ঢাকা, বুধবার ২২শে নভেম্বর ২০১৭ - 

জিন্নাহর সাথে এক ষোড়শীর অজানা প্রেমকাহিনী

প্রাইমনিউজবিডি.কম
 বুধবার ১৩ই সেপ্টেম্বর ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মুম্বাইয়ের সবথেকে বড় ধনীদের মধ্যে একজন স্যার দিনশা পেটিট সকালের জলখাবার খেতে বসেছিলেন। খাবার টেবিলে বসেই হাতে তুলে নিয়েছিলেন নিজের প্রিয় খবরের কাগজ 'বম্বে ক্রনিক্যাল'। খবরের কাগজে আটের পাতায় পৌঁছে একটা খবরে চোখ যেতেই কাগজটা তাঁর হাত থেকে পড়ে গিয়েছিল।


তারিখটা ছিল ২০শে এপ্রিল, ১৯১৮। সংবাদটা ছিল স্যার দিনশার কন্যা লেডি রতিকে আগের দিন সন্ধ্যায় বিয়ে করেছেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। লেডি রতির পুরো নাম ছিল রতনবাই পেটিট।


ঘটনার শুরুটা হয়েছিল আরও বছর দুয়েক আগে। স্যার দিনশা নিজের বন্ধু আর ব্যারিস্টার মুহম্মদ আলী জিন্নাহকে দার্জিলিংয়ে বেড়াতে আসার জন্য নিমন্ত্রণ করেছিলেন। সেখানে দিনশার ১৬ বছরের কন্যা লেডি রতিও ছিলেন। সেই সময়ের মুম্বাইয়ে মিস রতির সৌন্দর্য রীতিমতো চর্চার বিষয় ছিল। আর মি: জিন্নাহ তখন ভারতীয় রাজনীতির শিখরের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও গিয়েছিলেন।


মি: জিন্নাহর বয়স তখন প্রায় ৪০। কিন্তু দার্জিলিংয়ের বরফে ঢাকা পাহাড় চূড়া আর নৈ:শব্দ এমনই যাদু দেখালো যে লেডি রতি ও মি: জিন্নাহ একে অন্যের প্রেমে পড়ে গেলেন। দার্জিলিং ভ্রমণের সময়েই মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ স্যার দিনশা পেটিটের কাছে প্রস্তাব দেন তার মেয়েকে বিয়ে করার। তবে এই প্রস্তাবে সাংঘাতিক উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন স্যার দিনশা। উত্তেজনা এতটাই ছিল যে অতিথিকে সেই মুহুর্তে নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন তিনি।


মি: জিন্নাহ অনেক চেষ্টা করেও স্যার দিনশার মত বদলাতে পারেননি। দুই ধর্মের মধ্যে বিবাহ বন্ধন হলে যে বন্ধুত্ব আর ঐক্য দৃঢ় হবে, স্যার দিনশার ওই তত্ত্ব প্রথম পরীক্ষাতেই ব্যর্থ হয়ে গেল।


মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সঙ্গে কথা বলেননি স্যার দিনশা। আর মেয়ে লেডি রতির ওপরেও নির্দেশ জারি হলো- যতদিন তিনি দিনশার বাড়িতে আছেন, ততদিন জিন্নাহর সঙ্গে কোনোভাবে দেখা করতে পারবেন না। সেখানেই শেষ নয়। কোর্ট থেকেও আদেশ বের করালেন স্যার দিনশা যেন লেডি রতি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মি: জিন্নাহ যাতে তার মেয়ের সঙ্গে দেখা না করতে পারেন। এত কিছু করেও রতি আর জিন্নাহর লুকিয়ে দেখা করা বা একে অন্যকে চিঠি লেখা থামাতে পারেননি স্যার দিনশা পেটিট।


স্যার দিনশা অসম্ভব জেদি ছিলেন, কিন্তু অসমবয়সী এই প্রেমিক যুগলের জেদ যে আরও বেশী, সেটা দিনে দিনে বেশ বুঝা যেতে লাগল। তবে দুই পক্ষই কিছুটা মাথা ঠান্ডা রেখে চুপচাপ রতির ১৮ বছর বয়স পার হওয়া অবধি অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলো।


১৮ বছর হলে রতি বাসা থেকে পালিয়ে যান এবং রতিকে জামিয়া মসজিদে নিয়ে গেলেন জিন্নাহ। ইসলাম ধর্মান্তরিত করে পরের দিন, ১৮ই এপ্রিল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ আর লেডি রতির নিকাহ সম্পন্ন হলো। ২৪ বছরের ছোট একটি মেয়ের সঙ্গে জিন্নাহর বিবাহ সেই সময়ে ভারতীয় সমাজের এক নম্বর গসিপে পরিণত হয়েছিল।


রতির অপূর্ব সুন্দর শরীরে ঝলমল করতো নীল বা গোলাপি রঙের পোষাক, কখনও তাতে থাকতো সোনালী কারুকাজ। রূপা আর মার্বেল পাথরের তৈরি সিগারেট হোল্ডারে গোঁজা বিদেশী সিগারেটের ধোঁয়া যখন ছাড়তেন রতি, তখন তাঁর ব্যক্তিত্ব আলাদা মাত্রা পেত।


তাঁর চলাফেরা, আদবকায়দা তো চোখে পড়ার মতোই ছিল, কিন্তু চারপাশের মানুষের কাছে সবথেকে আকর্ষণীয় হয়ে উঠত তাঁর হাসি।


যখন জিন্নাহ আর রতি মধুচন্দ্রিমা করতে লখনৌতে খাঁ সাহেবের বাবার প্রাসাদে গিয়েছিলেন। রতির পড়নে ছিল সাদা শাড়ি, তাতে সোনালী আর কালো রঙের পাড়। যেন ঠিক একটা পরীর মতো লাগছিল তাকে। জিন্নাহ আর রতি সেসময়ে দিল্লির মেন্ডেস হোটেলে ছিলেন।


মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ব্যস্ততা আর স্ত্রীর সঙ্গে বয়সের ফারাক জিন্নাহ আর রতির মধ্যে ধীরে ধীরে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করে দিল। তখন অল্পবয়সী স্ত্রী আর দুধের শিশুকন্যার জন্য দেওয়ার মতো সময় তাঁর হাতে বিশেষ ছিল না।


দুজনের মধ্যে একটা হাল্কা দূরত্ব তৈরি হওয়ার কারণটা ছিল রাজনৈতিক। ১৯২৬ সাল নাগাদ ভারতের রাজনীতিতে জিন্নাহর যে অবস্থান ছিল, সেটা ১৯১৬ সালে তাঁদের বিয়ের সময়ের থেকে অনেক উঁচুতে। আর এই কতগুলো বছরে মি: জিন্নাহ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি শুরু করেছেন। অন্যদিকে লেডি রতিও মাঝেমাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়তেন।


একবার অসুস্থতার পরে ফ্রান্স থেকে এম এস রাজপুতানা নামের জাহাজে চেপে দেশে ফেরার সময়ে স্বামীকে একটা চিঠি লিখেছিলেন রতি।


"আমার জন্য তুমি যা করেছ, তার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমি তোমাকে যতটা চেয়েছিলাম, আর কোনো পুরুষমানুষকেই কোনো নারী বোধহয় অতটা চায় নি কখনও। তুমি আমাকে ওই ফুলটার মতো করেই মনে রেখ যেটা ছিঁড়ে এনেছিলে। যে ফুলটাকে তুমি পা দিয়ে মাড়িয়ে দিয়েছ, সেটাকে মনে রাখার দরকার নেই," লিখেছিলেন রতি জিন্নাহ।


১৯২৯ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারী, মাত্র ২৯ বছর বয়সে রতি জিন্নাহ মারা যান।


শেষ সময়টায় তাঁর সঙ্গী ছিলেন কাঞ্জি দ্বারকা দাস।


কাঞ্চিই জানিয়েছিলেন যে শেষ দিনগুলোয় রতি খুব মনমরা হয়ে থাকতেন। একবার কাঞ্জি রতিকে বলেছিলেন তাঁর আসতে একটু দেরী হবে। শুকনো মুখে রতি জবাব দিয়েছিলেন, 'ততক্ষণ অবধি যদি বেঁচে থাকি'। পরে কাঞ্জিই এক পাকিস্তানি সাংবাদিককে বলেছিলেন অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন রতি।


মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সেদিন দিল্লিতে ওয়েস্টার্ন কোর্ট ভবনে ছিলেন। তখনই একটা ট্রাঙ্ক কল আসে তাঁর কাছে। ফোনের অপর প্রান্তে ছিলেন শ্বশুর দিনশা পেটিট।


দশ বছরের মধ্যে সেই প্রথমবার দুজনের কথা হয়। মেয়ে যে খুব অসুস্থ, সেই খবরটা জিন্নাহকে জানিয়েছিলেন মি: দিনশা। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ট্রেনে করে মুম্বাইয়ের দিকে রওনা হন। পথেই ভাইসরয় আর অন্যান্য মান্যগণ্যদের টেলিগ্রাম আসতে থাকে, শোকজ্ঞাপন করা টেলিগ্রাম। জিন্নাহ বুঝতে পারেন যে রতি আর এই পৃথিবীতে নেই। স্টেশন থেকে সোজা কবরস্থানে গিয়েছিলেন জিন্নাহ। সেখানে তাঁর জন্যই সকলে অপেক্ষা করছিল।


সবচেয়ে কাছের আত্মীয় হিসেবে যখন জিন্নাহকে অনুরোধ করা হয়েছিল কবরে মাটি দিতে, তখন ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলেন জিন্নাহ। সেই প্রথম, আর সেই শেষবার মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে জনসমক্ষে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল।


সূত্র: বিবিসি বাংলা

Advertisement
অবশেষে পদত্যাগ করলেন জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট মুগাবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে রংপুরের জয় কেমন যাবে আপনার বুধবার দিনটি! জেলা জজ ও যুগ্ম জজসহ ২৫ বিচারকের রদবদল কেঁদে ফেললেন ঐশ্বরিয়া রাই এবার নাচলেন ও গাইলেন এমপি শামীম ওসমান যৌন হয়রানির শিকার উত্তর কোরিয়ার নারী সৈন্যরা অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং ও বড়বড় খানা খন্দের কারনে বাড়ছে দূর্ঘটনা, অকালে ঝরছে প্রান আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সহ ২০ জনকে আদালতের শোকজ জাবিতে ভর্তি হতে এসে আরো দুই শিক্ষার্থী কারাগারে জাবিতে ৫ম ম্যানেজমেন্ট উইক শুরু বুধবার আমতলী ও তালতলী উপজেলায় ৫১টি বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ন: শিক্ষক নেই ২৬০ জন মওদুদের বক্তব্য গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ : হানিফ জনগণ থেকে সরকার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল বরিশালে তারেক রহমানের জন্ম দিন পালন ফার্ম্মাসিষ্ট জটিলতায় বাড়ছে ড্রাগলাইসেন্স বিহীন ফার্ম্মেসী ইবির ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সূচী প্রকাশ অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন কুমিল্লার মেয়র সাক্কু প্রেমের ফাঁদে স্কুলছাত্রীকে আ.লীগ নেতার একাধিকবার ধর্ষণ বিয়ের রাতে পালালেন সাবিলা নূর! পায়ের ওপর পা দিয়ে বসলে কুঁজো হয়ে যেতে পারেন চিরকাল যৌবন ধরে রাখবে যেসব খাবার যে কাজগুলোই প্রতিনিয়ত ক্ষতি করছে মস্তিষ্কের প্রাথমিক সমাপনীতে নাতির সঙ্গে ৬৫ বছরের নানী অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখে তুরস্ক, কাটিয়ে ওঠার আশাবাদ এরদোগানের নিজেকে আরো সুন্দর করে তুলতে ব্যবহার করুন এই ৭ তেল পুলিশ পাহারায় খোলা জায়গায় ভারতীয় মন্ত্রীর মূত্রত্যাগ টিকল না ১০ নম্বর সম্পর্কও? সুস্মিতার বয়ফ্রেন্ডের তালিকা... নাইজেরিয়ায় মসজিদে হামলা: নিহত অন্তত ৫০ লেনদেনের শীর্ষে লংকাবাংলা ফিন্যান্স বাজারে আইলাইফের নতুন ল্যাপটপ আ.লীগ নেতার অভিযোগ: খালেদার গাড়িবহরে হামলার নেপথ্যে নিজাম হাজারী তবু চলছে সৌদি হামলা; আরো ১২ ইয়েমেনি নিহত মাদ্রাসার কক্ষ থেকে হাত বাঁধা ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার খাগড়াছড়িতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন শ্রাবন্তীর ‘বয়ফ্রেন্ড’ শাকিব খান ‘৪০টির বেশি আসন পাবে না আ’লীগ’ ‘শিগগিরই নতুন বিচারপতি নিয়োগ’ স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্বের জের ধরে মারপিট: উভয় পক্ষের আহত ৬ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ: আ‘লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা কলাপাড়ায় তারেক রহমানের জন্মদিন পালন কলাপাড়ায় প্রসুতী রোগীর মৃত্যুর পর ফের আলোচনায় আলেয়া ক্লিনিক পুঁজিবাজারে দর সংশোধন ‘নতুন করে ট্রেড ইউনিয়নের অনুমতি দেওয়া হবে না’ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে চলতি সপ্তাহেই সমঝোতা: সু চি সোনিয়ার বর্ণাঢ্য যুগ ৬ কোম্পানির লেনদেন স্থগিত বুধবার ‘ইসরাইলকে প্রতিহত করার পূর্ণ অধিকার লেবাননের রয়েছে’ ‘নির্বাচনের আগেই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান’ ‘সিনহা যাওয়ায় বিচার বিভাগের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে’