বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ০৭ আগস্ট, ২০১৮, ০৯:৫৮:২৪

‘আমার মনে হয়েছিল আমি তার প্রেমে পড়েছি’

‘আমার মনে হয়েছিল আমি তার প্রেমে পড়েছি’

কুয়ালালামপুর: ৯৩ বছর বয়সী মালায়শিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বিশ্বের সবচাইতে বয়ষ্ক রাজনীতিবিদ। চলতি বছরের মে মাসে তিনি দেশটির ক্ষমতায় আবারো ফিরে আসেন এবং তার এ প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে বলেন, খুব বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার পূর্বেই দুর্নীতিতে জর্জরিত তার দেশকে রক্ষা করতে আবারও ফিরে এসেছেন।

একসময় মাহাথির একটানা ২২ বছর (১৯৮১-২০০৩ সাল) মালায়শিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন্। এটি ছিল মালায়শিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড। সেসময় তিনি দেশটিকে কৃষি নির্ভর দেশ থেকে শিল্পোন্নত দেশে পরিণত করেন। অবশ্য তার ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে তিনি দেশটির অন্য বিরোধী দলগুলো এবং গণমাধ্যমগুলোর প্রতি লৌহ মানবের ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সম্প্রতি দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা সিএনএন তার সাথে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আলোচনা করেন। তার সেই সাক্ষাৎকারটির (ভাষান্তরে) দ্বিতীয় পর্ব নিম্নে আরটিএনএনের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

 

সিএনএন: বিশ্ববিদ্যালয়তে মেডিসিনে অধ্যয়নের সময় আপনার স্ত্রী তুন সিতি হাসমাহ এর সাথে আপনার দেখা হয়েছিল। তার এমন কি ছিল যাতে আপনি প্রথমেই তার প্রতি দূর্বল হয়ে পড়েন?

মাহাথির: আসলে সে সময়ে সেখানে মেয়েদের তেমন আনাগোনা ছিল না এবং তিনি ছিলেন মালয়তে একমাত্র মেয়ে যে মেডিকেল কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই আমরা সবাই তার প্রতি আকর্ষণ বোধ করতে থাকি বিশেষত আমি অনুভব করতে থাকি যে, আমি তার প্রেমে পড়েছি। সে সময়ে মেয়েরা তেমন একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেত না, কিন্তু তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য একেবারে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। আমি মনে করি তার চরিত্রের এই হার না মানা দিকটাই আমাকে তার প্রতি আকৃষ্ট হতে বাধ্য করেছে।

সিএনএন: আপনারা দুইজন ৬২ বছর ধরে বিবাহিত জীবন যাপন করছেন। আপনাদের এই সাফল্য মন্ডিত দাম্পত্য জীবনের রহস্যটা কি?

মাহাথির: আমরা একে অন্যকে সহ্য করা শিখে নিয়েছি, যদিও মাঝে মধ্যে আমরা রাগারাগি করি। আমি সময় সম্পর্কে সচেতন আর তিনি সবসময়ই দেরি করে। এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে প্রায় ঝগড়া বাঁধে কিন্তু আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমি তাকে পরিবর্তন করতে পারবো না, তিনিও আমাকে পরিবর্তন করতে পারবেন না, সেজন্য আমরা একমত হয়েছি যে আমরা ভিন্ন।

আমার মত করে তিনিও বিশ্বস্ত, দেশের জন্য কাজ করাকে অনুভব করেন। আমি যেখানেই যাই তিনি আমাকে সঙ্গ দেন, এদিক থেকে যে, বিশ্বস্ততার প্রতি দৃঢ়চেতা, আমার মত করে দেশকে ভালোবাসা।

সিএনএন: আপনার বয়স এখন ৯৩, আপনাকে প্রতিদিন কাজ করার জন্য ঘুরে দাঁড়াতে হয়। আপনি একটি দেশ চালাচ্ছেন, পৃথিবী ভ্রমণ করছেন। কোথা থেকে আপনার এত ধৈর্য আসে?

মাহাথির: ঠিক আছে, সময়গত দিক থেকে আমার বয়স ৯৩ কিন্তু জীবনগতভাবে আমার বয়স ৯৩ নয়। কিছু কিছু সময় মানুষ তার বয়সের চাইতেও বেশী তরুণ থাকে। আমি খুবই নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন করি। আমি কিছুই মাত্রাতিরিক্ত করি না। আমি এমন খাইনা যাতে করে আমি মোটা হয়ে যেতে পারি। মাঝে মধ্যে আমি অসুস্থ হয়ে যাই, আপনি জানেন যে, আমার বক্ষে দুইবার অস্ত্রপচার হয়েছে কিন্তু আমি আমার স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখি।

আপানার মনকে সবসময় সকীয় রাখতে হলে আপনার দরকার কিছু না কিছু পড়া, কিছু চিন্তা করা এবং যুক্তি দেয়া। আপনি যখন চিন্তা করা বন্ধ করে দিবেন, পড়া বন্ধ করে দিবেন, সমস্যার সমাধান করা বন্ধ করে দিবেন তখন আপনার মস্তিষ্ক আপনা আপনিই চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। (চলবে...)

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?