বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ০৮ মার্চ, ২০১৮, ০৩:১৯:২৮

নারীর জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থানের যুদ্ধ আর কত দিন?

নারীর জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থানের যুদ্ধ আর কত দিন?

শ্রাবণ রশীদ লাকি
সময়টা পাল্টে গেছে। এখন নারীরা ঘরের বাইরে বেরিয়ে নিজেদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করছেন। এই আলো যাদের স্পর্শ করছে তারা সমাজে এখন বহু সম্মানিত জায়গায় নিজেদের নিয়ে গেছেন। আর যারা শিক্ষার আলোয় নিজেকে আলোকিত করতে পারেননি তারা অন্ধকারে রয়ে গেছেন। আমাদের এই আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় আজও নারীরা অবহেলিত। নানা জায়গায় বঞ্চিত হচ্ছেন বিভিন্নভাবে। জন্মের প্রথম লগ্নেই তাকে বোঝা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তার পেছনে পরিবারের কর্তা ব্যক্তিরা অনেক সময় শ্রম, অর্থ ব্যয় করাকে অহেতুক হিসেবে ধরে নেয়। এত সব বাধা উপেক্ষা করেও কোনো একজন মেয়ে যদি শিক্ষার আলোর দিকে নিজেকে ধাবিত করতে পারে তাহলে আরো অনেক নারী তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজের কল্যাণের দিকে নিজেকে নিয়োজিত করবে।

এত গেল নারীকে শিক্ষিত হওয়ার ক্ষেত্রে বাধার কথা। এর বাইরেও একজন নারী যখন শিক্ষিত হয়ে কাজে যুক্ত হন সেটা নিয়েও অনেক সময় নানা কথাবার্তার মুখোমুখি হতে হয়। কেউ সামনে না পারলে পেছনে বসেও নানা কটু কথা বলতে ছাড়েন না। কখনো কখনো শুনতে হয় যে, নারীদের জন্য স্কুল-কলেজে শিক্ষকতাই ভালো। অন্য কোনো ক্ষেত্র নিরাপদ নয়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যেমন ধরুন অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে যখন একজন নারী আইনজীবী হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান তখনই হয়তো আড়ালে-আবডালে কেউ বলে বেড়াবেন, এই পেশা আসলে মেয়েদের জন্য সেভ না। রাত-বিরাতে চেম্বারে সময় দিতে হয়। সবসময় ব্যস্ত থাকতে হয়। আর সিনিয়র যদি পুরুষ হন তাহলে তো কথাই নেই! আচ্ছা তাহলে কি সব পুরুষ সিনিয়র আইনজীবী মন্দ মানুষ?

আবার যেমন ধরুন কেউ একজন সেবিকা হিসেবে হাসপাতালে পরম যত্নে রোগীকে সুস্থ করার কাজ করছেন। তাকেও শুনতে হবে নানা কথা। কেউ বলবেন, হাসপাতালে নার্স? ওখানে ভালো থাকার সুযোগ কম। এমন অসংখ্য পেশার কথা শোনা যায় যেখানে কাজ করা নিয়ে নারীদের শুনতে হয় নানা কথা। হ্যাঁ এটাও সত্য যে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। আর এসব কারণে শঙ্কায় থাকা অনেক শিক্ষিত নারীও কোনো কর্মক্ষেত্রে যোগদান করতে নিজে থেকেই নিরুৎসাহিত হন। তবে এসব শঙ্কা ও সমাজের নানা কটু কথাকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নারীরা।

এমন বাস্তবতার মধ্যেই প্রতি বছরের মতো এবারও সামনে বিশ্ব নারী দিবস। একজন নারী হিসেবে জানতে ইচ্ছা হয়, নারীদের একটি নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক কর্মক্ষেত্রের জন্য আর কত যুদ্ধ করতে হবে? আমরা তো চাই পুরুষের পাশে থেকে নিজ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী পরিবারকে সহায়তা করতে, সমাজের কল্যাণে কাজ করতে।

তাই এবারের নারী দিবসে একটাই প্রত্যাশা গোটা দেশ হোক নারীদের জন্য নিরাপদ। আর কর্মক্ষেত্র হোক নারীর জন্য স্বস্তির জায়গা। পরিবর্তন আসুক আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।

লেখক: শিক্ষানবিস আইনজীবী, ঢাকা জজকোর্ট

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?