ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩শে মে ২০১৭ - 

তানোরে শিশুরাই কলেজের ছাত্র!

প্রাইমনিউজবিডি.কম
 বৃহঃস্পতিবার ১৮ই মে ২০১৭

আব্দুস সবুর, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি : জালিয়াতি করে প্রতিষ্ঠা করা হয় কলেজ। ভবন থাকলেও হয়না ক্লাস। অন্যের জমি জালিয়াতি করে প্রতিষ্ঠা করা হয় রাজশাহীর মাদারীপুর আইডিয়াল কলেজ। কলেজের খাতা কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেখানো হলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৬ বছরে কোন ধরনের হয়না ক্লাস। নিজের কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে অন্য কলেজে চুক্তিতে দেয়া হয় শিক্ষার্থী।

এমন অলোকিক প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে এ ডিজিটাল যুগে ভাবাই কল্পনাতীত। আবার সামনে না কি এমপিও হবে বলে আদায় করা হচ্ছে শিক্ষক কর্মচারীদের কাছ থেকে কাড়িকাড়ি টাকা। কাগজে কলমে ও ইন্টারনেটে সব কিছু রাখা হয়েছে ঠিকঠাক। ক্লাস না হলেও ওই কলেজ থেকে আবার হয় পরীক্ষা। ওই কলেজের শিক্ষার্থীদের চুক্তি ভিত্তিক তালন্দ ললিত মোহন কলেজে ক্লাস করার সুযোগ করে দেয়া হয়। 

সেখানে ক্লাস অনিয়মিত ভাবে করে পরীক্ষা দিতে সুযোগ করে দেয়া হয় শিক্ষার্থীদের। গত এইচএসসি পরীক্ষায় ১৬ জন শিক্ষার্থী ওই আইডিয়াল কলেজ থেকে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানায় কলেজ কর্তৃপক্ষ। অধ্যক্ষ ইসরাফিলের এমন জালিয়াতিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে ওই এলাকাবাসী।

এজন্যে বাধ্য হয়ে জালিয়াতি করে কলেজ প্রতিষ্ঠা ও নিয়োগ দেবার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেবার বিরুদ্ধে মাদারীপুর গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হক মৃধার পুত্র মুকলেস মৃধা চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে দুর্নীতি দমন কমিশনে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। গত সোমবার কলেজে গিয়ে দেখা যায় কিছু শিশু শিক্ষার্থী ঘোরা ফেরা করছেন। কলেজের ছবি তুলতেই শিশুরা দোড়াদোড়ি শুরু করে। 

কলেজের কয়েকটি কক্ষে নেয়া হয় শিশুদের ক্লাস। কলেজের ভিতরে যেতে শ্রেণি কক্ষে সাটানো আছে কেজি স্কুলের সাইনবোর্ড। কয়েক বছর ধরে চলছে এমন অবস্থা। অধ্যক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে চৌবাড়িয়া মালশিরা স্কুলের শিক্ষক আসাদুল মাদারীপুর আইডিয়াল কলেজে খুলেছেন কেজি স্কুল। তিনিও অধিক টাকার লোভে স্কুলে নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে কেজি স্কুলেই বেশি সময় দেন বলে একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

শ্রেণি কক্ষের ভেতরে কেজি স্কুলের সাইন বোর্ডের ছবি তুলতেই নামিয়ে ফেলা হয় সাইন বোর্ডটি। সেখানে ছিলেন কলেজের প্রভাষক আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, যেহেতু কলেজে ক্লাস হয় না এজন্যে এলাকাবাসীর অনুমতিতে কেজি স্কুলটি চলছে। জমি জমার কোন সমস্যা নেয়। 

আশা করছি অল্প দিনের মধ্যে এমপিও হবে কলেজটি। আপনারা বসেন অধ্যক্ষকে ডাকা হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এ কলেজে বেগার দিয়ে যাচ্ছি। আপনাদের শিক্ষার্থী কোথায়, শিক্ষক কোথায় জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের খোঁজে গ্রামে গ্রামে গেছেন। ক্লাস হয় না কেন জানতে চাইলে তিনি জানান, কতদিন বিনা পয়সায় চলা যায় এসব কথা বলতেই হাজির হয় অধ্যক্ষ ইসরাফিল। 

তিনি বলেন, কলেজ সম্পর্কে রির্পোট করার দরকার নেয়। অল্প দিনের মধ্যে এমপিও হবে তখন জাকজমক পূর্ণ অনুষ্ঠান করে ডাকা হবে আপনাদের। আপনার কলেজের জায়গা নাকি জালিয়াতি জানতে চাইলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, জায়গার সমস্যা আছে অতি দ্রুত সমাধান করা হবে। কলেজে শিশু শিক্ষার্থী কিভাবে আসে। জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরাই এলাকার শিশুদের সুবিধার্থে কেজি স্কুলের ক্লাস নিতে বলেছি। 

যেহেতু কলেজটি ফাঁকা পড়ে থাকে। এজন্যেই নেয় ক্লাস। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় মাদারীপুর আইডিয়াল কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৯৯ সালের দিকে। একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে জমির প্রয়োজন পড়ে। প্রথমে জাল দলিল তৈরি করে করা হয় কলেজ। ১৯৯৯ সালে এমএ হামিদ সাব-রেজিষ্ট্রার স্বাক্ষরিত জাল দলিল তৈরি করেন অধ্যক্ষ। অথচ এ পর্যন্ত যত সাব-রেজিষ্ট্রার এসেছেন বা বদলি হয়েছেন তাদের মধ্যে এমএ হামিদ নামে কোন সাব-রেজিষ্ট্রার তানোরে আসেননি। এমনকি জাল দলিলের মুহুরী হিসেবে লেখকের নাম দেখানো হয় কলিম উদ্দীন। 

অথচ তিনি বিগত ২৫ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। জাল দলিলের তারিখ দেখানো আছে ০৮/০২/১৯৯৯, দলিল নং-৫০২৪ দানপত্র। কিন্তু এ দলিলটি উপজেলার নবনবী মৌজার জমি রেজিষ্ট্রী হয়। এই নবনবী মৌজার জমিটি জালিয়াতি করে কলেজের নামে খারিজ করেন। 

জালিয়াতির মাধ্যমে কলেজের নামে ৫২ শতাংশ জমি করে নেয়। কিন্তু ওই ৫২ শতাংশ জমির মধ্যে ৩১ শতাংশ জমি অধ্যক্ষের ভাই এ্যাড: আলিম চৌধুরীর নামে। তিনি নিজ নামে জমিটি খারিজ খাজনা করেছেন। এভাবে চলে আসছে কলেজটি এ অবস্থায় এমপিও হবে এমন কথা বলে পূণরায় শিক্ষকদের কাছ থেকে কাড়িকাড়ি টাকা আদায় করছেন অধ্যক্ষ। শিক্ষার্থী না থাকলেও শিক্ষক কর্মচারী রয়েছেন ৩৩ জন। 

এলাকাবাসীর দাবী সরেজমিনে কলেজটি নিয়ে কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে আরো ভয়াবহ জালিয়াতি। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শওকাত আলীর ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেন নি।



খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে প্রশ্নবিদ্ধ তল্লাশি বিচারহীনতার কারণে ধর্ষণ এখন জাতীয় ক্রীড়া: এরশাদ ইএফটি ও আরটিজিএস সেবা প্রদানে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দশম আইপিএলে কারা পেলেন ১১ পুরস্কার রাবির হল থেকে এইচএসসি’র খাতা উদ্ধার, ২ শিক্ষক আটক বান্দরবানে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর গোলাগুলি, আটক ৩ প্রাণঘাতি রোগ লিভার সিরোসিস মঙ্গলবার দিনটি আপনার কেমন যাবে? ‘নাজমুল হুদা কোন রাজনীতিবিদ নন’ শ্রীলংকা-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে : স্পিকার জনতা ব্যাংকের নিয়োগ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা 'খালেদা জিয়ার কণ্ঠে অপরাজনীতির বিরুদ্ধে সুন্দর কথা মানায় না' হঠাৎ তৎপর রাশিয়ার ‘ঘাতক উপগ্রহ! ঠাকুরগাঁওয়ে ঢোলারহাট ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট ঘোষনা ফুলবাড়ীতে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট ছেলের দায়ের কোপে বাবা আহত ভোলায় ২১৭৫ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক বাহুবলিকে টেক্কা দেবে শ্রুতির 'সংঘমিত্র'! ইন্দোনেশিয়ায় ১৪১ জন সমকামী আটক বুধবার সোহরাওয়ার্দীতে বিএনপির সমাবেশ দরপতনের শীর্ষে রুপালী ব্যাংক গেইনারের শীর্ষে অগ্নি সিস্টেমস প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে তরুণীকে ধর্ষণ, ৯ মাস পর মামলা মেক্সিকোয় বাস খাদে, চার্চের ১৭ সদস্য নিহত ’অযোগ্য বলে আমাকে খোঁটা দিত’ রেইনট্রিতে উদ্ধারকৃত ১০ বোতল মদ বলে প্রমাণ ‘৮ বছরে সব গাড়ি ইলেকট্রিক হবে, ব্যবসা হারাবে তেল’ আলু, শশা, টমেটো বেশি খেলে, বিপদ আপনার সামনে! পাঠ্যপুস্তকে ফের নতুন ভুল যাতে না হয়, শিক্ষামন্ত্রীর সতর্কবার্তা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শেষ দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলা নিতে গাফিলতি ছিল না ফিল্মি স্টাইলে শোরুম ম্যানেজারকে গুলি করে পৌনে ২ লাখ টাকা ছিনতাই উত্তরাঞ্চলে পণ্য পরিবহন ধর্মঘট আরো ২৪ ঘণ্টা বাড়লো বাংলাদেশকে ল্যাথামের হুমকি প্রেম করে বিয়ে, অতঃপর লাশ রমজানে ভেজাল ইফতারি বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা: সাঈদ খোকন পার্বত্যাঞ্চলের স্থাপনা থেকে ত্রিদিবের নাম মুছে ফেলার নির্দেশ মোটর সাইকেলের ধা্ক্কায় বৃদ্ধ নিহত জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত-২০ `বিএনপির আন্দোলন দমন যুবলীগই যথেষ্ট' সঙ্গীর চাকরি চলে গেলে আপনার করণীয় সোমবার আওয়ামী লীগ সম্পাদকমণ্ডলীর জরুরি সভা বিয়ে করতে যাচ্ছেন শুভশ্রী-রাজ! নাটকীয়তাপূর্ণ ম্যাচে পুনেকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই চ্যাম্পিয়ন রিয়াল, জিতেও শিরোপা হারালো বার্সা নাটোরে ২য় দিনে চলছে পণ্যপরিবহন মালিকদের ধর্মঘট মাহে রমজানের পূর্ব প্রস্তুতি চোখের মেকআপ ওঠানোর কৌশল আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শিক্ষককে আত্মসমর্পণের নির্দেশ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন চলছে