মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৭, ০৮:১৪:০৬

উপজাতি আর আদিবাসী বিতর্কে কারা লাভবান হচ্ছে

উপজাতি আর আদিবাসী বিতর্কে কারা লাভবান হচ্ছে

মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মাদ আলী শিকদার পিএসসি (অব.)

বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরবের মাস শুরু হয়ে গেছে। বছর ঘুরে এ মাসটি এলে দেশজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দের উল্লাস বইতে থাকে। মানুষ বিজয় উৎসবে মেতে ওঠে। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা লাল-সবুজের পোশাক, পতাকা এবং মাথায় ব্যান্ড লাগিয়ে যখন দল বেঁধে হৈহুল্লুড়ে মেতে ওঠে তখন সেটি দেখে আনন্দ অশ্রুতে চোখ-মুখ ভারী হয়ে যায়। অন্যদিকে অজানা আশঙ্কায় বুকের ভিতর কেমন যেন একটা হাহাকারও কাজ করে। স্বাধীনতা প্রাপ্তি ও এত বড় বিশাল বিজয় অর্জনের ৪৬ বছর পরও প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলো না। কেন হলো না সে বয়ান অনেক লম্বা। আজকে যেহেতু প্রসঙ্গ ভিন্ন, তাই সেদিকে যাব না। কিন্তু বিজয়ের মাসের শুরুতে এই লেখা লিখছি বিধায় সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুধু এতটুকু বলি— একাত্তরের পরাজিত শক্তি, যুদ্ধাপরাধী, বিশ্বাসঘাতক জামায়াত ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপির কাঁধে চড়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় জেঁকে বসার পর থেকে মানুষের মনে যে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে তার থেকে মুক্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। তখন জামায়াতের দুজন যুদ্ধাপরাধীকে বিএনপি মন্ত্রী বানায়। তারা মন্ত্রী হয়ে গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে বীরদর্পে তখন কর্মরত মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট নিয়েছে।
একটা জাতির জন্য এর থেকে বড় লজ্জা আর অপমানের কিছু হতে পারে না। নাটকে ভিলেনের বিজয় দৃশ্য সবার দেখা। সে সময়ে ভিলেনের মতো ওই দুই যুদ্ধাপরাধী মন্ত্রী নিশ্চয়ই বিদ্রূপপূর্ণ অট্টহাসি হেসেছে এবং মনে মনে বলেছে ও মিয়ারা বলি নাই মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ করে কিছু হবে না, দেশ আমরাই চালাব। কী পরিহাস আর দুর্ভাগ্য এই জাতির। তখন মনে হয়েছে সত্যিই সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ। এমন উদাহরণ বিশ্বে দ্বিতীয়টি নেই। যাক, বিজয়ের মাসে বেদনার কথা বলতে চাই না। মনেপ্রাণে প্রত্যাশা করি, চেতনার শক্তিতে আমরা পাকিস্তানি ও তাদের এদেশীয় দোসরদের একাত্তরে পরাজিত করেছিলাম, সেই চেতনায় এ সময়ের তরুণ প্রজন্ম ১৯৭৫ সালের পরে পুনরুত্থিত সেই একই শত্রুকে আবার পরাজিত করে বাংলাদেশকে সব কলঙ্ক থেকে মুক্ত করবে। শুরুতে বলছিলাম বিজয়ের মাসে অন্য কোনো বিষয়ের ওপর লিখতে মন সায় দেয় না। কিন্তু দুই দিন আগে পার হয়ে গেল ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২০তম বার্ষিকী। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এই শান্তিচুক্তি অনন্য একটি মাইলফলক। মুক্তিযুদ্ধের দর্শনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী জাতিগত ভ্রাতৃঘাতী রক্তক্ষরণের অবসান ঘটে এদিনে ১৯৯৭ সালে। সারা বিশ্বে প্রশংসিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। ভৌগোলিক অবস্থান, এর আয়তন, যা রাষ্ট্রের মোট আয়তনের এক-দশমাংস এবং সেখানে গচ্ছিত সম্ভাব্য বিশাল পরিমাণের প্রাকৃতিক সম্পদ, ইত্যাদি মিলে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো এখানেও একই রকম শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও পরিস্থিতি বজায় থাকা রাষ্ট্রের ভূ-খণ্ডগত নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। বিশ্বাস করতে চাই বাংলাদেশের সব নাগরিক এই অপরিহার্যতার গুরুত্ব অনুধাবন করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ২১ বছর যাবৎ ভ্রাতৃঘাতী রক্তক্ষরণের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর একটা অভাবনীয় আশাব্যঞ্জক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরে ২০ বছরের মাথায় এসে আবার পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। এমনটি তো হওয়ার কথা ছিল না। কেন হলো? একটু গভীরে গেলেই দেখা যাবে ১৯৭৫ সালের পরে যে সব রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ও পুনরুত্থান হয়েছে তারা মৌলিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বলতে যা বুঝায় তার সম্পূর্ণ বিরোধী এবং একাত্তরে পরিত্যক্ত পাকিস্তানি প্রিজমের মধ্য দিয়ে সব কিছুকে উগ্র সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করার কারণেই পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিচুক্তির সুফল রাষ্ট্র ও দেশের মানুষ পাচ্ছে না। বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত এই চুক্তিকে বাংলাদেশের প্রধান এক রাজনৈতিক পক্ষ প্রত্যাখ্যান করল এই বলে যে, ওই চুক্তির ফলে সমগ্র চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নাকি ভারতের অংশ হয়ে গেছে। ফলে যা হওয়ার তাই হলো। ২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ২০০৮ সাল পর্যন্ত (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরসহ) যে স্পিরিট ও কমিটমেন্ট সহকারে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চুক্তিটি করা হয়েছিল তার ধারাবাহিকতা আর থাকে না। অপারেশন সম্পূর্ণ শতভাগ সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করার পরে পোস্ট অপারেটিভ দেখভাল এবং পরিচর্যা যদি সঠিক না হয় তাহলে রোগীর জন্য নতুন বিপদ ডেকে আনতে পারে, এমনকি রোগী মারাও যেতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির অবস্থা এমনই হয়েছে। পোস্ট অপারেশন, অর্থাৎ শান্তিচুক্তি উত্তর পরিচর্যা সঠিকভাবে হয়নি। এক্ষেত্রে রোগী হয়তো মারা যায়নি। তবে ২০ বছরেও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেনি। আর এই সুযোগে দেশি-বিদেশি কিছু চক্র নিজেদের স্বার্থের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে বহুমুখী ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। স্বাক্ষরের সময় চরম বিরোধিতা করলেও ২০০১-২০০৬ মেয়াদে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসে বিএনপি চুক্তিটি বাতিল করার সাহস দেখায়নি। তবে বিএনপি-জামায়াত সরকারের পাঁচ বছর এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছর, মোট সাত বছর চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্থবির ছিল। ফলে পানিতে স্রোত না থাকলে যেমন নানা প্রকারের শেওলা এসে জমা হয়, তেমনি পার্বত্য শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন যতটুকু বাকি ছিল, তার সমাধানের পথে বহুমুখী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র এসে যোগ হতে থাকে, যা এখনো অব্যাহত আছে। দিন যত গড়াচ্ছে নতুন নতুন অনুষঙ্গ যোগ হওয়াতে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জটিলতর হচ্ছে। ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির ভিতরে বিভিন্ন স্থানে উপজাতি এবং উপজাতীয় শব্দটি কয়েক ডজনবার উল্লিখিত হয়েছে। তখন আদিবাসী কথাটি কোনো পক্ষ থেকেই আলোচনার জন্যও আনা হয়নি। তারপর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাঙালি ব্যতীত অন্য সব জাতিসত্তার নাগরিকদের উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও ক্ষুদ্র নৃ-

গোষ্ঠী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। চুক্তির দ্বিতীয় খণ্ডের এক নম্বর ধারায় স্পষ্টত উপজাতি শব্দটি বলবৎ থাকবে বলে উল্লেখ আছে। কিন্তু ২০০৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক বিশ্বের সব প্রান্তের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র গৃহীত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের উপজাতীয় কিছু নেতৃবৃন্দ, পশ্চিমা বিশ্বের টাকায় চালিত কিছু এনজিও এবং কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের সব উপজাতিকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তুলে পার্বত্য শান্তিচুক্তির বাস্তবায়নের পথকে আরও কঠিন করে তুলছে। জাতিসংঘের উল্লিখিত ঘোষণাপত্রে অনেকগুলো অনুচ্ছেদ আছে, যা বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী দেশের ভিতরে যে কোনো স্থানে রাষ্ট্রীয় কাজে ভূমি অধিগ্রহণের অধিকার রাষ্ট্রের রয়েছে এবং সব খনিজ সম্পদের মালিক হবে রাষ্ট্র। কিন্তু জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদ ১০ ও ৩২ অনুযায়ী রাষ্ট্র সেটি করতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, ওই ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদ ৩, ৩৬, ৩৭ ও ৩৮ সরাসরি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। সম্প্রতি কাতালোনিয়া, কুর্দিস্তান এবং তার আগে পূর্ব-তিমুর ও দক্ষিণ সুদানের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও লেগেসি আমাদের সবারই মনে রাখা প্রয়োজন। আদিবাসী বিতর্ক আগে কখনো ছিল না। এমনকি ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তির সময়েও ওঠেনি। তাই সংগত কারণেই প্রশ্ন উঠছে ২০০৭ সালের পর হঠাৎ করে কেন আদিবাসী স্বীকৃতির দাবি তুলে শান্তিচুক্তির বাস্তবায়নের পথকে আরও কঠিন করে দেওয়া হচ্ছে। উপজাতিদের প্রতি সব বৈষম্য দূর করাই ছিল শান্তিচুক্তির মূল চেতনা। এই চুক্তিটির পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে পাহাড়ি আর বাঙালিদের মধ্যে কোনো রকম পার্থক্য ও বৈষম্য থাকবে না। তাই নতুন করে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় এমন ইস্যু সামনে না এনে সবারই উচিত হবে ভূমি সমস্যার আশু সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা। ভূমি সমস্যা দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার কারণে নতুন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আর এ সুযোগটিই নিচ্ছে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী উপজাতি নাকি আদিবাসী এই নতুন দ্বন্দ্ব সৃষ্টি যারা করছে তাদের কার্যকলাপের দিকে নজর দিলেই দেখা যাবে এরা বৃহত্তর পাহাড়ি জনগণের স্বার্থে নয়, নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থের জন্য, আদিবাসী ইস্যুকে সামনে এনে পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যাটিকে জিইয়ে রাখার অপচেষ্টা করছে। এদের কার্যকলাপের সামান্য বর্ণনা দিই। এক. পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো, অর্থাৎ জেএসএস (জনসংহতি সমিতি), ইউপিডিএফ (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) এবং জেএসএস (সংস্কার), এই তিনটি ফ্রন্টের সশস্ত্র গ্রুপগুলো ব্যাপকহারে চাঁদাবাজি করে এবং সংগৃহীত অর্থের দ্বারা সিনিয়র নেতাদের আরাম-আয়েশ, পার্টির খরচ, প্রচার-প্রচারণাসহ অস্ত্র-সরঞ্জামাদি ক্রয় এবং ব্যবসা পরিচালনার কাজে লাগায়। শোনা যায় উল্লিখিত তিনটি দল পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বছরে প্রায় সাড়ে চারশ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে। এই চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে পাহাড়ি-বাঙালি সবাই। এই চাঁদাবাজদের দল দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে নিজেদের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডকে আড়াল করার জন্য এবং পাহাড়িদের ভিতরে নিজেদের অবস্থানকে সুসংহত করার জন্য সুকৌশলে পাহাড়ি বাঙালি সংঘর্ষ বাধিয়ে দেয়। সুপরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উসকানির ফাঁদে ফেলে তাদের দিয়ে বাড়াবাড়ির ঘটনা ঘটিয়ে সবারই দৃষ্টি ভিন্নদিকে নিয়ে যায়। তাতে একই এলাকায় বসবাসকারী পাহাড়ি বাঙালিদের মধ্যে ঘৃণা-বিদ্বেষ এবং দূরত্ব বৃদ্ধি পায়। লাভবান হয় ওই চাঁদাবাজদের দল। দুই. যারা পশ্চিমা বিশ্বের টাকায় এনজিও চালায় তারা নিজেদের এনজিও ব্যবসা অব্যাহত রাখার স্বার্থে নানা কৌশলে অশান্তিকে জিইয়ে রাখার অজুহাতের সন্ধানে থাকে। এরাই মূলত ২০০৭ সালের পরে হঠাৎ করে আদিবাসী ইস্যুটি সামনে আনায় শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আদিবাসী ইস্যুকে ফোকাস এবং ২০০৭ সালে জাতিসংঘের ঘোষিত অনুচ্ছেদগুলো বাস্তবায়নের জন্য বহু রকম কর্মসূচিকে তুলে ধরে এসব এনজিও পশ্চিমা বিশ্ব থেকে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে।

তিন. ভূ-রাজনৈতিক খেলার অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং এর সংলগ্ন অঞ্চলকে ঘিরে পশ্চিমা বিশ্বের নানা রকম সুদূরপ্রসারী চিন্তার কথা শোনা যায়। এ কারণেই ভারত আদিবাসী ঘোষণাপত্রকে স্বীকৃতি দেয়নি। উল্লিখিত ঘোষণাপত্রের মোট ৪৬টি অনুচ্ছেদ ভালো করে পড়ে দেখলে যে কেউ বুঝতে পারবেন এর অনেকগুলো অনুচ্ছেদের ভিতরে সরাসরি বিচ্ছিন্নতাবাদের অনেক উপাদান স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। সুতরাং ষড়যন্ত্র চক্রান্তের আলামত স্পষ্ট। তাই এসব ষড়যন্ত্র চক্রান্ত ঠেকাতে হলে বর্তমান সরকারের উচিত হবে সব বাধা অতিক্রম করে দ্রুত ভূমি সমস্যাটির সমাধান করে ফেলা। দিন যত যাবে ততই নতুন নতুন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সৃষ্টি হবে, যারা শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের পথকে আরও কঠিন করে তুলবে। তাই আদিবাসী, নাকি ওরা উপজাতি, এই বিতর্ক তুলে যারা দেশের ভিতরে নতুন করে বিভাজন ও অস্থিরতা তৈরি করতে চায় তাদের সম্পর্কে সবারই সজাগ হওয়া প্রয়োজন।

লেখক : কলামিস্ট ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

sikder52@gmail.com

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?