মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, ০৯:২৯:১৬

গণতন্ত্র ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন

গণতন্ত্র ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন

খন্দকার মাহবুব হোসেন
বাংলাদেশের মানুষ ভোটের অধিকারের জন্য দীর্ঘদিন লড়াই করেছে। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও ভোটের অধিকার এখনো পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি। একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে নিরপেক্ষ নির্বাচন। আর এর পূর্বশর্ত হচ্ছে দলীয় প্রভাবের বাইরে সুষ্ঠু পরিবেশে সর্বপ্রকার ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে ভোট প্রয়োগের অধিকার। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রতিষ্ঠার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষকে আন্দোলন করতে হয়েছে। দাবি আদায়ের সংগ্রামে পথে নামতে হয়েছে। কেননা দেখা গেছে ক্ষমতাসীন সরকার তাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। ফলে গণতন্ত্রকামী মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং শেষ পর্যন্ত বিজয় লাভ করেছে।

আমাদের দেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, মানুষ বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে তাদের ভোটের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করে যাচ্ছে। বার বার তাদের এই অধিকারের ক্ষেত্রে বাধা এসেছে। এমনকি স্বাধীনতার পর জাতীয় সংসদের প্রথম যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে মানুষের ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছিল। ভোটে হেরে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাককে বিজয়ী করার জন্য তার নির্বাচনী এলাকা দাউদকান্দি থেকে হেলিকপ্টারে করে ব্যালট বাক্স ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী দ্বারা লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিলোপ করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার পর খন্দকার মোশতাক আহমদ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন। ওই বছর ৩ নভেম্বর জেনারেল খালেদ মোশাররফ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে খন্দকার মোশতাককে ক্ষমতাচ্যুত করেন। সামরিক জান্তার সমর্থনে ’৭৫-এর ৫ নভেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে আসীন হয়ে সংসদ ভেঙে দেন এবং সংসদ নির্বাচনের অঙ্গীকার করেন। এই উদ্দেশ্যে চতুর্থ সংশোধনী দ্বারা বিলুপ্ত রাজনৈতিক দলগুলো পুনর্জীবিত করার লক্ষ্যে সামরিক ফরমান দ্বারা ‘পলিটিক্যাল পার্টিস রেগুলেশন, ১৯৭৬’ জারি করেন। আওয়ামী লীগসহ অন্য রাজনৈতিক দল ওই সামরিক ফরমানের বিধান মোতাবেক রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত হয়।

জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করেন এবং স্বল্প সময়ে তার সততা, প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে যে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে তার ফলে তিনি বিপুলভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কতিপয় ষড়যন্ত্রকারীর পরোক্ষ সহযোগিতায় ও সমর্থনে কিছুসংখ্যক বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে নিহত হওয়ার পর তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুস সাত্তার ক্ষমতাসীন হন। কিন্তু তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তাকে ক্ষমতাচ্যুত এবং সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতায় আসেন।

১৯৮৬ সালে এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন শুরু হয়। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে ’৮৬ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দেওয়া জাতীয় নির্বাচন বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয়। কেননা, এরশাদ নির্বাচনব্যবস্থা কলুষিত করে জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু এরশাদকে জাতীয় বেইমান আখ্যা দিয়েও আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলন পরিত্যাগ করে। ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতা হন।

গণমানুষকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান তারই প্রমাণ। সব রাজনৈতিক দলের সমঝোতার ভিত্তিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতাসীন হয়। বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য আওয়ামী লীগ হরতাল ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতি শুরু করে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের অজুহাতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত নির্বাচনকালীন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি তোলে। সেদিন তাদের যুক্তি ছিল ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

কারণ ক্ষমতাসীন দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করে এবং জনগণ তাদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। আওয়ামী লীগ-জামায়াতের কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা যাতে ব্যাহত না হয়, সে উদ্দেশ্যে তৎকালীন বিএনপি সরকার সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অধীনে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে।

২০০৮ সালে সামরিক জান্তার সমর্থনপুষ্ট ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিনের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে বিভিন্ন মহলে কিছু বিতর্ক থাকলেও বিধান বাতিলের কোনো প্রশ্ন আসেনি। কেননা দেশের রাজনীতিবিদ, সুশীলসমাজ ও বুদ্ধিজীবী— সবাই এটা স্বীকার করেন যে, আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিশেষ করে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে যে পারস্পরিক অবিশ্বাস রয়েছে, বিশেষ করে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার যে উগ্র মানসিকতা রয়েছে তার ফলে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। অতীতে আওয়ামী লীগ যে কটি নির্বাচনে হেরেছে সব নির্বাচনেই তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে দায়ী করেছে। কিন্তু সামরিক জান্তা সমর্থনপুষ্ট ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিন নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে জয়লাভ করায় ওই সরকারের বিরুদ্ধে তাদের কোনো ক্ষোভ ছিল না। নির্বাচনে জয়লাভ করে ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার কথা বলে তারা সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটির বিভিন্ন বৈঠকে সুশীলসমাজ, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী কমিটির কাছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সমর্থন করেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সমর্থন করেছেন। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট করা হয়। ওই রিট শুনানিতে হাই কোর্টের তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে একটি বিশেষ বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় বলে খারিজ করে দেয়। কিন্তু তৎকালীন প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের একজন বাদে সব অ্যামিক্যাস কিউরির বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সমর্থন সত্ত্বেও এবং অন্য তিনজন বিচারপতির ভিন্নমত এড়িয়ে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দেন। এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণকারী আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. ইমান আলী তার রায়ে উল্লেখ করেছেন, ক্ষমতাসীন দলের অধীনে কখনো সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এরপর আওয়ামী লীগ আপিল বিভাগের রায়ের ধুুয়া তুলে তাড়াহুড়া করে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে।

বিচারপতি খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করে যে রায় প্রদান করেন তার একমাত্র যুক্তি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচিত সরকার নয়। সরকার হতে হবে নির্বাচিত এটাই সংবিধানের মৌলিক কাঠামো। তার এ যুক্তির কোনো আইনগত ভিত্তি আছে বলে মনে হয় না। কেননা নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পূর্ণাঙ্গ সরকার নয়। কেবল অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করাই এ সরকারের দায়িত্ব। ভারতসহ সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশে সংসদ ভেঙে দিয়ে জাতীয় নির্বাচন হয়। তখন তারা আর সংসদ সদস্য হিসেবে বিবেচিত হন না। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদের ‘(৩) (ক) অনুযায়ী মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে। তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ, উক্ত-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না।’ সংসদ ভেঙে যাওয়ার পরও পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল রাখার এই অদ্ভুত বিধান পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে নেই। নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য এর চেয়ে অন্যায্য বিধান আর হতে পারে না। কেননা ওই বিধানমতে, সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি তার প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ সব সুবিধার অধিকারী থেকে নির্বাচন করবেন। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে মাঠে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য ক্ষমতাসীন দলের এর চেয়ে ন্যক্কারজনক বিধান আর হতে পারে না। তারই ফলে দেশে আজ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হুমকির মুখে। একমাত্র ক্ষমতাসীন সরকারের সুবিধাভোগী জাতীয় পার্টি ছাড়া বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিহীন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না বলে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ জন সংসদ সদস্য এবং অবশিষ্ট ১৪৭ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে বহাল আছেন। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়।

বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ উচ্চকণ্ঠে সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে বলে দাবি করছে। তারা সংবিধানের জন্য মায়াকান্না করছে। সংবিধানের বাইরে কোনো অবস্থায়ই যাওয়া যাবে না। কিন্তু জনগণ ভুলে যায়নি— ১৯৯৬ সালে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান ছিল না। ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে কারচুপি করে ক্ষমতায় বহাল থাকবে এই অজুহাতে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ জামায়াতকে নিয়ে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করে। এই দাবিতে তারা অনির্দিষ্টকালের হরতালসহ দেশে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। সংসদ থেকে পদত্যাগ করে। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির যৌক্তিকতা উপলব্ধি করে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দেয় এবং ওই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচনকালীনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তন করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন দেন। তখন ক্ষমতাসীন বিএনপি সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই, তাই সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হতে হবে এই ধুয়া তুলে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করেনি। অথচ এখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংবিধানের ধুয়া তুলে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, সংবিধান মানুষের কল্যাণের জন্য এবং সে কারণেই দেশের স্বার্থে গণতন্ত্রের স্বার্থে যে কোনো সময় সংবিধান পরিবর্তনযোগ্য।

দেশে মানুষের ভোটের অধিকার যাতে নিশ্চিত হয় সে কারণেই আজ বিরোধী দল কর্তৃক নির্বাচনকালীন একটি সহায়ক সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তোলা হচ্ছে। আরেকটি কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, ১৯৯৬ সালে যখন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ, জামায়াত নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করেছিল আজকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তার চেয়ে আরও জটিল। বিরোধী দল ও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে পরস্পর শ্রদ্ধাবোধের অভাব, অবিশ্বাস আজ প্রকটভাবে বিরাজমান। তাই গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্বাচনকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবমুক্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সহায়ক সরকারের দাবি কোনো অবস্থায় অযৌক্তিক বলা যায় না।

লেখক : সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি।
উৎসঃ   বিডি-প্রতিদিন

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?