ঢাকা, মঙ্গলবার ২৪শে অক্টোবর ২০১৭ - 

সরকারের উদ্যোগে অনেক ঘাটতি আছে

প্রাইমনিউজবিডি.কম
 সোমবার ৯ই অক্টোবর ২০১৭

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলার জন্য সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে ও নিচ্ছে, তা নিয়ে নানান মত রয়েছে। এ বিষয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রথম আলো: মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞের ফলে বাংলাদেশে যে শরণার্থী সংকট দেখা দিয়েছে, এ বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য কী?


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: আমরা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছি, এটা বন্ধ করুন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিধন করার প্রক্রিয়া আজকের প্রক্রিয়া নয়, এটা দীর্ঘকাল ধরে চলছে। ১৯৭৮ সালে প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে এসেছিল। সে সময়কার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সম্পর্ক স্থাপন করে চুক্তি করেছিলেন। তখন মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল এবং সেই চুক্তিতে অঙ্গীকার করেছিল যে তারা রোহিঙ্গাদের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। ১৯৯২ সালে আবার বেশ বড় আকারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটেছিল। তখনো একটা চুক্তি হয় এবং রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া হয়, তবে কিছু রোহিঙ্গা রয়ে যায়। বছর দুই আগে রোহিঙ্গারা আবার আসে; এখন আসছে ব্যাপক আকারে, পাঁচ লাখ পেরিয়ে গেছে বলে বলা হচ্ছে।

প্রথম আলো: এই সমস্যা মোকাবিলার জন্য যা করা উচিত ছিল আমাদের সরকার কি তা করেছে?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: প্রথম অন্তত সাত দিন বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি বলে আমার মনে হয়েছে। তারপর যখন রোহিঙ্গারা স্রোতের মতো আসতে শুরু করেছে, তখন আর সরকার এটা সামলাতে পারেনি। বিভিন্ন দেশের নেতারা এতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তুরস্ক প্রভৃতি দেশের নেতারা বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং জাতিসংঘের মহাসচিব নিরাপত্তা পরিষদকে চিঠি দিয়ে বলেছেন যে দ্রুত আলোচনায় বসে এই সমস্যার সমাধান করা দরকার। তিনটা সভা হয়েছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সিদ্ধান্তমূলক কোনো কিছু হয়নি। দুঃখের বিষয়, রাশিয়া, চীন ও ভারত মিয়ানমারকে বলেছে যে আমরা তোমাদের পাশে আছি।

প্রথম আলো: আমাদের সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে বলুন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে অনেক ঘাটতি আছে। তারা এখনো পর্যন্ত কোনো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলকে বাইরে পাঠায়নি। বিদেশিরাই দুয়েকজন এখানে আসছে, তারাই কথা বলছে। কিন্তু সরকারের কোনো প্রতিনিধিদল এখনো পর্যন্ত বাইরে যায়নি। সরকার যদি সমস্যাটার গুরুত্ব ঠিকমতো উপলব্ধি করত, যদি আগে থেকেই রাশিয়া, চীন ও ভারতে আমাদের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল যেত, তাদের সমস্যাটার গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করত, অন্তত জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এই সমস্যার সমাধান করার একটা চেষ্টা করা যেত।

প্রথম আলো: মিয়ানমারে যে মাত্রার জাতিগত নিধনযজ্ঞ ঘটেছে, যেসব দেশ এ ধরনের অপরাধ করে, তাদের বিরুদ্ধে সাধারণত কঠোর আন্তর্জাতিক অবরোধ আরোপ করা হয়। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সে রকম অবরোধের দাবি শোনা যাচ্ছে না কেন?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে এমন দাবি তুলেছি। আমরা জাতিসংঘের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করার কথা বলেছি। আসলে সমস্যাটা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের যে জাতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চেষ্টা মিয়ানমার করছে, এর বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠে কথা বলার তেমন কেউ নেই।

প্রথম আলো: আর বাংলাদেশের ভেতরে, জাতীয়ভাবে, সব রাজনৈতিক দল একত্র হয়ে কি সমস্বরে আওয়াজ তোলা যেত না?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: আমরা প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা জাতীয় ঐক্য চাই। আমি এ কথা প্রথম দিনেই বলেছি, কিন্তু সরকারি পক্ষ আমার এই বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে তো নেনইনি; বরং এটা নিয়ে তাঁরা মশকরা করেছেন। সুতরাং দেখতে হবে, সরকার বিষয়টাকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তাঁরা আন্তরিকভাবেই এ সমস্যার সমাধান করতে চান, নাকি লোকদেখানো কথাবার্তা বলছেন। যদি আপনি আন্তরিকভাবে সমাধান চান, তাহলে আপনাকে সমস্যার গভীরে যেতে হবে। সবাই মিলে বিষয়টার গভীরতা উপলব্ধি করতে হবে। জাতীয় ঐক্য মানে এই নয় যে গোটা জাতিকে একজোট করে যুদ্ধ করতে হবে; আমরা যে জাতীয় ঐক্যের কথা বলছি, সেটা নৈতিক সমর্থন। অর্থাৎ গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে এই সমস্যার সমাধান চায়; সরকারের তরফ থেকে উদ্যোগ নিয়ে এটা বিশ্বকে দেখানো। তখন বিশ্ববাসী বুঝবে গোটা জাতি সরকারের পেছনে আছে।

প্রথম আলো: রোহিঙ্গা নিধন বন্ধ করা এবং তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আমরা আমাদের তিন বৃহৎ বন্ধুরাষ্ট্র রাশিয়া, চীন ও ভারতকে কীভাবে আমাদের পাশে পেতে পারি?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: আমাদের সরকারি প্রতিনিধিদলের রাশিয়া, চীন ও ভারতে যাওয়া উচিত ছিল আরও আগেই। তাঁদের বলা উচিত, আপনারা রোহিঙ্গা সমস্যাটাকে এভাবে দেখছেন কেন? আমরা যেভাবে দেখছি, সেভাবে বিবেচনা করে দেখুন। রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হচ্ছে, ফলে তারা প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছে। এটা বন্ধ করা দরকার, তাদের মিয়ানমারের ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। জাতিসংঘেও আমাদের বিশেষ দূত পাঠানো উচিত ছিল। আসল সমস্যা হচ্ছে, আপনি নিজে সমস্যাটাকে কীভাবে দেখছেন। প্রথম এক সপ্তাহে সরকারের আচরণে আমাদের মনে হয়নি সরকার সমস্যাটাকে ঠিকভাবে দেখছে।

প্রথম আলো: এখন যেভাবে দেখছে, সেই দেখা কি ঠিক আছে?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: না, ঠিক নেই। আপনি এখানে ঢাকায় বসে মিয়ানমারের মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছেন। তিনি কি আসলেই মিয়ানমার রাষ্ট্র যাঁরা চালাচ্ছেন, তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করেন? বৈঠকে কিন্তু তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, দুই দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি তো হয়ইনি। আমি বলছিলাম, এই সমস্যা সমাধানের জন্য সামগ্রিক প্রচেষ্টা দরকার। যে জাতীয় ঐক্যের কথা আমি বললাম, সরকার তো সেটা নাকচ করে দিচ্ছে।

প্রথম আলো: সুনির্দিষ্টভাবে বলুন, এখন সরকারের কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: এই মুহূর্তে সব রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজসহ সবাইকে নিয়ে একটা জাতীয় কনভেনশন করা দরকার, সেই কনভেনশনে গৃহীত প্রস্তাব বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেওয়া দরকার। সর্বাত্মক কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো উচিত। প্রয়োজনে বিরোধী দলের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এক টিম করে প্রতিনিধিদল পাঠানো যায়। জাতিসংঘে খুব শক্তিশালী একটা প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে।

প্রথম আলো: রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশ এক দীর্ঘস্থায়ী জটিল সমস্যার মধ্যে পড়ে গেল বলে মনে হচ্ছে?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: অনেক জটিল সমস্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী। আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা কাজ খুঁজবে, তখন স্থানীয় লোকদের সঙ্গে তাদের আর সদ্ভাব থাকবে না। এখন যে ভালোবাসা তারা পাচ্ছে, তখন সেই ভালোবাসা থাকবে না। এই মানুষগুলো কাজ না পেলে অন্যদিকে চলে যাবে: সন্ত্রাস, নানা রকমের অপরাধবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়বে। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা।

প্রথম আলো: ভবিষ্যতে আপনারা ক্ষমতায় এলে এই সমস্যা কীভাবে দূর করবেন?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: আমাদের প্রথম উদ্যোগ হবে মিয়ানমারের সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা, আমরা তাঁদের বলব, আপনারা অবিলম্বে এসব বন্ধ করুন। এই সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধান খুঁজে পেতে হবে। তারা যদি আমাদের কথা আমলে না নেয়, তাহলে আমরা জাতিসংঘকে বলব, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদেশগুলোকে বলব। সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সব ধরনের উদ্যোগই নেব।

প্রথম আলো: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: ধন্যবাদ।

উৎসঃ  প্রথম আলো

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Advertisement
রবিবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন খালেদা জিয়া মিয়ানমারের ওপর অবরোধ আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলে ভারত কি গুরুত্বপূর্ণ? বলিউড হিরোদের কার কত পারিশ্রমিক? আজ ১১ কোম্পানির পর্ষদ সভা ফিফার বর্ষসেরা হলেন যারা ‘ঢাকাকে কোনো সুখবর দিতে পারেননি সুষমা’ এমন কিছু মেয়েলি আদর যা পুরুষরা পেতে ভালবাসে! সম্পর্কে থেকেও অন্য কাউকে ভাল লাগছে? দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ বিপর্যয় যা বললেন: পাপন বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ার আর নেই সিনেমা ভালই উপভোগ করছেন সৌদিরা কোন দল কি চায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ? মঙ্গলবার দিনটি কেমন যাবে আপনার? অভিমানে পাশাপাশি অ্যাশ-অভি! ফের শাহরুখ-কাজলের রোমান্স উপভোগ করবেন দর্শকরা! বাংলাদেশ ব্যাংকের আগুন নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জে বাস ও নসিমনের সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত-২ বাংলাদেশ ব্যাংকে ফের আগুন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে পরোয়ানা, নয়াপল্টনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ বিএনপি উচ্ছ্বসিত, আমরাও উচ্ছ্বসিত: কাদের ‘পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিলেন ইউনূস’ ৯ মাসে ক্রসফায়ারে ১০৭ ব্যক্তি নিহত এবার সিডনিতে থেরাপিস্টকে গেইলের কুপ্রস্তাব! নির্বাচনে নারীদের সুপারিশ ও পরামর্শ গুরুত্ব পাবে: সিইসি বুধবার সারাদেশে বিএনপির প্রতিবাদ সভা ধর্ষকের হুমকিতে গা ঢাকা স্কুল ছাত্রীর : ৪দিনপর উদ্ধার আঞ্চলিক শান্তির জন্য গোপনে ইসরায়েলে সৌদি যুবরাজ! মাজারে খাদেমের লাথিতে মারা গেলেন বৃদ্ধা ভক্ত বাহুবলীকে জন্মদিনে কি উপহার দিলেন দেবসেনা? যৌন নিপীড়নের আখড়া ইইউ পার্লামেন্ট! বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে এলজি বিশ্ববাসীকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতেই হবে : জর্ডানের রানি গোপালগঞ্জ জেলা ব্রান্ডিং, কিশোর বাতায়ন বিষয়ক প্রেস ব্রিফিং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা : বিক্ষোভ করবে যুবদল শাহবাজপুরে আরও ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান ফখরুলের নাশকতার মামলা স্থগিত ধর্ষণ থেকে বাঁচতে ট্রেন থেকে লাফ ভারতের অগ্রাধিকার তালিকায় সবার আগে বাংলাদেশ: সুষমা ‘জনগণ প‌রিবর্তন চায়, খা‌লেদা জিয়াই হবেন প‌রিবর্ত‌নের নায়ক’ এনসিসি ব্যাংকের পর্ষদ সভা ২৯ অক্টোবর টানা তৃতীয়বারের মত বিজয়ী শিনজো আবে ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না ক্রেন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা দেয়াল ধসে প্রাণ গেলো ৩ বোনের জামায়াত নেতার রায় যে কোনো দিন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তারেক রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ভারতীয় অর্থায়নে ১৫ প্রকল্প উদ্বোধন সূচক পতনে লেনদেন সৈয়দ আশরাফের স্ত্রী আর নেই ২৫ দেশের ভিসা সহজ করেছে ওমান, নেই বাংলাদেশ