ঢাকা, রবিবার ২৩শে এপ্রিল ২০১৭ - 

বাংলাদেশে কওমী মাদ্রাসায় কী পড়ানো হয়?

প্রাইমনিউজবিডি.কম
 বৃহঃস্পতিবার ২০শে এপ্রিল ২০১৭ রাত ০৮:৫০:০৭

ঢাকা: বাংলাদেশে প্রচলিত তিন ধরনের মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে মসজিদ ভিত্তিক মাদ্রাসাগুলোই মূলত কওমী মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত।

২০১৫ সাল পর্যন্ত ব্যানবেইসের হিসেবে ১৩ হাজার ৮২৬টি কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ লক্ষ ৮৮ হাজার ৪৬০ জন। এসব শিক্ষার্থীরা যা পড়ছেন বা শিখছেন এক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ বা তদারকির কোনোরকম সুযোগ নেই।

উনিশ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠিত দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসার মাধ্যমে কওমি শিক্ষাব্যবস্থার প্রচলন হয়। ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসার অনুসরণ করে বাংলাদেশেও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা চালু রয়েছে।

কওমি শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানান এ শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই হলো ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষায় পারদর্শী হওয়া। তাদের সিলেবাসে দেখা যায় তাকমীল বা দাওরায়ে হাদিস স্তরে শিক্ষার্থীরা মূলত হাদিস সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পড়ানো হয়।

আর প্রাথমিক থেকে বিভিন্ন স্তরে দেখা যায় কোরান হাদিস ছাড়াও, একাধিক ভাষা, গণিত, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও তর্কশাস্ত্রের মতো বিভিন্ন বিষয় তাদের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত আছে।

ঢাকার কওমী মাদ্রাসাগুলোর নিয়ন্ত্রক বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সহসভাপতি মুফতি মাহফুজুল হক বলেন - মৌলিকভাবে কোরান হাদিস বোঝার জন্য যেসব আনুসঙ্গিক বিষয়াবলী প্রয়োজন সেগুলো পড়ানো হয়। ফেকাহ পড়ানো হয়। এর সাথে তাদের চার পাঁচটা ভাষার উপরেও তাদেরকে শিক্ষা দেয়া হয়। বাংলা, ইংরেজি প্রাথমিক পর্যায়ে, আরবি উচ্চস্তর পর্যায়ে, পাশাপাশি উর্দুও তাদেরকে শেখানো হয়। অল্প ফারসিও তাদেরকে পড়ানো হয়।

মি. হকের দাবি দাওরায়ে হাদিস স্তরে শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় বিষয়ে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চেয়ে বেশি জানেন এবং শেখেন।

"আমরা মনে করি যেকোনো কলেজ ইউনিভার্সিটি যেখানে ইসলামি স্টাডিজ বা আরবী সাহিত্য বিভাগ আছে, তারা এই দুই সাবজেক্টে যা পড়ে তার চেয়ে অনেক বেশি আমাদের এখানে ছেলেরা পড়ে। জেনারেল শিক্ষা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা, অঙ্ক, ইংরেজি, সমাজ, ভূগোল, ইতিহাস বর্তমানে আমাদের এ মাদ্রাসাগুলোতে পড়ানো হয়। তাছাড়া উপরের দিকে অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানও আমরা পড়াচ্ছি।

কওমী মাদ্রাসার নীতি নির্ধারকরা সব সময় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি ও সনদ বাস্তবায়ন কমিটির কো চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলী বলেন, তারা সরকার থেকে কোনোরকম অনুদান এবং অর্থসহায়তা গ্রহণ করেন না এবং তদারকির নামে সরকারের কোনোরকম নিয়ন্ত্রণও চান না। কওমি শিক্ষার আধুনিকায়ন বা সংস্কারের প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারের কেউ নয় আলেমরাই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

এখানে ইঞ্জিনিয়ার বানানো হয় না, বৈজ্ঞানিক বানানো হয় না, ডাক্তার হয় না, দার্শনিক হয় না। ইসলামি শিক্ষার মধ্যে গভীর জ্ঞানী হয়। এটা একটা বিভাগ যেখানে ইসলামী শিক্ষায় গভীর জ্ঞানী করে তোলা হয়।

সরকারি স্বীকৃতির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি শিক্ষা বা আরবী বিভাগের মাস্টার্স এবং কওমি মাদ্রাসার দাওরায় হাদিস সনদের মান সমান হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. ইউসুফ জানান সিলেবাসে খুব একটা পার্থক্য নেই। তিনি মনে করেন মান পাওয়ার পর নিজেদের স্বার্থেই কওমী শিক্ষায় কিছু সংস্কার করা প্রয়োজন।

দাওরায়ে হাদিসে তারা সিহাহ সিত্তাহ হাদিসের ছয়টি কিতাবগুলো তারা পড়ায়। যুগ যুগ ধরে এটা চলে আসছে। আলিয়া মাদ্রাসাতেও এরকম কামিল যখন এমএ'র মান ছিলনা তখন সিহাহ সিত্তাহ'র কিতাব পড়ানো হতো। যখন এটাকে এমএ'র মান দেয়া হয় তখন এই কামিলকে কামিল হাদিস, কামিল আদব, কামিল ফিকহ, কামিল তাফসির এধরনের বিভাজন করা হইছে। কওমি মাদ্রাসার দাওরা সিলেবাসকে এভাবে বিভাজন করে আপডেট করতে পারে এতে কোনো অসুবিধা নাই।

ওনারা নিজেরাই বিভাজন করে আপডেট করতে পারে এখানে সরকারের ইনভলবের কোনো দরকার নাই। বিশেষজ্ঞ কমিটি তাদের মধ্যে নিয়ে তারা করুক অসুবিধা কি? আমি মনে করি পরিবর্তন দরকার তা নাহলে এই মানের কোনো ফায়দা হবে না।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসির মামুন মনে করেন যুগোপযোগী সিলেবাস না হলে মাস্টার্স সমমান পেলেও কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে না।

বিশেষ কাজের সহায়তায় হয়তো চাকরির সুযোগ থাকবে কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা সুবিধা করতে পারবে না। তাদেরকে কোনো না কোনোভাবে আধুনিকায়ন করতে হবে এবং মূল ধারার কাছাকাছি আসতে হবে। কওমীরা বলছে তারা কোনো কিছুর সঙ্গে থাকবে না। আমরা এটার বিরোধিতা করছি। আমরা মনে করি কোনো না কোনোভাবে তাদের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট হতে হবে এই ডিগ্রির জন্য। সরকারি একটা মনিটরিং থাকতে হবে। তাহলে এটার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। -বিবিসি



আরো ২ দিন হতে পারে বৃষ্টিপাত বন্য হাতির আক্রমণে কৃষক নিহত জাতীয় সঙ্গীত জানেন না সোনম ! নর্দার্ণ জুটের পর্ষদ সভা ২৬ এপ্রিল মেয়ের জন্ম দেয়ায় তিন তালাক, প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ নারী ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ফের বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকি চার মোবাইল কোম্পানির! শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথি খালেদা জিয়া প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের ১৫% লভ্যাংশ ঘোষণা সোনুর টুইট বিতর্কে এবার মুখ খুললেন কঙ্গনা ভিকারুননিসার গভনিং বডিতে ৯ জন নির্বাচিত সুস্থ ও দীর্ঘায়ু জীবন পেতে ৮টি কাজ তিন কোম্পানির পর্ষদ সভা আজ ফাইনালে চেলসি হাওরে তেজস্ক্রিয়তা পাওয়া যায়নি : পরমাণু কমিশন পিঠ খোলা ব্লাউজ পরতে হলে পিঠের যত্ন নিন এ ভাবে ধোনি ঝড়ে পুনের জয় দ.আফ্রিকায় ট্রাক-বাস সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৯ শিশু নিহত ৩ নম্বর সতর্কতা, আরও দুদিন ঝড়-বৃষ্টি সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠার উপকারিতা সংলাপ ও সমঝোতা না হলে আন্দোলনের পরিকল্পনা বিএনপির তান্ত্রিকের কথায় ভাইয়ের স্ত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যা! ভারত-বাংলাদেশ সামরিক গোলামী চুক্তি করায় জনগণ ক্ষুব্ধ : প্রধান বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষ, তলা ফেটে ডুবছে এম ভি গ্রীন লাইন রবিবার দিনটি কেমন যাবে আপনার ? ‘রাজনীতিতে শুধু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষরা থাকবে’ টানা ৫০ ঘণ্টা চুমুর পুরস্কার বিলাসবহুল গাড়ি! (ভিডিও) সুযোগে পুরুষ মজে মদে আর ফুটবলে, নারী গল্পে ইবি প্রেস ক্লাবের সাথে ভিসির মতবিনিময় বেতন বাড়লো ক্রিকেটারদের সময় ঘনিয়ে আসছে, প্রস্তুত থাকুন: দুদু ‘আন্দোলন ছাড়া কোনো দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি’ উখিয়ায় কাল বৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আমতলীতে দু’দিনেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত কলেজ ছাত্রী মোদিতেই এরশাদের ভরসা বিয়ে না করেই পালালো প্রেমিক নবাব পরিবারে ফের আসছে নতুন অতিথি অটোমিলাররা প্রতি কেজি লবণে ১২৩% বেশি মুনাফা করছেন খালেদার পথেই হাঁটছেন হাসিনাও: সেলিম শাকিব ও অপুর মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবে ! ভবিষ্যতের কথায় ইনশাআল্লাহ বলা কোরআনের নির্দেশ রাণীনগরে শতাভাগ বিদ্যুৎ সংযোগের শুভ উদ্বোধন কলাপাড়ায় রাখাইন পল্লীতে জলকেলি উৎসব ঠাকুরগাঁওয়ে গাঁজা সহ আটক ১ অবিরাম বৃষ্টিতে পানিবন্দি দক্ষিনা জনপদ ঝালকাঠি আন্দোলন-নির্বাচন দুয়েই ব্যর্থ বিএনপি: কাদের রাবিতে প্রজন্মের উদ্যেগে বৈশাখী চলচ্চিত্র উৎসব টি-টোয়েন্টির নতুন অধিনায়ক সাকিব বেঁচে গেলেন দুই শতাধিক লঞ্চযাত্রী আমতলীতে বজ্রপাতে ২টি গরু নিহত