শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৭, ০৭:৩৭:০৯

শিশুদের জটিল রোগের কারণ হতে পারে মোবাইল ফোন

শিশুদের জটিল রোগের কারণ হতে পারে মোবাইল ফোন

আধুনিক যুগ প্রযুক্তির যুগ। এর সঙ্গে মানুষের সখ্যতা দিনদিনই বেড়েই চলেছে। এ থেকে শিশুরাও বাদ যাচ্ছে না। কিন্তু প্রযুক্তি ব্যবহারের ইতিবাচক দিক রয়েছে, তেমনি এর নেতিবাচক দিকও রয়েছে। তবে কোমলমতি শিশুরা এর নেতিবাচক প্রভাবেরই শিকার হচ্ছে বেশি। এর মধ্যে মোবাইল ফোনের ব্যবহারে শিশুদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

মোবাইল ফোন একদিকে যেমন শিশুর স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য কেড়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে খেলার মাঠ ও স্বজনদের কাছ থেকেও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। শিশুরা গৃহবন্দি ও প্রাণচাঞ্চল্যহীন হয়ে পড়ছে। ফলে, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা নানা ধরনের ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।

সম্প্রতি, সুইডেনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব তরুণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন এবং যাদের বয়স ২০ বছরের কম, অন্যদের তুলনায় তাদের প্রায় ৫ গুণ বেশি আশঙ্কা থাকে ব্রেইন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার।

অন্য আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, দুই মিনিট স্থায়ী মোবাইল ফোনকল শিশুদের মস্তিষ্কে যে হাইপার অ্যাক্টিভিটি সৃষ্টি করে, তা পরবর্তী এক ঘণ্টা পর্যন্ত মস্তিষ্কে বিরাজ করে। এর ফলে শিশুরা নানান রকম জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এর মধ্যে ব্রেইন ক্যান্সার, ব্রেইন টিউমারের ঝুঁকি অনেকগুণ বেশি।

কারণ, বড়দের চেয়ে শিশুদের রেডিয়েশন শোষণ শতকরা ৬০ ভাগ বেশি। আর যেহেতু শিশুদের চামড়া ও হাড় নরম, তাই তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেশি। এ ছাড়া অন্যান্য সমস্যার মধ্যে ক্লাস পারফরমেন্স কমে যাওয়া, খিঁচুনি, নিদ্রাহীনতা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।

মোবাইল ফোন রেডিয়েশন ছড়ায়। রেডিয়েশন প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাস্থ্যের জন্য যেমেন ক্ষতিকর, শিশুদের জন্য তা আরো মারাত্মক ক্ষতিকর। রেডিয়েশন শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশকে ব্যাহত করে। সারা পৃথিবীতেই এখন শিশুরা প্রায় বেশিরভাগ সময়েই মোবাইল ফোন নিয়ে খেলা করের। দিনের পর দিন এ হার দ্রুত বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে শিগগিরই হয়ত সারাবিশ্বের শিশুরা একটি মহামারী রোগের শিকার হতে পারে। বিশেষ করে প্রাণঘাতী মস্তিষ্কের ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে।

গবেষণা থেকে আরো বেরিয়ে এসেছে, মোবাইল ফোন ব্যবহারে শিশুদের শ্রবণ ক্ষমতাও হ্রাস পায়।

বিশেষজ্ঞরা আরো মনে করেন, রেডিয়েশন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শিশুদের প্রায় ৩০ ভাগ ক্যান্সারই হয়ে থাকে এই রেডিয়েশনের কারণে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গবেষণায় এর প্রমাণও পাওয়া গেছে।

গবেষণা থেকে আরো বেরিয়ে এসেছে, শিশুরা যারা ম্যাগনেটিক (চুম্বক) ফিল্ডসের কাছাকাছি অবস্থান করে, তাদের ক্রমশ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে থাকে এবং যারা পাওয়ার লাইনের (যা কিনা ইএমএফ উৎপন্ন করে) কাছাকাছি অবস্থান করে, তারা লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়। এমন কী যারা মোবাইল অথবা রেডিও টাওয়ারের এক হাজার দুইশ ফুটের মধ্যে বসবাস করে, তাদের মস্তিষ্কে টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় বেশি থাকে। আমাদের দেশে বেশিরভাগ টাওয়ারগুলো গড়ে উঠছে স্কুলের ছাদ, বসত বাড়ির ছাদ এবং শপিংমলের ছাদের ওপরে। এসব স্থানে স্থাপিত টাওয়ারগুলো নিরাপদ দূরত্বে খুব কমই দেখা যায়।

এখন শিশুরা মোবাইল ফোনে গেম খেলা থেকে শুরু করে ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অযাচিত সাইটগুলো দেখে সময় নষ্ট করছে। মনে রাখা জরুরি, শিশু শিশুই। তারা কখনোই বড়দের মতো শারীরিক সক্ষমতার অধিকারী নয়। তাই একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে পরিবারে শিশুবান্ধব কিছু নিয়মনীতি তৈরি করা জরুরি।

শুধুমাত্র মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণেই নয়, কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক গেম, বৈদ্যুতিক পাওয়ার লাইন এবং ওয়াইফাই ব্যবহারও শিশুদেরকে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। কানাডার টরেন্টো স্কুল ফর চিলড্রেন উইথ লার্নিং ডিস-অ্যাবেলিটিস স্কুলে ইএমএফ হ্রাস করার জন্য ইএমএফ ফিল্টার স্থাপন করে এক গবেষণা করে দেখা গেছে যে, সেখানকার শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি উদ্যমী এবং সতেজ। এই হার শতকরা ৫৫ ভাগেরও বেশি। এটি চমকে দেওয়ার মতোই সত্য বটে!

প্রযুক্তিকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। তবে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকির পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে আনা যেতে পারে। যেমন, মোবাইল বা কর্ডলেস ফোনের স্পিকার অন করে কথা বলা। মোবাইলে ফোনে কথা বলার পরিবর্তে টেক্সট বা এসএমএস-এর মাধ্যমে যোগাযোগ বেশি করা। রাতে ঘুমাবার সময় মোবাইলের মনিটর ঘুমন্ত শিশুর কাছ থেকে অন্তত ৬ ফুট দূরত্বে রাখা।

শুধু জন্ম নেওয়া শিশুর জন্যই নয়, মাতৃগর্ভের শিশুটির জন্যও গর্ভবতী মায়েদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, মাত্রাতিরিক্ত বৈদ্যুতিক দূষণের ফলে গর্ভে থাকা শিশুটিও বিকলাঙ্গ হতে পারে। এমন কী তার শ্রবণশক্তিও ব্যাহত হতে পারে এবং শিশুর নার্ভ সিস্টেম বর্ধনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। পরিণামে মিসক্যারেজ ও সন্তান প্রসবে সমস্যা দেখা দেওয়ার মতো ভয়াবহ সব পরিস্থিতির তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি ডাক্তার কে আর জামান বলেন, ক্ষতিকর রেডিয়েশন থেকে অভিভাবক ও শিশুদের রক্ষার জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করা ছাড়াও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন আনা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে শুকনো বরইয়ে শুকনো ইউনিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা বৈদ্যুতিক দূষণের ফলে নির্গত স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রেডিয়েশনের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

রেডিয়েশন প্রতিরোধ করণীয়
এ ছাড়াও প্রতিদিন ৪-৫টি বাদাম খাওয়া যেতে পারে। খাবারে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ আলুবোখারা যোগ করা যেতে পারে। বাঁধাকপি এবং ফুলকপিও রেডিয়েশন রোধ করতে সহায়তা করে। এবাদে নিয়মিত ২ চামচ মধু এবং সপ্তাহে ৩-৪ দিন ঘোল বা মাঠা খেলে রেডিয়েশনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

তবে মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে শিশুদের ব্যবহারে বেশি সতর্ক থাকা জরুরি।-বাসস-ইউনিসেফ ফিচার

AddThis Sharing Buttons
Share to Facebook35Share to TwitterShare to Google+Share to LinkedInShare to PinterestShare to More

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?