রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৮, ০৭:৪৬:০৮

সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে ‘কেন’ তোড়জোড়?

সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে ‘কেন’ তোড়জোড়?

ঢাকা: আসছে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটে অন্তত ১০০টি আসনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারে তোড়জোড় শুরু করেছে কমিশন। আগামী সংসদ ভোটে ইভিএম ব্যবহার করতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) আরপিও সংশোধনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) কমিশন সভায় বিষয়টি অনুমোদন পেতে যাচ্ছে। অনুমোদনের পরই আইন পাস হলে আগামী সংসদ ভোটে ইভিএম ব্যবহারে বাধা কাটবে কমিশনের।

তবে জাতীয় সংসদ ভোটে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরবিরোধী মত রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছে।

সম্প্রতি ৩ হাজার ৮২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহার’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইসি। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, ত্রুটিমুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করা। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচনী ফলাফলে বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করা।

প্রকল্পটির বেশ কিছু বিষয় স্পষ্ট করার জন্য পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ণ কমিটি (পিইসি) মতামত দিয়েছে।  

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ কিছু কারণে ১৯ আগস্টের পিইসি সভা মূলতবি করা হয়েছে। পিইসির সভায় প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে মর্মে মতামত এসেছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে আলোচনার তাগিদ দিয়েছে পিইসি। প্রকল্পে ২০৪ জন পরামর্শকের প্রয়োজনীয়তা জানতে চেয়েছে পিইসি। এক্ষেত্রে পরামর্শকের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মপরিধি ডিপিপিতে উল্লেখের জন্য বলা হয়েছে।

প্রকল্পে ৩১১০ জনের প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ থাকলেও তারা কারা সে বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ৩০ জনকে বিদেশে প্রশিক্ষণ প্রদানের কথা বলা হলেও তাদের পরিচয় জানানো হয়নি জানিয়ে এ ব্যাপরে বিস্তারিত ডিপিপিতে উল্লেখ করা প্রয়োজন বলে পরিকল্পনা কমিশন মতামত দিয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, কমিশন যে চাহিদাপত্র দিয়েছে তাতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনে ইভিএম প্রয়োজন ২ লাখ ৬৪ হাজার। ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে একসঙ্গে ভোটগ্রহণ করতে গেলে ইভিএম প্রয়োজন ২৩ হাজার। একইভাবে দেশের ১১ সিটিতে একসঙ্গে ভোটগ্রহণ করতে গেলে ইভিএম লাগবে ৩৫ হাজার। ৩২৩ পৌরসভায় এ পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করতে হলে ইভিএম লাগবে ৩৫ হাজার।

ইসির তথ্যানুযায়ী, দেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৫৫টি। এসব ইউপিতে একসঙ্গে ভোটগ্রহণ করতে ইভিএম লাগবে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫০০টি। তবে এ ক্ষেত্রে ইসি ভিন্ন পরিকল্পনা করেছে। পর্যালোচনাপত্রে উল্লেখ করা হয়, ইউপি নির্বাচন কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। ইতোপূর্বে প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ ৭৫০টির মতো ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে একেক ধাপে ইভিএম প্রয়োজন ৫২ হাজার ৫০০টি।

এদিকে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘৩০ আগস্ট কমিশন সভায় আরপিও সংশোধন-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তারপর সেটা ভেটিংয়ের (যাচাই-বাছাই) জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। আইন পাস হলে তার পরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলবে কমিশন। তখন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কি হবে না। আর তাছাড়া জাতীয় নির্বাচনের পরেই সারা দেশের সব উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেখানেও ইভিএম ব্যবহার করা হবে।’

তবে সংসদ ভোটে ইভিএম ব্যবহার করতে আরপিও সংশোধনের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে একজন  নির্বাচন কমিশনার ‘নোট আব ডিসেন্ট’ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার নোটে বলেছেন, বিগত ২৬ আগস্ট আরপিও সংশোধনের জন্য কমিশন সভায় তিন ধরনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সেদিন দুটি প্রস্তাব বাদ দিয়ে কেবল একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের  বিষযটি আলোচনার সীমাবদ্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত কমিশন সভা মুলতবি করা হয়। স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ইতোমধ্যে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে রাজনৈতিক দল ভোটারদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কশিমনার শুরু থেকেই বলে আসছেন- ‘রাজনৈতিক দলগুলো সম্মত হলে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে। সরকারের পক্ষ থেকে স্বাগত জানালেও বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ থেকে বিরোধিতা করা হয়েছে। তাই একাদশ সংসদ নির্বাচনে এভিএম সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধন্ত গ্রহণের পূর্বে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অধিকতর আলোচনা করার প্রয়োজন ছিল।’ এর আগে ৫০ কোটি টাকার ইভিএম ক্রয়ের নথিতে আমি ভিন্নমত প্রকাশ করেছিলেন সিইসি।

এদিকে ইভিএম পদ্ধতির সমালোচনা করে বুধবার এক বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেনের পর আওয়ামী লীগ ভোট কারচুপি করার জন্য আরপিও সংশোধন করেছিল। এখন আবার একই লক্ষ্যে আরপিও সংশোধনের চেষ্টা করছে। বিশ্বের যেসব দেশে এ পর্যন্ত ইভিএম ব্যবহার হয়েছে সেখানকার সবাই তা বাদ দেয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অনেকে বাদও দিয়েছে। এর বড় উদাহরণ প্রতিবেশী দেশ ভারত। সেখান থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। এছাড়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে ইভিএমের সুইচে চাপ দিলে শুধু নৌকা প্রতীকই আসে। অর্থাৎ ক্ষমতাসীনরা ১০০ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতার মত নির্বাচনে জেতার আশায় ইভিএম ব্যবহারের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।’



আজকের প্রশ্ন