ঢাকা, শুক্রবার ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ - 

জিন্নাহর সাথে এক ষোড়শীর অজানা প্রেমকাহিনী

প্রাইমনিউজবিডি.কম
 বুধবার ১৩ই সেপ্টেম্বর ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মুম্বাইয়ের সবথেকে বড় ধনীদের মধ্যে একজন স্যার দিনশা পেটিট সকালের জলখাবার খেতে বসেছিলেন। খাবার টেবিলে বসেই হাতে তুলে নিয়েছিলেন নিজের প্রিয় খবরের কাগজ 'বম্বে ক্রনিক্যাল'। খবরের কাগজে আটের পাতায় পৌঁছে একটা খবরে চোখ যেতেই কাগজটা তাঁর হাত থেকে পড়ে গিয়েছিল।


তারিখটা ছিল ২০শে এপ্রিল, ১৯১৮। সংবাদটা ছিল স্যার দিনশার কন্যা লেডি রতিকে আগের দিন সন্ধ্যায় বিয়ে করেছেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। লেডি রতির পুরো নাম ছিল রতনবাই পেটিট।


ঘটনার শুরুটা হয়েছিল আরও বছর দুয়েক আগে। স্যার দিনশা নিজের বন্ধু আর ব্যারিস্টার মুহম্মদ আলী জিন্নাহকে দার্জিলিংয়ে বেড়াতে আসার জন্য নিমন্ত্রণ করেছিলেন। সেখানে দিনশার ১৬ বছরের কন্যা লেডি রতিও ছিলেন। সেই সময়ের মুম্বাইয়ে মিস রতির সৌন্দর্য রীতিমতো চর্চার বিষয় ছিল। আর মি: জিন্নাহ তখন ভারতীয় রাজনীতির শিখরের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও গিয়েছিলেন।


মি: জিন্নাহর বয়স তখন প্রায় ৪০। কিন্তু দার্জিলিংয়ের বরফে ঢাকা পাহাড় চূড়া আর নৈ:শব্দ এমনই যাদু দেখালো যে লেডি রতি ও মি: জিন্নাহ একে অন্যের প্রেমে পড়ে গেলেন। দার্জিলিং ভ্রমণের সময়েই মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ স্যার দিনশা পেটিটের কাছে প্রস্তাব দেন তার মেয়েকে বিয়ে করার। তবে এই প্রস্তাবে সাংঘাতিক উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন স্যার দিনশা। উত্তেজনা এতটাই ছিল যে অতিথিকে সেই মুহুর্তে নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন তিনি।


মি: জিন্নাহ অনেক চেষ্টা করেও স্যার দিনশার মত বদলাতে পারেননি। দুই ধর্মের মধ্যে বিবাহ বন্ধন হলে যে বন্ধুত্ব আর ঐক্য দৃঢ় হবে, স্যার দিনশার ওই তত্ত্ব প্রথম পরীক্ষাতেই ব্যর্থ হয়ে গেল।


মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সঙ্গে কথা বলেননি স্যার দিনশা। আর মেয়ে লেডি রতির ওপরেও নির্দেশ জারি হলো- যতদিন তিনি দিনশার বাড়িতে আছেন, ততদিন জিন্নাহর সঙ্গে কোনোভাবে দেখা করতে পারবেন না। সেখানেই শেষ নয়। কোর্ট থেকেও আদেশ বের করালেন স্যার দিনশা যেন লেডি রতি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মি: জিন্নাহ যাতে তার মেয়ের সঙ্গে দেখা না করতে পারেন। এত কিছু করেও রতি আর জিন্নাহর লুকিয়ে দেখা করা বা একে অন্যকে চিঠি লেখা থামাতে পারেননি স্যার দিনশা পেটিট।


স্যার দিনশা অসম্ভব জেদি ছিলেন, কিন্তু অসমবয়সী এই প্রেমিক যুগলের জেদ যে আরও বেশী, সেটা দিনে দিনে বেশ বুঝা যেতে লাগল। তবে দুই পক্ষই কিছুটা মাথা ঠান্ডা রেখে চুপচাপ রতির ১৮ বছর বয়স পার হওয়া অবধি অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলো।


১৮ বছর হলে রতি বাসা থেকে পালিয়ে যান এবং রতিকে জামিয়া মসজিদে নিয়ে গেলেন জিন্নাহ। ইসলাম ধর্মান্তরিত করে পরের দিন, ১৮ই এপ্রিল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ আর লেডি রতির নিকাহ সম্পন্ন হলো। ২৪ বছরের ছোট একটি মেয়ের সঙ্গে জিন্নাহর বিবাহ সেই সময়ে ভারতীয় সমাজের এক নম্বর গসিপে পরিণত হয়েছিল।


রতির অপূর্ব সুন্দর শরীরে ঝলমল করতো নীল বা গোলাপি রঙের পোষাক, কখনও তাতে থাকতো সোনালী কারুকাজ। রূপা আর মার্বেল পাথরের তৈরি সিগারেট হোল্ডারে গোঁজা বিদেশী সিগারেটের ধোঁয়া যখন ছাড়তেন রতি, তখন তাঁর ব্যক্তিত্ব আলাদা মাত্রা পেত।


তাঁর চলাফেরা, আদবকায়দা তো চোখে পড়ার মতোই ছিল, কিন্তু চারপাশের মানুষের কাছে সবথেকে আকর্ষণীয় হয়ে উঠত তাঁর হাসি।


যখন জিন্নাহ আর রতি মধুচন্দ্রিমা করতে লখনৌতে খাঁ সাহেবের বাবার প্রাসাদে গিয়েছিলেন। রতির পড়নে ছিল সাদা শাড়ি, তাতে সোনালী আর কালো রঙের পাড়। যেন ঠিক একটা পরীর মতো লাগছিল তাকে। জিন্নাহ আর রতি সেসময়ে দিল্লির মেন্ডেস হোটেলে ছিলেন।


মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ব্যস্ততা আর স্ত্রীর সঙ্গে বয়সের ফারাক জিন্নাহ আর রতির মধ্যে ধীরে ধীরে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করে দিল। তখন অল্পবয়সী স্ত্রী আর দুধের শিশুকন্যার জন্য দেওয়ার মতো সময় তাঁর হাতে বিশেষ ছিল না।


দুজনের মধ্যে একটা হাল্কা দূরত্ব তৈরি হওয়ার কারণটা ছিল রাজনৈতিক। ১৯২৬ সাল নাগাদ ভারতের রাজনীতিতে জিন্নাহর যে অবস্থান ছিল, সেটা ১৯১৬ সালে তাঁদের বিয়ের সময়ের থেকে অনেক উঁচুতে। আর এই কতগুলো বছরে মি: জিন্নাহ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি শুরু করেছেন। অন্যদিকে লেডি রতিও মাঝেমাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়তেন।


একবার অসুস্থতার পরে ফ্রান্স থেকে এম এস রাজপুতানা নামের জাহাজে চেপে দেশে ফেরার সময়ে স্বামীকে একটা চিঠি লিখেছিলেন রতি।


"আমার জন্য তুমি যা করেছ, তার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমি তোমাকে যতটা চেয়েছিলাম, আর কোনো পুরুষমানুষকেই কোনো নারী বোধহয় অতটা চায় নি কখনও। তুমি আমাকে ওই ফুলটার মতো করেই মনে রেখ যেটা ছিঁড়ে এনেছিলে। যে ফুলটাকে তুমি পা দিয়ে মাড়িয়ে দিয়েছ, সেটাকে মনে রাখার দরকার নেই," লিখেছিলেন রতি জিন্নাহ।


১৯২৯ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারী, মাত্র ২৯ বছর বয়সে রতি জিন্নাহ মারা যান।


শেষ সময়টায় তাঁর সঙ্গী ছিলেন কাঞ্জি দ্বারকা দাস।


কাঞ্চিই জানিয়েছিলেন যে শেষ দিনগুলোয় রতি খুব মনমরা হয়ে থাকতেন। একবার কাঞ্জি রতিকে বলেছিলেন তাঁর আসতে একটু দেরী হবে। শুকনো মুখে রতি জবাব দিয়েছিলেন, 'ততক্ষণ অবধি যদি বেঁচে থাকি'। পরে কাঞ্জিই এক পাকিস্তানি সাংবাদিককে বলেছিলেন অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন রতি।


মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সেদিন দিল্লিতে ওয়েস্টার্ন কোর্ট ভবনে ছিলেন। তখনই একটা ট্রাঙ্ক কল আসে তাঁর কাছে। ফোনের অপর প্রান্তে ছিলেন শ্বশুর দিনশা পেটিট।


দশ বছরের মধ্যে সেই প্রথমবার দুজনের কথা হয়। মেয়ে যে খুব অসুস্থ, সেই খবরটা জিন্নাহকে জানিয়েছিলেন মি: দিনশা। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ট্রেনে করে মুম্বাইয়ের দিকে রওনা হন। পথেই ভাইসরয় আর অন্যান্য মান্যগণ্যদের টেলিগ্রাম আসতে থাকে, শোকজ্ঞাপন করা টেলিগ্রাম। জিন্নাহ বুঝতে পারেন যে রতি আর এই পৃথিবীতে নেই। স্টেশন থেকে সোজা কবরস্থানে গিয়েছিলেন জিন্নাহ। সেখানে তাঁর জন্যই সকলে অপেক্ষা করছিল।


সবচেয়ে কাছের আত্মীয় হিসেবে যখন জিন্নাহকে অনুরোধ করা হয়েছিল কবরে মাটি দিতে, তখন ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলেন জিন্নাহ। সেই প্রথম, আর সেই শেষবার মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে জনসমক্ষে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল।


সূত্র: বিবিসি বাংলা

Advertisement
রোহিঙ্গাদের রক্ষায় জাতিসংঘে ৫ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর ভারতে ওমান ও কাতারের ৮ শেখ গ্রেফতার ‘সুন্দরী মেয়েদের তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে মিলিটারিরা’ : তারপর হাত-পা, বুক কেটে ফেলে দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান মেসির ছায়া থেকে বের হতেই বার্সা ছাড়ে নেইমার: ম্যাথিউর অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান টার্গেট রুট : স্ট্রাউস রাখাইনে মসজিদে আজান দেয়ার ও নামাজ আদায়ের কেউ নেই! সঞ্জয় দত্তকে জুতাপেটা করেন স্ত্রী! রাজধানীতে একই পরিবারের ৫ জন দগ্ধ সুচিকে দেয়া পদক সম্মাননা ফিরিয়ে নেয়ার হিড়িক রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজন গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চাপ উপেক্ষা করে মিয়ানমারকে সামরিক সরঞ্জাম দিচ্ছে ভারত পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারী: ‘পা ধরে বলেছি কাউকে বলবো না, বাংলাদেশে চলে যাব’ যুবদল নেতা ইমনের নামে ৫৭ ধারায় মামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে ৩৮তম বিসিএস ‘রিয়া আমার প্যান্ট খোলেননি’ শুক্রবার দিনটি আপনার কেমন যাবে? দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরাকানের স্বাধীনতা অপরিহার্য: মুফতি ফয়জুল্লাহ রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে বিশ্ব মেডিকেলে ভর্তিতে নম্বর কাটার আপিল শুনানি ৩ অক্টোবর টেকনাফ অভিমুখে রোডমার্চে পুলিশের বাধা র‌্যাম্প মডেল থেকে ‘জেএমবির কমান্ডার’ বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করলেন রিজভী কাশ্মিরে মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা, নিহত ৩ গোপালগঞ্জে সাঁতার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন আমরা জয়ের মুখোমুখি: নোমান ডেসকোর পর্ষদ সভা ২৮ সেপ্টেম্বর এইচটিসির সঙ্গে ১১০ কোটি ডলারের চুক্তি গুগলের তারকা হওয়ার আগেই দেমাগ দেখাচ্ছেন সাইফ কন্যা সারা সূচকের সাথে কমেছে লেনদেনও রাখাইনে রেডক্রসের ত্রাণবহরে বৌদ্ধদের বোমা নিক্ষেপ রোহিঙ্গা মুসলমান গণহত্যার প্রতিবাদে গোপালগঞ্জে মানববন্ধন শেয়ার কিনবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পরিচালক দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারী ব্যাক আপ দিবে আইটেল পি ১১ স্মার্টফোন ভারতের আগ্রাসনের জবাবে পরমাণু হামলার হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের বিশ্ব জনমত গড়তে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল ৩ কোম্পানির লেনদেন চালু রোববার কে এই রহস্যময়ী? শাভেজ 'পত্নী', নাকি ইভাঙ্কার 'বন্ধু'! যৌন সন্ত্রাসের শিকার রোহিঙ্গা নারীরা কী করবে? রাম রহিমের মতোই যৌনতায় আসক্ত ভণ্ডবাবা ফলহারি মহারাজ! আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন ইমরান এইচ সরকার মায়নমারকে চাপ দিতে ভারতের প্রতি ওবায়দুল কাদের আহ্বান বেগুনের যত স্বাস্থ্য উপকারিতা! প্রথম ঘণ্টায় লেনদেন ১৯৪ কোটি টাকা আমরা নেটওয়ার্কসের শেয়ার বিওতে গণহত্যার দায়ে বার্মিজ সেনাবাহিনীকে সব ধরনের সহযোগিতা স্থগিত করল যুক্তরাজ্য অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে চট্টগ্রাম বিএনপি রোহিঙ্গা বিতারণের নীলনকশা চূড়ান্ত হয় ১০ দিন আগেই শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা