বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ০৩ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৫:০৯:০৩

আড়াই বছরের খরা ঘুচাবেন মোস্তাফা জব্বার

আড়াই বছরের খরা ঘুচাবেন মোস্তাফা জব্বার

ঢাকা: প্রায় আড়াই বছর পর মন্ত্রিসভার রদবদলে টেকনোক্র্যাট কোটায় সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হলেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার। বিতর্কিত হয়ে লতিফ সিদ্দিকীর বিদায়ের পর সেই শূন্য পদেই মন্ত্রীত্ব পেলেন তিনি।

দুটি বিভাগে বিভক্ত হওয়ার পর এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ।

এদিকে শপথ গ্রহণের পর রাতে ধানমণ্ডিস্থ বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির কার্যালয়ে যান ৬৮ বছর বয়সী মোস্তাফা জব্বার। নিজের গড়া এই সংস্থাতেই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিত্বের শপথ নেবার প্রথমবারের মতো সংবর্ধিত হন তিনি।

সেখানে সমিতির বর্তমান সভাপতি আলী আশফাক, সহ সাধারণ সম্পাদক শাহিদ-উল-মুনীর, মহাসচিব সুব্রত সরকার, সহ-সভাপতি ইউসুফ আলী শামীম, যুগ্ম মহাসচিব নাজমুল আলম ভূঁইয়া জুয়েল এবং পরিচালক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান ও এ টি শফিক উদ্দিন আহমেদ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যামসুন্দর সিকদার। এ সময় মন্ত্রী বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদের খোঁজ করেন।

মন্ত্রণালয়টিতে এখন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন যথাক্রমে তারানা হালিম এবং জুনাইদ আহমেদ পলক। সংসদ সদস্য না হওয়ায় মোস্তাফা জব্বারকে মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট হিসেবে নেয়া হয়। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এই মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সূত্রমতে, সদ্য বিদায়ী বছরের ৬ ডিসেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই প্রযুক্তি উৎসবের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে সফটওয়্যার রফতানিতে সাফল্যের কথা তুলে মোস্তাফা জব্বারকে আরও দায়িত্ব দেয়ার কথা বলেছিলেন।

এর আগে ২০১৫ সালের আগস্টে দোয়েল ল্যাপটপ প্রকল্পসহ দেশীয় ডিজিটাল ডিভাইস তৈরির উদ্যোগের ব্যর্থতা কাটাতে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বারকে টেলিফোন শিল্প সংস্থার (টেসিস) দায়িত্ব দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত নানা কারণে তা হয়নি। মোস্তাফা জব্বার এখন বেসিসের সভাপতি। বিসিএসের চারবারের এই সভাপতি বেসিসের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ও পরিচালক ছিলেন।

সাংবাদিকতার মাধ্যমে কম্পিউটারে বাংলা লেখার সফটওয়্যারের উদ্ভাবক মোস্তাফা জব্বার তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন আটাব (অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ)-এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।তিনি ১৯৮৭ সালের ২৮শে এপ্রিল কম্পিউটার ব্যবসায়ে প্রবেশ করেন। সেই বছরের ১৬ মে কম্পিউটারে কম্পোজ করা বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা আনন্দপত্র প্রকাশ করেন। ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশ করেন বিজয় বাংলা কীবোর্ড ও সফটওয়্যার। সেটি প্রথমে মেকিন্টোস কম্পিউটার ও পরে ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের জন্যও বিজয় বাংলা কিবোর্ড ও সফটওয়্যার প্রকাশ করেন।

একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল বাংলা নিউজ সার্ভিস আনন্দপত্র বাংলা সংবাদ বা আবাস এর চেয়ারম্যান ও সম্পাদক। ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক অনেক কমিটির সদস্য। কপিরাইট বোর্ড এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের কাউন্সিল সদস্যও এই তথ্যপ্রযুক্তিবিদ।

বাংলাদেশ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য ‘অ্যাসোসিও-র ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ অবদান সম্মাননা’ পেয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বিতর্কিত মন্তব্য করে ২০১৫ সালে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্ব হারান লতিফ সিদ্দিকী। এবার সেই শূন্য আসনটি পূরণ করতে যাচ্ছেন বাগ্মী পুরুষ মোস্তাফা জব্বার।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?