বুধবার, ২০ জুন ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১২ জুন, ২০১৮, ০৬:২৫:৪৭

মন্দির গড়তে তিন লাখ টাকা সহায়তা দিলেন মুসলিম যুবক

মন্দির গড়তে তিন লাখ টাকা সহায়তা দিলেন মুসলিম যুবক

ভারত ডেস্ক: সম্প্রীতির নতুন নজির স্থাপন করলেন পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া এলাকার সাইদুল শেখ নামে এক মুসলিম যুবক। অর্থের অভাবে গ্রামে মন্দির নির্মাণ করতে পারছিলেন না গ্রামবাসী। সাইদুল তিন লক্ষ টাকা দিয়ে মন্দির নির্মাণে সাহায্য করেন।

রবিবার সন্ধ্যায় হাওড়ার সাঁতরাগাছিতে আয়োজিত মিলনমেলার মঞ্চে খসমোরার গ্রামবাসীদের হাতে ওই চেক তুলে দেন পেশায় ইঞ্জিনিয়ার সাইদুল।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘গ্রামবাসীদের স্বপ্ন থাকলেও সাধ্য নেই। সেটা জানার পরেই সিদ্ধান্ত নিই, মন্দির তৈরিতে সাধ্যমতো সহায়তা করব।’

কিন্তু অন্য এলাকার বাসিন্দা হয়েও সাইদুল খসমোরায় মন্দির তৈরির কথা জানলেন কীভাবে?

পেশাগত কারণে একসময়ে কুয়েতে ছিলেন ওই যুবক। বছর দুয়েক আছেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। মাসপাঁচেকের জন্য ছুটিতে নিজের গ্রামে ফিরেছেন। সম্প্রতি উলুবেড়িয়ারই একটি রেস্তরাঁয় সাইদুলের সঙ্গে আলাপ হয় খসমোরা গ্রামের বাসিন্দা বিনয় চক্রবর্তীর। তিনি সাইদুলকে কথায় কথায় মন্দির তৈরিতে সমস্যার কথা বলেন। সাইদুল সাহায্যে রাজি হয়ে যান।

রবিবারের অনুষ্ঠানটির আয়োজক ‘আমরা ফ্যামিলি’ নামে একটি ফেসবুক-গ্রুপ। সাইদুল তার সদস্য। গ্রুপটি তৈরি করেছেন আন্দুলের রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, ‘প্রথমে ধূলাগড়ি, তারপরে বাদুড়িয়ার অশান্তির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মনে করি মিলনের বার্তা দিয়ে একটি গোষ্ঠী তৈরি করা দরকার। গত বছরেও ঈদের আগে আমরা মিলনোৎসব করে সম্প্রীতির বার্তা দিই। আমরাই সাইদুলকে মিলনমেলার মঞ্চ থেকে চেক দিতে বলি। যাতে অনেক মানুষ জানতে পারেন।’ পরে সকলে মিলে ইফতারে যোগ দেন।

খসমোরা দিঘিরপাড় গ্রামে মূলত গরিব হিন্দু সম্প্রদায়ের বাস। অধিকাংশই কৃষিজীবী। এখানে ব্রহ্মাপুজো হয়। প্রতি বছর বৈশাখী পূর্ণিমায় উৎসব হয়। ব্রহ্মামন্দিরটি যেন একটি ইটের দেওয়াল ঘেরা কুঁড়েঘর! মাথায় ফুটো হয়ে যাওয়া টিনের ছাউনি। দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামবাসীরা একটি পুরোদস্তুর ব্রহ্মামন্দির তৈরির স্বপ্ন দেখছেন। এ জন্য মাঝেমধ্যে গ্রামে চাঁদাও তোলা হয়। কিন্তু যে হারে চাঁদা উঠছে, তাতে মন্দির কবে হবে, তা নিয়ে গ্রামবাসীরাই সন্দিহান।

সইদুল নিজে গ্রামে এসে বর্তমান ‘মন্দির’টি দেখে গিয়েছেন। তার পরে তিনি সাহায্যে এগিয়ে আসায় ভরসা পেয়েছেন গ্রামবাসী। সোমবার গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সাইদুলকে নিয়ে উৎসবে মেতেছেন গ্রামবাসীরা। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা প্রণব চক্রবর্তী বলেন, ‘ধূলাগড়ি-কাণ্ডে মানুষের উপরে আমাদের বিশ্বাস চলে গিয়েছিল। সইদুলের কাজে সেই বিশ্বাস আবার ফিরে এসেছে।’ সূত্র:  আনন্দ বাজার

আজকের প্রশ্ন

খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটকে ‘প্রহসন’ বলেছেন বিএনপি ও বামপন্থিরা। আপনি কি একমত?