মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০২:৫৯:১৮

বাসে বসে ১৫ মিনিটের আলোচনায় মুসলিম হই: নওমুসলিম মার্কিন নারী

বাসে বসে ১৫ মিনিটের আলোচনায় মুসলিম হই: নওমুসলিম মার্কিন নারী

মিশিগান: আমার পিতা একজন নিজে খ্রিস্টান হিসাবে তার সাথে আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন। তিনি আমাকে খ্রিস্টধর্মের মূলনীতিগুলো শিক্ষা দিতে কঠিন পরিশ্রম করতেন। আমি যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তাম তখন প্রায় প্রতিদিনই বাইবেল অধ্যয়ন করতাম এবং তখনই তাতে কিছু অসঙ্গতি আমার চোখে ধরা পড়ে যেমন-শুকরের মাংস খাওয়া ইত্যাদি।

যখন আমার বয়স ১২ বছর হয় তখন আমি এটা অনুভব করতে থাকি যে, আমি আর খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসী নই কিন্তু আমি এটা বুঝতাম না কেন আমি এমন অনুভব করতাম। তাই আমি সত্যিকারের সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজতে থাকি এবং তাঁর নিকটে প্রার্থনা করতে থাকি। আমি খুব আন্তরিক ভাবেই সৃষ্টিকর্তাকে তালাশ করতে থাকি।

তখন আমার মনে অনেক রকম প্রশ্নের উদয় হত যেমন, আমি অনেককেই জিজ্ঞেস করতাম ‘কেন আমরা অস্তিত্বশীল?’ অথবা ‘কোন মহৎ উদ্দেশ্যে আমি পৃথিবীতে এসেছি?’

এই পৃথিবীতে সব কিছুর মধ্যকার ভিন্নতা এবং জটিলতা এটাই নির্দেশ করে যে, এসব কিছুর পেছনে নিশ্চয় একজন রয়েছেন যিনি সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা।

কোনো কিছুর পরিকল্পনা তার পরিকল্পনাকারীকে নির্দেশ করে। যখন কোনো মানুষ সমুদ্র তট দিয়ে হেঁটে যায় তখন অন্যরা তার পাঁয়ের ছাপ দেখেই বলে দেয় এটি কোনো মানুষের পাঁয়ের ছাপ।

মানুষ কখনো এটা ধারণা করেনা যে, এরকম পাঁয়ের ছাপ সমুদ্রের ঢেউয়ের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। অথবা কেউ এমন চিন্তা করেনা যে, সমুদ্র তটে অযথাই কোনো কারণ ছাড়াই বা কোনো মানুষের হেঁটে যাওয়া ছাড়াই এরকম পাঁয়ের ছাপের সৃষ্টি হয়েছে।

মানুষ সত্যিকার ভাবেই যেটা চিন্তা করে তা হচ্ছে- এসবের পেছনে নিশ্চয় কোনো না কোনো কারণ রয়েছে এবং সব কিছুই ঘটে একজন সর্বোচ্চ সৃষ্টিকর্তার ইশারায়।

মানুষ এই পৃথিবীতে কেন এসেছে এবং এখানে তাদের উদ্দেশ্য কি তা জানা একজন মানুষের জন্য খুবই জরুরী। এটা জানার মাধ্যমে মানুষ নিজেদেরই উপকার করে।

আমার বয়স যখন ১৯ বছর এবং তখন আমি নিজেকে একজন সত্য অন্বেষণকারী হিসাবে দেখতাম, সেসময়ে আমি সৃষ্টিকর্তার সম্বন্ধে ধারণা লাভ করার জন্য বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ঘোরফেরা করেছিলাম। আমি তাওইজম, উইক্কাইজম, বুদ্ধইজম, জুডাইজম, ফ্রি-ম্যাসনারী, খ্রিষ্টানিটি, হিন্দুইজম, আনিমিজম ইত্যাদি আরো বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে একটা ধারণা লাভ করেছিলাম।

আমি এমনকি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কীয় কয়েক পৃষ্ঠার কিছু বই পড়েছিলাম তবে তা আমার ক্ষুধা মেটাতে পারেনি। আমি দেখেছিলাম মুসলিমরা মহান আল্লাহর আরাধনা করে, তারা মুহাম্মাদ(সাঃ)কে আল্লাহ প্রেরিত বার্তা বাহক হিসাবে দেখে এবং তারা প্রতিদিন পাঁচবার প্রার্থনা করে।

প্রতিদিন পাঁচবার?
আমি সেসময়ে চিন্তা করেছিলাম এটি খুব কঠিন কাজ এবং এটি কিভাবে স্বর্গ ও পৃথিবী সৃষ্টিকারী ঈশ্বরের ধর্ম হতে পারে?
আমার বয়স যখন ২১ তখন আমি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসি। আমি যেসব ধর্ম সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছিলাম তার কোনোটাই আমাকে অতটা সন্তুষ্ট করতে পারেনি। পরে আমি মেডিকেল কলেজে অধ্যয়ন করার সিদ্ধান্ত নিই।

আমি যখন আমার কলেজের উদ্দেশ্যে মিশিগান থেকে কলোরাডো যাওয়ার জন্য বাসে চেপে বসি, তখন আমার পাশে আফ্রিকা থেকে আসা একজন ছাত্র যার নাম ছিল ইব্রাহীম সে বসা ছিল।

আমরা কথা বলা শুরু করি এবং এক পর্যায়ে আমি জানতে পারি সে একজন মুসলিম। আমি তাকে ইসলাম সম্পর্কে কিছু বলার জন্য বলি। সে জানায় মুসলিমরা আল্লাহ ছাড়া ইবাদত করার মত আর কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ(সাঃ) আল্লাহর প্রেরিত একজন বার্তা বাহক এই বাক্যে বিশ্বাস করে। ইব্রাহীম আমাকে একথাও জানায় যে, মুসলিমরা খ্রিষ্টানদের নবী ইব্রাহীম(আঃ) কেও বিশ্বাস করে।

আমি তখন মতামত দেই যে, ইহুদীরা দুইজন নবীর পেছনে যথা-জিসু এবং মুহাম্মদ(সাঃ)। আর খ্রিস্টানরা একজন নবীর পেছনে তিনি হচ্ছেন মুহাম্মদ(সাঃ)।

আমি তার কাছে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আরো বেশি কিছু জানতে চাইলে সে আমাকে ‘দোয়া এবং জিকির’ নামে একটি বই পড়তে দেয়।

আমি যখন বইটি প্রথম পড়ি তাতে এরকম একটি লাইন ছিল-‘আল্লাহ ছাড়া আর কেউ ইবাদতের যোগ্য নয়, তার কোনো শরীক নেই। সকল ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই এবং তাঁর নিকটেই সকলকে ফিরে যেতে হবে।’

তখন আমার কাছে মনে হয়েছিল ইসলামই সেই ধর্ম যা আমি এতদিন খুঁজে বেড়াচ্ছি। এর পরে ইব্রাহীম আমাকে ইসলাম সম্পর্কীয় আরো কিছু বই পড়তে দেয়।

এসব বইতে একটি বিষয় সচরাচার দেখা যায় আর তা হচ্ছে-‘পরম করুণাময় আল্লাহর নামে। যাঁর আদেশ ছাড়া এই পৃথিবী এবং আকাশ মন্ডলীর কোনো কিছুই নড়তে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

আমি সাথে সাথে ইব্রাহীমকে জিজ্ঞেস করি কিভাবে আমি মুসলিম হতে পারবো। সে আমাকে জানায় যে, তুমি শাহাদা পাঠের মাধ্যমে মুসলিম হতে পার। আর তা হচ্ছে-‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ এই বাক্যটি পাঠ করা।
তখন আমি তার কথায় বিশ্বাস করি এবং উপরোক্ত বাক্যটি পাঠের মাধ্যমে আমি মুসলিম হই। আর এভাবেই আমি তার সাথে বাসে বসে ১৫ মিনিটের আলোচনার মাধ্যমেই একজন মুসলিমে রুপান্তরিত হই।

এটি ছিল ৭ বছর পূর্বের ঘটনা। আমি (মরিয়ম) পরে আর মেডিকেল কলেজে যাইনি। আমি ধর্ম সম্পর্কে আরো জানতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং এ উদ্দেশ্যে আমি উথাতে(যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চল) ভ্রমণ করি। সেখানে আমি অনেক মুসলিমদের সাথে দেখা করি যারা আমাকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানায় এবং সেখানে আমি ইসলাম সম্পর্কে জানতে অনেক সময় ব্যয় করি।

সূত্রঃ এবাউট ইসলাম।



আজকের প্রশ্ন