ঢাকা, বুধবার ২২শে নভেম্বর ২০১৭ - 

আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে হঠাৎ তোড়জোড়

প্রাইমনিউজবিডি.কম
 বৃহঃস্পতিবার ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০১৭

ঢাকা: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গতকাল বুধবার জরুরি বৈঠকের আগে মিয়ানমার অনেকটা আকস্মিকভাবেই জাতিগত নিধনের অভিযোগ অস্বীকার করে আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। ওই সুপারিশ বাস্তবায়নে একটি কমিটিও ঘোষণা করেছে মিয়ানমার এবং সেটি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবারই বৈঠকে বসবে।


পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির স্টেট কাউন্সেলর নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি আগামী মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। সেই ভাষণে দেশের শান্তি ও জাতিগত পুনর্মিলনের আহ্বান থাকবে। সু চির দপ্তর বলছে, দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার কাজে ব্যস্ত সু চি এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও যাচ্ছেন না। ওই অধিবেশনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের নেতারাই রাখাইনে গণহত্যা ও জাতিগত নিধন বিষয়ে সরব হবেন বলে জানা যাচ্ছে।


হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা এবং লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে দেশ থেকে বিতাড়নের পর আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের ঘোষণা কতটা অর্থবহ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকার এক কূটনীতিক গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, চাপে পড়েই মিয়ানমার এ ঘোষণা দিয়েছে। এর পরও যদি আনান কমিশনের সুপারিশগুলো দ্রুত ও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় তাহলে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন এবং এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত হতে পারে। আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।


জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত রাখাইন রাজ্য উন্নয়নবিষয়ক পরামর্শক কমিশন তথা আনান কমিশন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান এবং মিয়ানমার ও বাংলাদেশ মিলে যৌথ যাচাইপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রশ্নে আনান কমিশনের সুপারিশে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব যাচাইপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিতকরণ এবং এরই মধ্যে নাগরিক হিসেবে যাচাই হওয়া ব্যক্তিদের সব ধরনের অধিকার ও স্বাধীনতা দিতে বলা হয়েছে।


আনান কমিশন মিয়ানমারের নাগরিকত্ব আইনটি আন্তর্জাতিক রীতিনীতি, নাগরিকত্ব ও জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সুপারিশ করেছে। যারা মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি তাদের ওই দেশটিতে অবস্থানের বিষয়টি হালনাগাদ করে ওই সমাজের অংশ করে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।


জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার অবাধ চলাচলের সুযোগ দিতে মিয়ানমার সরকারকে আনান কমিশন সুপারিশ করেছে। রাখাইন রাজ্যে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীগুলো উপকৃত হবে বলেও মনে করে আনান কমিশন।


মিয়ানমারের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সব গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সদস্যদের সম্পৃক্ত করার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের শিবিরগুলো বন্ধ করে সমাজেই তাদের সম্পৃক্ত করার নীতি নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আন্তঃসম্প্রদায় সুসম্পর্ক সৃষ্টি এবং সমাজের সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।


আনান কমিশনের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সুসম্পর্ক এবং অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই কমিশন তার ৮৮ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমারে কাঠামো সৃষ্টি এবং মন্ত্রী পর্যায়ের কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেছে।


মিয়ানমারের ইরাবতী পত্রিকার অনলাইনে গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সরকার অবিলম্বে আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি গত অক্টোবর মাস থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও জঙ্গি হামলার অভিযোগ তদন্তে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মিন্ট সুয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের সুপারিশগুলোও সরকার বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ দুটি কাজের জন্য মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের দপ্তর দেশটির সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী উইন মিয়াত আয়ের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে কো-চেয়ার হিসেবে থাকবেন রাখাইন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নি পু। কমিটিতে স্টেট কাউন্সেলর দপ্তর, সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী, প্রেসিডেন্টের দপ্তরের প্রতিনিধি ছাড়াও স্বরাষ্ট্র, তথ্য, ধর্ম, কৃষি, পরিবহন, শ্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া, নির্মাণ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন।


ওই কমিটির প্রথম অগ্রাধিকার হবে নাগরিকত্ব যাচাইপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং ধর্ম-বর্ণ-নাগরিকত্ব ও লিঙ্গ-নির্বিশেষে সবার জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সমান অধিকার নিশ্চিত করা। এ ছাড়া রাখাইন অঞ্চলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই ও মাদক নির্মূল করার লক্ষ্যেও কমিটি কাজ করবে।


ওই কমিটি আজ বৈঠকে বসে দুটি কমিশনের সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে এবং যত দ্রুত সম্ভব সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে। চার মাস পর পর কমিটি এসংক্রান্ত অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরবে।


জানা গেছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট মিন্ট সুয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর হত্যা, নিপীড়ন-নির্যাতনের কোনো অভিযোগের প্রমাণ পায়নি। সরকারি প্রতিনিধিদের ওই কমিশন সংঘাতের জন্য দোষ চাপিয়েছিল বিচ্ছিন্নতাবাদী রোহিঙ্গা জঙ্গিগোষ্ঠীর ওপর। অন্যদিকে আনান কমিশনও এ ধরনের গোষ্ঠীকে রাখাইনসহ পুরো মিয়ানমারের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে। আনান কমিশনের ৯ জন সদস্যের মধ্যে ছয়জনই ছিলেন মিয়ানমারের বিশিষ্ট নাগরিক।


কূটনৈতিক সূত্রগুলো গতকাল মিয়ানমারের আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ঘোষণাকে ইতিবাচক উল্লেখ করলেও সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। কারণ আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করাও মিয়ানমারের জন্য খুব সহজ হবে না। রাখাইন রাজ্যের পার্লামেন্ট আনান কমিশন গঠন করাকেই প্রত্যাখ্যান করে প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল। রাখাইন রাজ্য সরকার সে সময় আনান কমিশনকে আনুষ্ঠানিক কোনো সহযোগিতা দেয়নি।


প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন




Advertisement
অবশেষে পদত্যাগ করলেন জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট মুগাবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে রংপুরের জয় কেমন যাবে আপনার বুধবার দিনটি! জেলা জজ ও যুগ্ম জজসহ ২৫ বিচারকের রদবদল কেঁদে ফেললেন ঐশ্বরিয়া রাই এবার নাচলেন ও গাইলেন এমপি শামীম ওসমান যৌন হয়রানির শিকার উত্তর কোরিয়ার নারী সৈন্যরা অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং ও বড়বড় খানা খন্দের কারনে বাড়ছে দূর্ঘটনা, অকালে ঝরছে প্রান আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সহ ২০ জনকে আদালতের শোকজ জাবিতে ভর্তি হতে এসে আরো দুই শিক্ষার্থী কারাগারে জাবিতে ৫ম ম্যানেজমেন্ট উইক শুরু বুধবার আমতলী ও তালতলী উপজেলায় ৫১টি বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ন: শিক্ষক নেই ২৬০ জন মওদুদের বক্তব্য গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ : হানিফ জনগণ থেকে সরকার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল বরিশালে তারেক রহমানের জন্ম দিন পালন ফার্ম্মাসিষ্ট জটিলতায় বাড়ছে ড্রাগলাইসেন্স বিহীন ফার্ম্মেসী ইবির ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সূচী প্রকাশ অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন কুমিল্লার মেয়র সাক্কু প্রেমের ফাঁদে স্কুলছাত্রীকে আ.লীগ নেতার একাধিকবার ধর্ষণ বিয়ের রাতে পালালেন সাবিলা নূর! পায়ের ওপর পা দিয়ে বসলে কুঁজো হয়ে যেতে পারেন চিরকাল যৌবন ধরে রাখবে যেসব খাবার যে কাজগুলোই প্রতিনিয়ত ক্ষতি করছে মস্তিষ্কের প্রাথমিক সমাপনীতে নাতির সঙ্গে ৬৫ বছরের নানী অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখে তুরস্ক, কাটিয়ে ওঠার আশাবাদ এরদোগানের নিজেকে আরো সুন্দর করে তুলতে ব্যবহার করুন এই ৭ তেল পুলিশ পাহারায় খোলা জায়গায় ভারতীয় মন্ত্রীর মূত্রত্যাগ টিকল না ১০ নম্বর সম্পর্কও? সুস্মিতার বয়ফ্রেন্ডের তালিকা... নাইজেরিয়ায় মসজিদে হামলা: নিহত অন্তত ৫০ লেনদেনের শীর্ষে লংকাবাংলা ফিন্যান্স বাজারে আইলাইফের নতুন ল্যাপটপ আ.লীগ নেতার অভিযোগ: খালেদার গাড়িবহরে হামলার নেপথ্যে নিজাম হাজারী তবু চলছে সৌদি হামলা; আরো ১২ ইয়েমেনি নিহত মাদ্রাসার কক্ষ থেকে হাত বাঁধা ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার খাগড়াছড়িতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন শ্রাবন্তীর ‘বয়ফ্রেন্ড’ শাকিব খান ‘৪০টির বেশি আসন পাবে না আ’লীগ’ ‘শিগগিরই নতুন বিচারপতি নিয়োগ’ স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্বের জের ধরে মারপিট: উভয় পক্ষের আহত ৬ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ: আ‘লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা কলাপাড়ায় তারেক রহমানের জন্মদিন পালন কলাপাড়ায় প্রসুতী রোগীর মৃত্যুর পর ফের আলোচনায় আলেয়া ক্লিনিক পুঁজিবাজারে দর সংশোধন ‘নতুন করে ট্রেড ইউনিয়নের অনুমতি দেওয়া হবে না’ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে চলতি সপ্তাহেই সমঝোতা: সু চি সোনিয়ার বর্ণাঢ্য যুগ ৬ কোম্পানির লেনদেন স্থগিত বুধবার ‘ইসরাইলকে প্রতিহত করার পূর্ণ অধিকার লেবাননের রয়েছে’ ‘নির্বাচনের আগেই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান’ ‘সিনহা যাওয়ায় বিচার বিভাগের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে’