সেখানে প্রবালের সমাগম ঘটেছে। কিন্তু আগের মতোই সেখানকার পরিবেশ অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় কোরালের পক্ষে প্রাচীর তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

গবেষকদের ধারণা, সারা বিশ্বের সমুদ্রে আরো বেশি অংশে অক্সিজেনের ঘনত্বের অভাব দেখা দেবে৷ ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাবের পাশাপাশি গভীর সমুদ্রে চাপের বাড়তি এক কারণ দেখা দেবে।

এখনো পর্যন্ত ৪,৬০০ এর বেশি প্রজাতি আবিষ্কৃত হয়েছে, যারা শীতল পানির কোরালে থাকে। প্রত্যেকটি অভিযানে সেই সংখ্যা বেড়ে যায়। তবে শীতল পানির প্রবালের বংশবৃদ্ধি সম্পর্কে এখনো বেশি কিছু জানা যায়নি।

সমুদ্রের তলদেশে জাদুময় ও রহস্যময় এক জগত সৃষ্টি হয়েছে। সে বিষয়ে বোঝার আগেই আমরা সেই সম্পদ হারালে তা অত্যন্ত দুঃখের কারণ হবে৷সূত্রঃ ডি ডব্লিউ বাংলা

 



আজকের প্রশ্ন