মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০১৮, ১২:২৪:৫১

‘বিএনপির নেতৃত্বের ব্যর্থতাই, সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে’

‘বিএনপির নেতৃত্বের ব্যর্থতাই, সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে’

বিএনপির নেতৃত্বের ব্যর্থতা প্রতিয়মান হয়েছে এবং একই সাথে পার্লামেন্টের গ্রহণযোগ্যতা না থাকলেও পার্লামেন্ট কাজ করেছে এবং পার্লামেন্টের যে বিরোধী দল আছে তারাও ধীরে ধীরে এক ধরণের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। ফলে এই দুইটি কারণ বর্তমান সরকারকে পরোক্ষভাবে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন রাজনীতিক বিশ্লেষক ও অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান। বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার বর্তমান মেয়াদের ৪ বছর পূর্ণ করছে। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করেছিল বর্তমান সরকার। সে সময় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শাসক দলের নেতা, মন্ত্রীরা সবাই আভাস দিয়েছিলেন এটা একটা অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা এবং অচিরেই দেশের সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন হবে। তবে পরে সেই নির্বাচন আর হয়নি বরং দেখতে দেখতে ৪ বছর পার করেছে এই সরকার এবং তাদের মেয়াদও পূর্ণ করে শেষ করার দিকে এগুচ্ছে। কিন্তু কিভাবে এটি সম্ভব হলো?

এই প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, কতগুলো কারণ আছে যে কারণগুলোর কারণে বর্তমান সরকার এখনো টিকে আছে। প্রথমত, বর্তমান সরকার প্রশাসন, নিরাপত্তাবাহিনীর উপর এক ধরণের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে এবং আমাদের এই প্রশাসন, নিরাপত্তাবাহিনী সবাই সংবিধানের উপর অনেক আস্থাশীল। ফলে এটি পরোক্ষভাবে বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করেছে। একটা পার্লামেন্ট, সংসদ আছে এবং যেটার গ্রহণযোগ্যতা না থাকলেও এই সংসদ ঠিক মতো চলছে। এছাড়া বর্তমানে বড় দুইটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সমর্থন পার্লামেন্ট পেয়েছে। ফলে এটাও সরকারকে পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, সরকারের পতনে বিরোধী দল বলতে আমার যেটা মনে হয়েছে রাস্তায় বিরোধী দল ব্যর্থ হয়েছে।

আপনি যে বিরোধী দলের কথা বলছেন সেই বিরোধী দল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যে দাবি সেটা কিভাবে টিকিয়ে রেখেছে?
জবাবে তিনি বলেন, বিরোধী দল নির্বাচনটি টিকিয়ে রাখার কারণ হলো আন্দোলন গড়ে তোলায় তাদের ব্যর্থতা। আর এই ব্যর্থতার কারণে সরকার লাভবান হয়েছে। আর সরকার যখন দেখেছে এই বিরোধী দল আন্দোলন করতে পারছে না, তখন তারা কান্টনিউ করেছে।

বিরোধী দল বিএনপির ভূমিকাকে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করছেন?

জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির অন্যান্য দলের রাজনৈতিক দলের সাথে একসাথে হয়ে আন্দোলন করা উচিত ছিল এবং অন্যান্য দলের সাথে ঐক্যমত গড়ে তোলা উচিত ছিল। সেখানে আমার কাছে বিএনপির নেতৃত্বের ব্যর্থতা প্রতীয়মান হয়েছে এবং একই সাথে পার্লামেন্টের গ্রহণযোগ্যতা না থাকলেও পার্লামেন্ট কাজ করেছে। ফলে দেখা গেল পার্লামেন্টের যে বিরোধী দল আছে তারাও ধীরে ধীরে এক ধরণের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। যে কারণে সরকারকে পরোক্ষভাবে তারাই টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করেছে।

সরকার ৪ বছর কাজ করেছে, এই ৪ বছরে সরকার আন্তর্জাতিক মহল থেকে কী ধরনের সমর্থন বা বিরোধিতা পেয়েছেন বলে মনে হয়?

জবাবে তিনি বলেন, এখানে দুইটি বিষয় রয়েছে। একটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল থেকে বার বার বলা হচ্ছে নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হোক। এখানে সরকারের উপর এক ধরনের চাপ অবশ্যই আছে, কিন্তু সরকার এটি নিশ্চিত করতে পারছে না। কারণ এখানে সরকারের ব্যর্থতা আছে। আর একটি হচ্ছে পার্লামেন্ট কাজ করছে এবং সেই পার্লামেন্টকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দুইটি বড় সংস্থা স্বীকৃতি দিয়েছে। এটাতে সরকারে অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

বিবিসি

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?