ঢাকা, রবিবার ২৮শে মে ২০১৭ - 

রামপালেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে অনড় কেন বাংলাদেশ সরকার?

প্রাইমনিউজবিডি.কম
 শুক্রবার ২১শে এপ্রিল ২০১৭

ঢাকা: বাগেরহাটের রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছর ধরে রাস্তায় বিক্ষোভ করলেও সেটি সরকারের কাছে তেমন একটা গুরুত্ব পাচ্ছেনা । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে রামপালেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে।

কিন্তু বামপন্থী সংগঠনগুলোর আন্দোলনে কোন ভাটা পড়েনি। বৃহস্পতিবার খুলনা শহরে তারা রামপাল প্রকল্প বিরোধী সমাবেশের পাশাপাশি আরো কিছু কর্মসূচী ঘোষণা করেছে।

বামপন্থী সংগঠনগুলোর আন্দোলনে সাধারণ মানুষের খুব একটা অংশগ্রহণ না থাকলেও সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেকেই এ প্রকল্পের বিপক্ষে কথা বলছেন। ইউনেস্কোসহ বিভিন্ন সংস্থা এ প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের জ্বালানী বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশবিদদের অনেকেই মনে করেন, সুন্দরবনের কাছে রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র না করলেই ভালো হতো।

কিন্তু এতো কিছুর পরেও সরকার কেন এ প্রকল্প নিয়ে অনড় সেটি নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা এবং অনুমান আছে।

সরকার বিরোধীদের অনেকেই মনে করেন, এ প্রকল্পের সাথে ভারত সম্পৃক্ত থাকায় বাংলাদেশ সরকার এখান থেকে পিছিয়ে আসতে চাইছে না ।

তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জ্বালানী বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন জানালেন, রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে ভারতের আগ্রহের পাশাপাশি বাংলাদেশের চাহিদা ছিল।

‘বাংলাদেশ চাচ্ছিল যে তাদের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো কোস্টাল এরিয়ার (উপকূলীয় এলাকার) বিভিন্ন জায়গায় হবে। কারণ বিদ্যুতের জন্য কয়লা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, ‘বলছিলেন অধ্যাপক হোসেন। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো দেশের একটি অঞ্চলে বেশি না করে বিভিন্ন জায়গায় স্থাপন করা হলে বিদ্যুৎ বিতরণে সুবিধা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রামপালের যে জায়গাটিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে সেটি সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দুরে। আন্দোলনকারীরা যুক্তি দিচ্ছেন, এখানে কয়লা পরিবহন করতে হবে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে। ফলে জীব-বৈচিত্র বাধাগ্রস্ত হবে। এছাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে দূষণ নির্গমন সুন্দরবনকে সংকটাপন্ন করবে।

যে জায়গাটিতে এখন বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে যাচ্ছে সেটি ছাড়া ভিন্ন কোন জায়গা কি বাছাই করা যেত?

অধ্যাপক ইজাজ হোসেন মনে করেন, একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলেই যে পুরো সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে এমন ধারনার সাথে তিনি একমত নন। তবে জীব-বৈচিত্রের কথা চিন্তা করে অন্য আরেকটি জায়গায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র সরিয়ে নেয়া যেত।

অধ্যাপক হোসেন জানালেন, এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য যে পরিবেশগত সমীক্ষা করা হয়েছিল সেটি উপস্থাপনের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দু’টো জায়গার কথা বলা হয়েছিল। এখন যে জায়গাটিতে নির্মিত হতে যাচ্ছে তার চেয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে আরেকটি জায়গার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান জায়গাটিতে জমির মূল্য কম হওয়ার কারণে এ জায়গাটি বাছাই করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে রামপাল প্রকল্পের জন্য যে পরিবেশগত সমীক্ষা করা হয়েছে সেটি ‘বিশ্বমানের’ হয়নি বলে মনে তিনি।

‘এইআইএ রিপোর্টটা তো সরকার করিয়েছে। মোটামুটি সরকার যেভাবে চিন্তা করেছে তারা ওভাবেই ওটা পরিবেশন করেছে। আমি সরকারকে বলেছিলাম একটা আন্তর্জাতিক থার্ড পার্টি দিয়ে এটা করালে আপনাদের জন্যই ভালো হতো। তাহলে আর কোন বিতর্ক থাকতো না বলেও জানান অধ্যাপক হোসেন।

রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সকল প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। ভারতের এক্সিম ব্যাংক থেকে ঋণ অনুমোদনও হয়েছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছে। সরকার মনে করে এমন অবস্থায় এ প্রকল্প থেকে পিছ পা হবার কোন সুযোগ নেই। সরকারের দাবী পরিবেশগত সমীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ নেই।

জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলছেন, সুন্দরবনের ক্ষতি না হবার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই এ প্রকল্পের জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের কথা চিন্তা করেই এ রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমাদের বর্তমানে উৎপাদিত বিদ্যুতের দুই থেকে তিন শতাংশ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ব্যবহার করে। যেদিন পদ্মা সেতু হবে এটা সাত শতাংশের উপরে চলে যাবে। তখন সে এলাকায় মিনিমাম (কমপক্ষে) তিন হাজার মেগাওয়াট জেনারেশন (উৎপাদন) হতে হবে। আমাকে বিদ্যুৎ দিতে হবে। টার্গেটটা ওখানে’।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সে এলাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা পরিবহন সহজ হবে। তিনি মনে করেন, সুন্দরবন থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হচ্ছে।

সরকার এও মনে করছে যে আন্দোলন যারা করছে তাদের সংখ্যা হাতে গোনা।

বিবিসি বাংলা

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন




যুক্তরাষ্ট্রে সন্দেহভাজনের গুলিতে নিহত ৮ সোমবার দিনটি আপনার কেমন যাবে? পুলিশের ডিআইজি পদে রদবদল সিপিবির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শেরপুরে জাল নোটসহ গ্রেফতার ৮ রাজনগরে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা নয়, এবার নিজস্ব নেভিগেশন সিস্টেম ভারতের মানিকগঞ্জে বজ্রপাতে দুই স্কুলছাত্রসহ ৫ জনের মৃত্যু এতিম ও উলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে ইফতার করলেন খালেদা জিয়া বরিশাল বিভাগে ২১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ৭৫ জন আবারো একসঙ্গে ক্যাটরিনা-শাহরুখ-আনুশকা দেশে ফিরলেন অস্ট্রেলিয়ার সেই ‘গাঞ্জা কুইন’ স্ত্রীকে হত্যার পর নিজের পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্বামী! ভূমিসচিব হলেন ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার জাতির ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগের সাথে তামাশা করা হয়েছে: আহমদ শফী গ্রীক দেবীর মূর্তি পুনঃস্থাপন সরকারের কপট চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ: খেলাফত মজলিস ঘর ভাঙছে ঐশ্বরিয়া-অভিষেকের! ঈদে টানা ৯ দিনের সরকারি ছুটি কার্যালয়ে তল্লাশি নিয়ে কথা কম বলাই বিএনপির জন্য মঙ্গলজনক: কাদের মূর্তি পুনঃস্থাপনে আমরা বিস্মিত হতবাক বাকরুদ্ধ ফলের খোসার যত গুণ ঘর ভাঙছে ঐশ্বরিয়া-অভিষেকের! রাণীনগরে পনিতে ডুবে কন্যা শিশুর মৃত্য রাজধানীতে ল্যাভেন্ডার সুপার সপ’কে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না ঠাকুরগাঁওয়ের গর্ভবতী মায়েরা কুষ্টিয়ায় মাদক মামলায় নারীর যাবজ্জীবন ‘তেঁতুল হুজুররা অপরাজনীতির জিকির তোলার চেষ্টা করছে’ ১৬ মাস পর মৌলভীবাজার কারাগার থেকে ভারতীয় দুই নাগরিকের মুক্তি বাজেট অধিবেশন শুরু মঙ্গলবার চুলের যত্নে মেহেদি পাতা! তিন বছরে জব্দ ১১০০ কেজি স্বর্ণ ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১ অধ্যাপক রিয়াজুল স্বপদেই থাকছেন দিনভর খণ্ডযুদ্ধে পুলিশসহ আহত অর্ধশত, হরতালে অচল কাশ্মীর ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আন্দোলনের বিকল্প নেই’ ম্যানচেস্টার হামলা : সালমানের ছবি প্রকাশ ঐশ্বর্য এবং দীপিকা যখন একসাথে! বাংলাদেশে চীনা রণতরীর নোঙরে ‘দিল্লির উদ্বেগ’ লিটন নন্দীসহ চারজনের জামিন স্পট মার্কেটে যাচ্ছে মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ব্লগার রাজীব হত্যা: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ স্টোকসের সেঞ্চুরিতে সিরিজ ইংল্যান্ডের নিন্মমুখী প্রবণতায় লেনদেন চলছে রোজায় সুস্থ থাকার ১০ উপায় বন্য হরিণের হাতে ধর্ষণের শিকার গরু শ্যালিকা-দুলাভাই অসম প্রেম, অতঃপর... রেইনট্রির চার পরিচালকের ব্যাংক হিসাব তলব হারের কারণ হিসেবে যা বললেন ইমরুল টিভি দেখলে ঝুঁকি বাড়ে ডায়াবেটিসের! রোদ চশমা কেনার সময়...