ঢাকা, শনিবার ২১শে অক্টোবর ২০১৭ - 

ষোড়শ সংশোধনী: উত্তাপ থামছেই না

প্রাইমনিউজবিডি.কম
 শুক্রবার ১১ই আগস্ট ২০১৭

ঢাকা: সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে ইস্যু করে বিচারবিভাগ, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে শোরগোল শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে ‘টক অব দি কান্ট্রি’ হিসেবে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে আপিল বিভাগের রায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়িয়ে চলেছে।


রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পাল্টা বিবৃতির ঝড় উঠেছে। বিশেষত আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এ রায়কে অপরিপক্ব, পূর্বপরিকল্পিত ও অগণতান্ত্রিক বলে মন্তব্য করেছেন। তার এ বক্তব্যেল পর সোচ্চার হয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারাও। ক্রমেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন তারা।


বৃহস্পতিবার ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের বিষয় নিয়ে একে একে কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ আরো অনেকেই।


আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, মাননীয় প্রধান বিচারপতির রায়ে আপত্তিকর ও অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য আছে, সেগুলো এক্সপাঞ্জ করার উদ্যোগ আমরা নেব।’ আর আদালতের রায়ের বক্তব্য কীভাবে সরকার বাদ দিতে পারে, সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ না করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিশ্চয়ই চিন্তা ভাবনা করছি যে, এই রায়ের রিভিউ করা হবে কি না? আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হইনি। কারণ, রায়ের খুটিনাটি বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষানিরীক্ষা করা হচ্ছে।


এদিকে খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য কামরুল ইসলাম ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনের জিল্লুর রহমান মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আলোচনা সভায় প্রধান বিচারপতির অপসারণ দাবি করেছেন।


র্তমান সংসদ ন্যায়সঙ্গতভাবে জনগণের ভোটে গঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘যারা বর্তমান সংসদকে ইমম্যাচিউরড বলেন, তারাই ইমম্যাচিউরড। যারা বর্তমানে বিচারকের আসনে বসেছেন, তারা ইমম্যাচিউরড। নির্বাচনের পর সারা বিশ্ব আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। সারা বিশ্বের সংসদ এই সংসদকে বৈধতা দিয়েছে। এই সংসদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার তাদের নেই।’ বুধবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত বিএমএ মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, কারও একক নেতৃত্বে এ দেশ স্বাধীন হয়নি। আমি প্রশ্ন করতে চাই, এ দেশের স্বাধীনতার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু ছাড়া অন্য আর কে ছিলেন?’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আজ যারা বিচারকের আসনে আছেন, তারা এক সময় আমাদের সঙ্গে কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। আজ তারা সবাই ম্যাচিউড আর আমরা হলাম ইমম্যাচিউড! পৃথিবীর কোন আইনে এসব আছে? আমার কাছে পৃথিবীর সব আইনের বই আছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া করে এসেছি। আমরা সংবিধান প্রণয়নে কাজ করেছি। অসংখ্য আইন প্রণয়ন করেছি। বর্তমান সংসদের অধীনেই বিচারকদের বেতন বৃদ্ধি হয়েছে, শতাধিক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমান সংসদ সম্পূর্ণ সাংবিধানিক। ইন্টারপার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আর একজন বিচারপতি বলেন, এই সংসদ ইমম্যাচিউরড!’


যারা অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষতায় আনতে চায় তারাই রাজনীতিবিদদের ছোট করা চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের ছোট করতে চান কারা? যারা সামরিক শাসন চান তারা। রাজনীতিবিদদের ছোট করতে চায় কারা? যারা অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় আনতে চান, তারা।’


আওয়ামী লীগের প্রবীণ এই নেতা বলেন, বাংলাদেশে যখন সংবিধান প্রণয়ন হয় তখন আমি সেই কমিটিতে ছিলাম। সংবিধানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের বৈধতা দেয়া আছে। একটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন বৈধ হলে একাধিক আসনেও বৈধ।’


বিচারপতিদের ইমপিচমেন্ট প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশে বিচারকদের ইমপিচ করে সংসদ। ব্রিটেনের অ্যাক্ট অব সেটেলমেন্ট-১৯০১’ অনুসারে সংসদের হাতে এ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের সব দেশেই এ আইন কার্যকর। ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশেও বিচারকদের ইমপিচ করে সংসদ।’


বিচারপতিদের সমালোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের ছোট করতেই ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য সংযুক্ত করা হয়েছে। একটি গোষ্ঠী সামরিক শাসনের পক্ষে এসব করছে। তারা বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর বঙ্গবন্ধুর রক্তের ওপর দিয়ে বিচারপতি সায়েম রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন। এরশাদ ক্ষমতা নেয়ার আগেও আরেকজন বিচারপতি ক্ষমতায় আসেন। আজ যে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কথা বলা হচ্ছে, তাও সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের সৃষ্টি।’


একই আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘জাতির কয়েকজন বেঈমান যখন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে, চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করেছে, তখন একটি কালো আইন করে হত্যাকারীদের নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে, তখন কোথায় ছিলেন আদালত? কোথায় ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট, কোথায় ছিলেন বিচারপতিরা।’ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার রাজ্জাক আলীর উদ্ধৃতি দিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘বিচারপতিদের হাত এত লম্বা নয় যে, তারা সংসদে হাত দিতে পারেন। এই সংসদ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয় আর রাষ্ট্রপতি বিচারপতি নির্বাচন করে থাকেন। তাই সংসদ নিয়ে ধৃষ্টতা দেখানোর অধিকার কারও নেই।’


তবে রায় নিয়ে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘গঠনমূলক সমালোচনার বাইরে গিয়ে যদি কেউ সমালোচনা করেন তাহলে বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার বা বিরোধী দল কারও ফাঁদে পড়বো না। তাই গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণযোগ্য।’


অবশ্য চুপ নেই বিএনপিও। বিভিন্ন সময় সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করছে দলটি।



Advertisement
রবিবার ৩৩ পর্যবেক্ষকের সঙ্গে সংলাপে বসছে ইসি সম্পত্তি নিয়ে পাকিস্তানি ‘আত্মীয়’র সঙ্গে বিবাদে জড়ালেন সাইফ সাভারে সাংবাদিকদের সাথে ইউপি চেয়ারম্যানের মত বিনিময় 'ভাই' সেজে প্রেমিকার শ্বশুরবাড়িতে হাজির প্রেমিক, অতঃপর...! সোমবার দুপুরে সুষমা-খালেদা একান্ত বৈঠক দেশে দুর্যোগ চলছে আর গণতন্ত্রে মহাদুর্যোগ চলছে: মওদুদ ‘রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ক্ষমতাসীনদের নৈতিক অবস্থান নেই’ রোহিঙ্গাদের সাহায্যে কারও কাছে হাত পাতিনি: জয় টপলেস হতে আপত্তি নেই কারিশমার তালতলীতে বেরীবাঁধ ভেঙ্গে ৮গ্রাম প্লাবিত : ২০ হাজার মানুষ পানি বন্দি মধ্যরাতে পরকীয়া প্রেমিকাসঙ্গ, কলেজ অধ্যক্ষকে গণধোলাই ভোলায় নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকিয়ে দিলো রেশমা ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বার্থে আমরা নির্বাচনে যাবো: দুদু গোপনে ইসরাইল সফর করলেন সৌদি যুবরাজ সালমান! যারা অতিরিক্ত কাঁদেন তারা কেমন মানুষ? ভারতে ট্রাক উল্টে নিহত ১০ বন্ধ হচ্ছে টিএসসি’র কার্যক্রম নভেম্বরে চলবে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান পশ্চিমবঙ্গে ইলিশের বন্যা, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ মালয়েশিয়ায় ভূমিধসে নিহত ৩, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ১১ কিরকুকের সম্পূর্ণ দখল নিয়েছে ইরাকি বাহিনী বৃষ্টির দিনে বাসায় যেভাবে সময় কাটাবেন খালেদা জিয়া ষড়যন্ত্র করে দেশে ফিরেছেন: সেতুমন্ত্রী ‘স্টুডেন্ট অব দি ইয়ার’ সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য অক্ষয় নয়, রণবীর সিং সুষমার ঢাকা সফরে বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে এজেন্ডার বাইরেও আলোচনা! সিনহার বদলে মিঞা: সঙ্কটের সুরাহা হবে কি? জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে মিশলের ৩৫ পুলিশ নিহত জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নিন্দা ও প্রতিবাদ কুষ্টিয়ায় বৃষ্টিতে দেয়াল ধসে বৃদ্ধার মৃত্যু রিয়াল মাদ্রিদে ব্রাজিলিয়ান বিস্ময় তরুণ যৌন হেনস্তার জন্য নারীরাও দায়ী, অভিনেত্রীর মন্তব্যে তোলপাড় ‘হার্ভের মতো যৌনলিপ্সু বলিউডেও আছে’ রবিবার জাপানে আছড়ে পড়বে টাইফুন ‘লান’ ইভিএমে বিশেষজ্ঞদের ‘না’ শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ মৃত্যু ঝুকির পরেও ডাক্তারদের বিজনেস বাড়াতে করা হয় সিজার নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলছেন আ.লীগ নেত্রী পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ করবে না উ.কোরিয়া দাম্পত্য জীবনে একঘেয়েমি? জেনে নিন উষ্ণতা ফেরানোর সহজ উপায় প্রেম নিবেদন করবেন? জেনে নিন ভালবাসার ১০টি পৃথিবীবিখ্যাত পংক্তি ধর্ষিতার পরিবারের কাছে 'ভোজ' খাওয়ানোর দাবি গ্রামবাসীর সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত, আজও সারাদেশে ভারি বৃষ্টি প্রেম করে বিয়ে করতে গেলে যে ৭টি ঝামেলায় আপনাকে পড়তে হবে চীনে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানচেষ্টা! রোহিঙ্গাদের দেখতে আসছেন জর্ডানের রানী কাবুলে মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৩০ শনিবার দিনটি আপনার কেমন যাবে? আম্বানিদের পার্টিতে অমিতাভের নাতনির মুখোমুখি রেখা, অতঃপর...