সোমবার, ২৫ জুন ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১০ জানুয়ারী, ২০১৮, ০১:১৮:২৯

স্কুলগামী ছাত্রীদের ‘উত্ত্যক্ত করায়’ ১২ পুলিশ প্রত্যাহার

স্কুলগামী ছাত্রীদের ‘উত্ত্যক্ত করায়’ ১২ পুলিশ প্রত্যাহার

খুলনা: স্কুলগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা এবং এক ছাত্রীর ভাইকে মারপিটের অভিযোগে খুলনার খারাবাদ বাইনতলা ক্যাম্পে কর্তব্যরত ১২ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা বলেন, ছাত্রী উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া বাকিরা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল। এই কারণে ওই ফাঁড়ির সব পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য হলেন, নায়েক জাহিদ ব্যাচ নং ৪১৪, কনস্টেবল নাঈম (নম্বর : ২২০৮), কনস্টেবল মামুন (নম্বর : ২০৯৭), কনস্টেবল রিয়াজ (নম্বর : ৯৮৫) এবং কনস্টেবল আবির (নম্বর : ১৬৮৩)।

নিজামুল হক বলেন, বাকি পুলিশ সদস্যদর বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়টি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাঈমুল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার পাশাপাশি এক ছাত্রীর ভাইকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে। মারধরের শিকার কম্পিউটার সরঞ্জামের ব্যবসায়ী তারেক মাহমুদ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, খারাবাদ বাইনতলা এলাকায় যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পের পাশে কলেজিয়েট গালর্স স্কুল রয়েছে। ওই স্কুলের ছাত্রীরা ওই ক্যাম্পের সামনে দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করার সময় পুলিশরা উত্ত্যক্ত করত। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ছাত্রীরা স্কুলে যাওয়ার সময় ওই ৫ জন পুলিশ ক্যাম্পের ছাদে দাঁড়িয়ে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করতে থাকে। পুলিশের অশালীন কথা সহ্য করতে না পেরে দশম শ্রেণীর ছাত্রী রাবেয়া খাতুন পাশেই তার ভাই তারেক মাহমুদের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কেঁদে সব ঘটনা জানায়।

এ সময়ে তার সাথে আরো ৪/৫ জন স্কুলছাত্রী ছিল। তারাও কাঁদতে থাকে। তখন রাবেয়া খাতুনের ভাই তারেক মাহমুদ পুলিশ ক্যাম্পের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ করে। ওই যুবক পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেন ‘আপনাদের তো মা-বোন আছে। আপনারা বাজে কথা কেন বলেন?’

তখন ক্ষিপ্ত হয়ে নায়েক জাহিদ ছাত্রীর ভাই তারেককে ক্যাম্পের ছাদে আসতে বলে। তারেক মাহমুদ ছাদে না গিয়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পর  নায়েক জাহিদের নেতৃত্বে ওই ৫ পুলিশ সাদা পোশাকে তারেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যায় এবং তাকে টেনে হেচঁড়ে বের করে বেদম মারপিট করতে থাকে। এ সময় পুলিশ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটারসহ আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে। তখন আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা অস্ত্র উচিয়ে বলে ‘এখানে এলে গুলি করা হবে।’ এরপর তারেক মাহমুদকে ধরে ক্যাম্পে নিয়ে আরেক দফা নির্যাতন চালানো হয়।

এ খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গোলদার মিলন ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারেক মাহমুদকে উদ্ধার করেন। তাকে মুমুর্ষূ অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তারেকদের মারধরের ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউপি চেয়ারম্যান বটিয়াঘাটা থানার ওসিকে খবর দেন।

ওসি মোজাম্মেল হক মামুন ঘটনাস্থালে এলে বিক্ষুব্ধ জনতা অন্যায়ের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে উত্তপ্ত হতে থাকে। তখন ওসি ফোনে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাঈমুল হককে ঘটনা জানান। তিনি সেখানে পৌঁছালে সাধারণ মানুষ ও স্কুল ছাত্রীদের অভিভাবকরা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনা বর্ণনা করেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে ওই ৫ জনসহ ক্যাম্পের অবস্থানরত ১২ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

ছাত্রী রাবেয়া খাতুনের বাবা মুজিবর রহমান কেঁদে বলেন, ওই ক্যাম্পের পুলিশরা প্রতিদিনই মেয়েদেরকে বাজে কথা বলত। এর প্রতিবাদ করায় আমার ছেলের কী হাল করেছে। এরা কি মানুষ না অন্য কিছু?

বাইনতলা গ্রামের খলিলুর রহমান বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীকে উত্যক্ত করেন কনস্টেবল নাঈম। ছাত্রীটির সঙ্গে থাকা তার ভাই প্রতিবাদ করলে তাকে ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে মারধর করা হয়। এতে গ্রামবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে।’

স্থানীয় আমিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গোলদার মিলন বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনাটি ওসিকে জানাই। পরে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করা হয়।

এ ব্যাপারে বটিয়াঘাটা থানার ওসি মোজাম্মেল হক মামুন বলেন, ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ সত্য নয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তারেক নামে এক ছেলের সঙ্গে ফাঁড়ির এক কনস্টেবলের হাতাহাতি হয়। ওই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ ওঠায় জেলা পুলিশ ১২ জনকে প্রত্যাহার করেছে।

আজকের প্রশ্ন

খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটকে ‘প্রহসন’ বলেছেন বিএনপি ও বামপন্থিরা। আপনি কি একমত?